kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করি আমরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করি আমরা

এ এস এম মুনতাসির চৌধুরী, হেড অব প্রডাক্ট অ্যান্ড মার্কেটিং, বাটারফ্লাই গ্রুপ

বাংলাদেশের অন্যতম উদীয়মান শিল্প টেলিভিশন। এর বাজার দিন দিন আরো বড় হচ্ছে। বাটারফ্লাই ২০১১ সাল থেকে নিজস্ব কারখানায় সিআরটি টিভি উৎপাদন শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সাল থেকে এলইডি টিভি উৎপাদনে আসে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটি জানান বাটারফ্লাই গ্রুপের হেড অব প্রডাক্ট অ্যান্ড মার্কেটিং এ এস এম মুনতাসির চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘এলজি ব্র্যান্ডের টিভিতে আমরাই বাজারে একমাত্র আইপিএস প্যানেল ব্যবহার করি, যার কারণে এই ব্র্যান্ডের টিভির প্যানেলগুলো অনেক টেকসই ও শক্তিশালী হয়ে থাকে। এছাড়াও এলজি টিভিতে রয়েছে ইউনিক ফিচারসমৃদ্ধ ‘ম্যাজিক রিমোর্ট’ যা অন্য কোনো ব্র্যান্ডের টিভিতে নেই।

আমাদের আরেকটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড ‘হাইসন্স’-এর বিশেষ ফিচার হিসেবে আছে সার্টিফায়েড অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এবং মডার্ন ডিজাইনের ব্যাজেললেস মনিটর। সামগ্রিক অর্থে আমরা আমাদের কারখানায় সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করি। ’  

টিভির বাজার নিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণত ছবির কোয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে টিভিকে এইচডি, এফএইচডি, ইউএইচডি ও ওলেড ইত্যাদি শ্রেণিতে বিন্যাস করা যায়। এ ছাড়া গঠনগত দিক থেকে বাজারে বিভিন্ন ধরনের এলইডি, কার্ভড ও ওলেড টিভি পাওয়া যায়। টেলিভিশন মার্কেট প্রতিবছর গড়ে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ১০ লাখ টিভি সেটের বাজার আছে। ’

ক্রেতাদের পছন্দ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা ৪৩ ইঞ্চি বা তার ওপরের সাইজের টিভিগুলো কেনার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। ডিজিটাল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে ফোরকে রেজ্যুলেশনসমৃদ্ধ ইউএইচডি টিভির চাহিদাও ব্যাপক। প্রিমিয়াম সেগমেন্টে ন্যানো ও ওলেড টিভির চাহিদাও ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। ’

টেলিভিশনের বাজারে ইকো-প্লাসসহ দেশি ব্র্যান্ডগুলো বেশির ভাগ বাজার দখল করে আছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশি ব্র্যান্ড ও গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলোর ক্রেতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। দেশি ব্র্যান্ডগুলো মূলত নতুন গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করে, যারা বেসিক ও এইচডি স্মার্ট টিভি কিনতে আগ্রহী। অন্যদিকে গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো প্রিমিয়াম সেগমেন্টের ক্রেতাদের নিয়ে কাজ করে। ’

সরকারের ডিটিএইচ সংযোগ বাধ্যতামূলক করা প্রসঙ্গে এ এস এম মুনতাসির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এটিকে টেলিভিশনশিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ মনে করি, গ্রাহকরা ডিটিএইচ ব্যবহার করার কারণে বেশি রেজ্যুলেশনের টিভির চাহিদা বাড়বে ব্যাপক। ’

টিভির দাম ক্রেতার নাগলে আনতে তাঁর কম্পানি কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই প্রযুক্তির আরো উন্নত হচ্ছে সাথে দামও কমে আসছে।   এর ফলে আমরা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে আকর্ষণীয় দামে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির টিভি ক্রেতাদের দিতে পারছি। আমরা এটাকে অব্যাহত রাখতে চাই। কারণ এলজি সব সময়ই সাশ্রয়ীমূল্যে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে থাকে। ’ সাম্প্রতিক বিশ্ববাজারে যে চিপ সংকট হয়েছে তা দ্রুত কেটে যাবে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশি বাজারে কিছুটা সংকট ছিল, তবে ভালো দিক হলো সমস্যাটি দ্রুতই সমাধান হচ্ছে এবং শিগগিরই বাজার আবার স্থিতিশীল হবে। ’

তিনি বলেন, ‘টেলিভিশনশিল্প দিন দিন আরো বড় হচ্ছে। এ দেশে এর ব্যাপক সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারও স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য উৎসাহ প্রদান করছে। ২০১৯ সাল থেকে আমাদের ফ্যাক্টরি সিকেডির পদ্ধতিতে উৎপাদন শুরু করে। ভবিষ্যতে আমাদের উৎপাদন লাইন আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের ক্রমাগত উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ হিসেবে বিক্রয়োত্তর পরিষেবা বৃদ্ধির দিকেও বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। ’