kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গুরু-শিষ্য

অমিতাভ ভাইয়ের জন্যই আজ আমি নিরব

অমিতাভ রেজাকে গুরু মানেন নিরব। তাঁর হাত ধরেই মডেলি   

১৯ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অমিতাভ ভাইয়ের জন্যই আজ আমি নিরব

২০০৪ সাল। টুকটাক ফটোশুট করেছেন নিরব। একটা সুযোগ খুঁজছেন। অমিতাভ রেজা তখন থেকেই ডাকসাইটে বিজ্ঞাপন নির্মাতা। এক বন্ধুর কাছ থেকে অমিভাত রেজার বোনের নম্বরটা নিলেন। ফোন দিলেন, 'আপু, আমি বিজ্ঞাপনে কাজ করতে চাই।' ভদ্রমহিলা বললেন, 'তোমার তোলা ছবি আছে?' -জি।

'তাহলে কাল ১১টায় র‌্যাংগ্স ভবনে চলে আসো।' পরদিন সাতসকালে ঘুম থেকে উঠলেন নিরব। মনে চাপা উত্তেজনা। অমিতাভ রেজার সঙ্গে দেখা করবেন! ১১টা বাজার আগেই র‌্যাংগ্স ভবনে হাজির। ১২-১টা করতে করতে আড়াইটা বেজে গেল তাঁদের আসার কোনো খবর নেই। কয়েকবার ফোন দিয়েছিলেন। শেষবার ফোনটা বের করে আবার পকেটে ঢুকিয়ে রাখলেন। ভাবলেন, 'তিনি যদি বিরক্ত হয়ে আমাকে কাজ না দেন!' ৩টার পর অমিতাভ ও তাঁর বোন মৌ এলেন। অমিতাভ গাড়ির সিটে বসে ঘুমাচ্ছেন। মৌকে ছবিগুলো দিলেন। কিন্তু অমিতাভের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হলো না। পরদিন অফিস থেকে একজন ফোন দিলেন, 'আপনি তো কিছু ছবি দিয়ে গিয়েছিলেন। আমাদের এলিফ্যান্ট রোডের অফিসে একবার আসেন।' নিরব গেলেন। অমিতাভ রেজা তাঁকে ডেকে নিয়ে বললেন, 'আচ্ছা ধরো, তুমি ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করো। হোস্টেলে থাক। তোমার এক বন্ধু ঘুমিয়ে আছে। তাকে কিভাবে জাগিয়ে তুলবে?' সংলাপসহ করে দেখালেন নিরব, 'এই গাছের গুঁড়ি উঠ, উঠ।' ডায়ালগটা অমিতাভের মনে ধরল। বললেন, 'তোমার আর কোনো বন্ধু নেই? তাকে সঙ্গে নিয়ে আসবে।' পরদিন বন্ধু অপূর্বকে নিয়ে হাজির হলেন। জীবনে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞাপনে নাম লেখালেন। সেটিই ছিল বাংলায় নেসক্যাফের প্রথম বিজ্ঞাপন। তার আগে হিন্দি বিজ্ঞাপনগুলো বাংলায় ডাবিং করে প্রচারিত হতো। শুরুর বিজ্ঞাপনটাই হিট! অমিতাভ রেজার সঙ্গে সেই থেকে শুরু। এরপর ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন। গ্রি এসি, পেপসোডেন্ট, একটেল, বাংলালিংক দেশ-এর মতো ক্যারিয়ারের সেরা বিজ্ঞাপনগুলোই করেছেন তাঁর সঙ্গে। এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতেন নিরব। ২০০৬ সালে সেমিস্টার ড্রপ দিয়ে অমিতাভ রেজাকে গিয়ে বললেন, 'আপাতত পড়ার চাপ নেই। আপনার সঙ্গে শুটিং দেখতে যাব।' শুটিং দেখার প্রতি নিরবের আলাদা আগ্রহ ছিল। নিরবের ব্যাপারে অমিতাভ রেজার মূল্যায়ন, 'ভদ্র ছেলে। যখন যা বলেছি, তাই করেছে। কিসের বিজ্ঞাপন, ক্যারেক্টার কী-এসব জিজ্ঞেস করত না কখনোই। অন্যদের মতো বেয়াদব নয়।' আর নিরব জানালেন, 'অমিতাভ রেজার বিজ্ঞাপনে কাজের সুযোগ পেয়েছি বলে আমি গর্বিত। আমি জানি, আমাকে কোন ক্যারেক্টারটা মানাবে সেটাই দিতেন। তাই এসব নিয়ে চিন্তা করতাম না।' গুরু-শিষ্যের কেমিস্ট্রিটাও দুর্দান্ত। শুটিংয়ে বেশ মজা হয়। যেমন হয়েছিল বাংলালিংক দেশের বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে। "আমি নাচতে পারছিলাম না। বিটের তাল হারিয়ে ফেলছি। অমিতাভ ভাই হেবি্ব ঝাঁড়ি দিলেন। অনেক চেষ্টা করেও যখন পারছিলাম না তখন তিনি মজার একটা কাণ্ড করলেন। একজনকে বললেন, 'নিরবের কোমরে হাত দিয়ে বিটের তালে তালে নাচা।' ক্যামেরা শুধু কোমরে ধরে আমাকে সেভাবেই নাচিয়ে শুটিং শেষ হলো।" বললেন নিরব। প্রায়ই শুটিংয়ের সময় অমিতাভ রেজা নিরবকে বলতেন, 'কোনো আর্টিস্ট প্রথম দু-তিনবারে শট না দিতে পারলে সারা জীবনেও আর সম্ভব নয়। আস্তে আস্তে এক্সপ্রেশনটা অবনতির দিকে যেতে থাকবে।' গুরুর এই কথাটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। অভিনয়জীবনের পথচলায় সব সময়ই তাঁকে পাশে পেয়েছেন। হাতে ধরে ধরে শিখিয়েছেন। "আজ আমি 'নিরব' হয়েছি অমিভাত ভাইয়ের কারণে। নইলে আমি কিছুই করতে পারতাম না।" নিরব তো এখন একটা জায়গা করে নিয়েছেন। তার পরও আরো সামনে এগোতে তাঁর কী করা দরকার? গুরু জানালেন, 'অভিনয়টা আরেকটু শিখতে হবে। প্রয়োজনে অভিনয়ের ওপর তিন মাস-ছয় মাসের কোর্সও করতে পারে।'

 

 

মন্তব্য