kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

‘আমাদের চ্যানেলেও ভারতীয় বিজ্ঞাপন দিতে হবে’

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেরই শক্তিমান অভিনেতা। পর পর দুই সপ্তাহে মুক্তি পাবে তাঁর দুটি ছবি—‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ ও ‘লালচর’। শহীদুজ্জামান সেলিমের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন আহমেদ জামান শিমুল। ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘আমাদের চ্যানেলেও ভারতীয় বিজ্ঞাপন দিতে হবে’

‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ ও ‘লালচর’-এর কথা বলুন।

দুটোতেই আমি ভিলেন কিন্তু প্রধান চরিত্র। ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’-এর গল্প মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে। গল্পে আমার মামা কুখ্যাত রাজাকার। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোল পাল্টে এমপি নির্বাচন করতে চায়। তাকে নিয়ে গল্প এগোয়, কিন্তু তার সরাসরি পর্দা উপস্থিতি নেই। আমার কথায় ফুটে ওঠে সব। আর ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস ‘নদী উপাখ্যান’ অবলম্বনে সরকারি অনুদানের ছবি ‘লালচর’। এখানে আমি ভূমিদস্যু। কাকতালীয় বিষয় হলো, দুটো চরিত্রই মৌলবাদী।

 

শুটিং কবে এবং কোথায় করেছিলেন?

‘লালচর’ এ বছরই করেছি। বেশির ভাগ শুটিংই পদ্মার চরে, কিছু অংশ আড়াইহাজার থানায়। ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ করেছিলাম গত বছর। পুরো ছবির শুটিং হয়েছে সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে।

 

দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বেশির ভাগ ছবিতেই নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করছেন। নেগেটিভের প্রতি আলাদা দুর্বলতা নাকি অন্য কোনো কারণ?

দুর্বলতা নয়। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণও নেই। পরিচালকরা আমাকে এ ধরনের চরিত্রে পছন্দ করেন, সেটা হতে পারে। কিন্তু ‘ইউটার্ন’-এ নেগেটিভ ইফেক্ট থাকলেও চরিত্রটি কিন্তু নেগেটিভ না, এটি প্রধান চরিত্র। চরিত্রটি পুরো ছবি টেনে নিয়ে গেছে। ‘পদ্ম পাতার জল’-এ  নেগেটিভ হলেও খোলসটা কিন্তু অন্য রকম।

 

‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। পরের ছবিগুলোর কোনটিতে পুরস্কার পাবেন বলে আশা করছেন?

যেকোনোটিই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে পারে। খুব দুরাশা নয়, আশা করা যায়। তবে এটা নির্ধারণ করবে দর্শক, আমি চরিত্রগুলো কেমন ফোটাতে পেরেছি। পুরস্কারের যে মজা সেটা তো একবার পেয়েছি। যদি আরো পাই, তাহলে আরো ভালো লাগবে।

 

মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর নির্মিত বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। এখনকার ছবিতে কি মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে ফুটে ওঠে?

আমার অভিনীত চরিত্রগুলো আশপাশ থেকেই নেওয়া। বাস্তব এবং দেখা চরিত্র। খুব দেখা চরিত্র যেহেতু, ফুটিয়ে তুলতে বেশ সহায়ক হয়েছিল। অনেক কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়েছে এমন নয়।

 

‘ঢাকা থিয়েটার’-এর অনেক নাটকে অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়েছেন। মঞ্চে কি আবারও পাব? অভিনয় বা নির্দেশনায়?

আপাতত নয়।

 

‘স্পর্শের বাইরে’, ‘রঙছুট’সহ বেশ কিছু ধারাবাহিক পরিচালনা করেছেন। নতুন কী করছেন টিভিতে?

ধারাবাহিক ‘এক ঝাঁক মৃত জোনাকি’র ১২-১৩ পর্ব করেছি। দু-এক মাস পর এটিএন বাংলায় প্রচার হবে। আমি ছাড়াও অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, শম্পা রেজা, ঊর্মিলা ও শ্যামল মওলা।

 

এ পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া ৯টি ছবির মধ্যে পাঁচটিই মুক্তি পেয়েছে এ বছর। তাহলে কি এখন থেকে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হচ্ছেন?

প্রথম ছবি ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ও ‘চোরাবালি’র পর একটা গ্যাপ হয়ে গিয়েছিল। এ রকম গ্যাপ থাকবেই। কারণ আমি যে চরিত্র চাই, যেভাবে চাই, সেভাবে তো নির্মাতারা সব সময় চান না। তাঁরা আমাকেই পছন্দ করবেন, এমন কোনো কথাও নেই। আমি যেভাবে চাই সেভাবে হলে করতে পারি। ‘ইউটার্ন’-এ ইচ্ছে করেই ওই চরিত্রটি বেছে নিয়েছিলাম। আমাকে ভিলেন মানে মিশা সওদাগরের চরিত্রটি অফার করা হয়েছিল। করিনি, কারণ এ টাইপের চরিত্র আগেও করেছি। চলচ্চিত্রে নিয়মিত হওয়া বা অনিয়মিত হওয়া, এটা আমার হাতে কিংবা পরিচালকদের হাতেও পুরোপুরি নেই।

 

অনেকেই বলেন ‘দেবদাস’ ও ‘এইতো প্রেম’-এ আপনার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। ‘দেবদাস’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশও করেছিলেন। অভিনয়ের আগে চরিত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতেন না?

‘এইতো প্রেম’-এ আমার অংশের শুটিংই শেষ হয়নি। তার আগেই কেমন করে যেন ছবিটা মুক্তি দিয়ে দিল। ‘দেবদাস’-এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘চুনিলাল’। ছবি মুক্তির পর দেখা গেল আমার চার-পাঁচটি দৃশ্য বাদ! কেন, কী কারণে, কিছুই জানি না। যখন স্ক্রিপ্ট পড়েছিলাম তখন মনেই হয়েছিল এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

 

ভারতীয় চ্যানেলে বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধে সম্প্রতি আন্দোলন করেছেন নাটকের শিল্পী ও টেলিভিশন চ্যানেল মালিকরা। এ বিষয়ে আপনার মতামত?

মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে যেকোনো দেশের সংস্কৃতি আরেকটি দেশে আসতেই পারে। ইংরেজি চ্যানেল আসতে পারলে ভারতীয় চ্যানেলও আসতে পারে। সেই যুক্তিতে আমাদের চ্যানেলও ভারতে ঢুকতে দিতে হবে। আর বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের পণ্যের প্রচারে যে চ্যানেলটি ভালো সেখানেই বিজ্ঞাপন দেবে। অন্য কথাও আছে, আমাদের দেশ যেভাবে ভারতীয় পণ্যে সয়লাব, সেভাবে আমাদের চ্যানেলেও ভারতীয় বিজ্ঞাপন দিতে হবে।

 

মঞ্চ, টেলিভিশনে নির্দেশনা দিয়েছেন। চলচ্চিত্র পরিচালনার ইচ্ছে আছে?

আমার ছবিতে কে টাকা দেবে, কেন দেবে? আমার ওপর লগ্নিকৃত টাকা ফেরত আসবে এর গ্যারান্টি কে দেবে? আমার এত টাকাও নেই যে নিজে প্রযোজনা করে নিজেই পরিচালনা করব। তবে ইচ্ছে আছে চলচ্চিত্র পরিচালনার।

 

আপনি ও আপনার স্ত্রী রোজি সিদ্দিকী—দুজনই অভিনয়ের মানুষ। আপনাদের দুই মেয়ের কি অভিনয়ে আসার ইচ্ছে আছে?

অভিনয়ে তাদের আগ্রহ নেই।

 

এখন কোন ছবির কাজ করছেন?

হিমেল আশরাফের ‘সুলতানা বিবিয়ানা’ ও তৌকীর আহমেদের ‘অজ্ঞাতনামা’।