kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

বিশ্ব পর্যটনে নতুন সংকট ‘ওমিক্রন’

বাণিজ্য ডেস্ক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্ব পর্যটনে নতুন সংকট ‘ওমিক্রন’

করোনার উদ্বেগ থাকলেও শুধু সেপ্টেম্বরেই ৩৫ লাখ মানুষ তুরস্ক ভ্রমণ করেছে

করোনা মহামারিতে ২০২১ সালে বিশ্ব পর্যটন শিল্পে ক্ষতি দাঁড়াবে ২.০ ট্রিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (ইউএনডাব্লিউটিও) পূর্বাভাসে জানায়, এ খাতের পুনরুদ্ধার ভঙ্গুর এবং ধীর। ইউরোপে কভিড-১৯ সংক্রমণ আবার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ বিশ্বজুড়ে আবার ছড়িয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

এতে অর্থনীতি খুলে দিতে শুরু করা ইউরোপের দেশগুলো পর্যটক ভ্রমণে আবারও কড়াকড়ি আরোপ শুরু করেছে।

গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়। এটি অধিকসংখ্যকবার জিনগত রূপ বদল এবং মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা। সে কারণেই এ নিয়ে এখন দেশে দেশে আতঙ্ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে।

ইউএনডাব্লিউটিও জানায়, ২০১৯ সালে বিশ্বে পর্যটক গমন করে ১৫০ কোটি, কিন্তু এ বছর যে সংখ্যক পর্যটক আসবে তা ২০১৯ সালের চেয়ে ৭০-৭৫ শতাংশ কম হবে। ২০২০ সালেও পর্যটক গমন একই পরিমাণ কমেছে। ওই বছর পর্যটন খাতকে হারাতে হয়েছে ২.০ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে করোনাসংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর অন্যতম এখন পর্যটনশিল্প। ২০২১ সালের জানুয়ারি-মে—পাঁচ মাসে বিশ্বে পর্যটক আগমন ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় কমে ৮৫ শতাংশ। এশিয়ায় কমে ৯৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কমে ৯০ শতাংশ।

সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন দেশ সীমান্ত খুলে দিতে শুরু করায় সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটনে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও টিকা বিতরণ ব্যবস্থা অসম হওয়ায় এবং ডেল্টার পর করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন দেখা দেয়ায় এমনিতেই ধীর ও ভঙ্গুর পর্যটন খাত আরো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইউএনডাব্লিউটিওর প্রধান জুরাব পলোলিকাশভিলি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন পাওয়া যাওয়ায় দেশগুলো আবারও সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ শুরু করেছে, অনেক দেশ লকডাউনেও যাচ্ছে। যা প্রমাণ করছে পরিস্থিতি খুবই অনিশ্চিত। ’ তবে তিনি বলেন, ‘পর্যটন খাতের জন্য এটি ঐতিহাসিক সংকট, কিন্তু এ খাতের সক্ষমতা রয়েছে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর। আমি আশা করছি, ২০২১ সালের চেয়ে ২০২২ সাল অনেক ভালো হবে। ’

ইউএনডাব্লিউটিও জানায়, বর্তমানে ৪৬ দেশ বা পর্যটন গন্তব্যগুলোর ২১ শতাংশ তাদের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে। আরো ৫৫ দেশ বিদেশিদের জন্য সীমান্ত আংশিকভাবে বন্ধ রেখেছে। শুধু চার দেশ ভাইরাসসংক্রান্ত সব বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডমিনিকান রিপাবলিক এবং মেক্সিকো। করোনার আগে পর্যটনশিল্প ছিল বিশ্ব জিডিপি বা কর্মসংস্থানের প্রায় ১০ শতাংশ।

বার্তা সংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমিক্রনের প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্বের অনেক দেশ খুব দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে। বেশ কিছু দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও এর পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের সঙ্গে এরই মধ্যে বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ইসরাইলসহ অনেক দেশ নতুন করে  কোয়ারেন্টিন এবং দেশের ভেতরে চলাচল, দোকানপাট খোলা রাখা, জনসমাগমের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ ২০ মাসেরও বেশি সময় পর গত ২৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট ফের শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল ভারত। আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে এসব ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ‘ওমিক্রন’ উদ্বেগে বেশ কিছু দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ভ্রমণে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারত সরকার। এমনকি পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য যে ছাড় দেওয়া হচ্ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে।

সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।