kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৩০ লাখ গ্রাহক পেল উপায়

সজীব হোম রায়   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৩০ লাখ গ্রাহক পেল উপায়

করোনার ঢেউয়ে যখন জনজীবন থমকে ছিল সে সময় জন্ম নেয় ‘উপায়’। বয়স মাত্র আট মাস। এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটি। উপায়ের জন্ম, গ্রাহকসেবা, নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল হক খন্দকার।

উপায়ের যাত্রা শুরু সম্পর্কে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল হক খন্দকার বলেন, উপায়কে বলা যায় করোনা শিশু। করোনার মধ্যে আমাদের জন্ম। চলতি বছরের মার্চের ১৭ তারিখে আমাদের জন্ম। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর সময়। তবে এটা খুব কঠিন ছিল। করোনার কারণে আমরা কোনো লঞ্চ ইভেন্ট পর্যন্ত করতে পারিনি। সে রকম কোনো মার্কেটিংও করতে পারিনি। এর পরও মাত্র আট মাসে আমাদের ৩০ লাখ গ্রাহক তৈরি হয়েছে। ৯০ হাজার এজেন্ট হয়েছে। এই অস্থির সময়ে এটা একটা বিশাল ব্যাপার।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন এমএফএস ইন্ডাস্ট্রি শতকোটি টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে প্ল্যাটফর্ম কিনে আনে; কিন্তু আমরা দেশের প্রায় ৯০ জন আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে গোটা করোনা পিরিয়ডে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি। এখানে একজনও বিদেশি ছিল না। আমাদের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা তা উতরে গেছি। এখন আমরা বলতে পারি, বিদেশের মতো আমরাও আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারি। উপায়ের সব কিছু দেশের ছেলে-মেয়েরা তৈরি করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফএস) বিশাল একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ব্যাংক চাইলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব জায়গায় শাখা খুলে সেবা দিতে পারবে না। এই জায়গায় এমএফএস একটি জোয়ার নিয়ে এসেছে। গোটা দেশের প্রান্তে এটি ছড়িয়ে আছে। যেকোনো কাস্টমার চাইলে পাশের দোকানে গিয়ে সেবা নিতে পারছে; কিন্তু ব্যাংকের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয়। আমরা চাচ্ছি সবাই যেন ঘরের পাশেই সেবা পায়।’

বাংলাদেশে এমএফএসের বাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশে প্রায় ১০ কোটি এমএফএস ব্যবহারকারী আছে; কিন্তু এর মধ্যে সক্রিয় ব্যবহারকারী মাত্র ৩০ শতাংশ। এই ৩০ শতাংশ আমরা তাদের বলছি যারা ৯০ দিনে মাত্র একবার এই সেবা ব্যবহার করে। তাই সক্রিয় ব্যবহারকারী বাড়ানো আমাদের জন্য একটি সম্ভাবনার জায়গা। মানুষ এখনো তাদের লেনদেনের ৯০ শতাংশ নগদ অর্থে লেনদেন করে। এই ৯০ শতাংশই আমাদের জন্য সম্ভাবনা।’

সাইদুল হক খন্দকার বলেন, ‘করোনা এমএফএসের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করেছে। মানুষ ঘরে থেকে কেনাকাটাসহ প্রয়োজনে এমএফএসের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেছে। এতে অনেকের অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে। ফলে এখন তারা বিল পরিশোধ, বেতন পরিশোধসহ কেনাকাটা ক্যাশলেস বা ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে করছে। কারণ এটা অনেক সহজ এবং নিরাপদ।’

উপায় গ্রাহকের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রাহকের নিরাপত্তাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই। প্রতারকরা গ্রাহককে কল দিয়ে পিন নম্বর নিয়ে প্রতারণা করে। আমরা এ জন্য পুরো প্ল্যাটফর্মে ব্লক চেইন ব্যবহার করেছি। এটি বিশ্বে সবচেয়ে নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম। আমরা ডিভাইস আইডেন্টিফিকেশন বা গ্রাহকের মোবাইল চিহ্নিত করে টাকা তোলার ব্যবস্থা করেছি। এতে কেউ পিন নম্বর নিলেও গ্রাহকের মোবাইল ছাড়া টাকা তুলতে পারবে না।’

উপায়ের ক্যাশ আউট চার্জ সবচেয়ে কম মন্তব্য করে সাইদুল হক খন্দকার বলেন, ‘ক্যাশ আউট চার্জ মানুষের একটা বড় সমস্যা ছিল। এক হাজার টাকা ক্যাশ আউট করতে ১৮ বা ২০ টাকা লাগে। মানুষ স্মার্টফোন থেকেও বাটন ফোন বেশি ব্যবহার করে। বাটন ফোনে প্রতিটি অপারেটরের চার্জ অনেক বেশি। আমাদের ক্যাশ আউট চার্জ সব খরচসহ এক হাজার টাকায় মাত্র ১৪ টাকা। এটি বাটন ফোন ব্যবহারকারীর জন্যও একই রকম। এত কম চার্জ কেউ দিতে পারে না। ক্যাশ আউট চার্জ কমানোর জন্য আমরা মাল্টি ওয়ালেট কনসেপ্ট নিয়ে এসেছি। এক মোবাইল অ্যাকাউন্টে আমরা চার ওয়ালেট নিয়ে এসেছি। এই চার ওয়ালেটে সর্বনিম্ন ফ্রি ক্যাশ আউট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৪ টাকা ক্যাশ আউট চার্জ কাটা হয়। চার ওয়ালেটের মধ্যে প্রথমটা হলো, প্রাইমারি ওয়ালেট। এটা সবার জন্য। দ্বিতীয়টা হলো, বেতন ওয়ালেট। কম্পানি বেতন দিলে ওই ওয়ালেটে টাকা ঢুকবে। ওখান থেকে ক্যাশ আউট করতে ৭, ৮ বা ১০ টাকা লাগবে। আর আমাদের এটিএম বুথ মানে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তুললে কোনো চার্জ লাগবে না। এরপর আছে রেমিট্যান্স ওয়ালেট। রেমিট্যান্সের টাকা এই ওয়ালেটে এলে ক্যাশ আউট চার্জ ১০ টাকার কম। এ ছাড়া আছে ডিসবার্সমেন্ট ওয়ালেট। সরকার যে ভাতা দেয় উপকারভোগীদের তার জন্য এই ওয়ালেট। এ ছাড়া আমাদের অ্যাপের একটি বিশেষত্ব আছে। এই অ্যাপ ব্যবহার করলে গ্রাহকের কোনো এমবি বা মেগাবাইট খরচ হবে না। এটি প্রান্তিক মানুষের কথা চিন্তা করে করেছি। ফ্রি ডাটা দিয়ে অন্য কোনো কম্পানির ওয়ালেট ব্যবহার করা যায় না।’

এমএফএস ব্যবহার বাড়লে সেটা সরকারের জন্যও ভালো। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় ইনফরমাল সেক্টরে বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। ফলে সরকারের কাছে এসব লেনদেনের কোনো তথ্য নেই; কিন্তু এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেন করলে সরকার সব ধরনের তথ্য পাবে। এতে অর্থনীতির সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে। রেমিট্যান্সের মতো কোনো প্রণোদনা পাওয়া গেলে মানুষ এমএফএস ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হবে।