kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

১৮০০ সালের রেসিপি দিয়ে এখনো জনপ্রিয় যে ক্যান্ডি

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৮০০ সালের রেসিপি দিয়ে এখনো জনপ্রিয় যে ক্যান্ডি

সময়ের পরিবর্তনে মানুষের রুচিরও পরিবর্তন আসে। ফলে ভোক্তা চাহিদা ধরে রাখতে কম্পানিগুলোও তাদের পণ্যের গুণগত মানে পরিবর্তন আনে। কিন্তু এ গল্পে ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’ প্রবাদটিই যেন বেশি মিলে যায়। ২০০ বছর আগের রেসিপি দিয়ে আমেরিকার একটি ক্যান্ডি কম্পানি এখনো তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। কম্পানির এ দুটি ব্র্যান্ড ‘জিব্রাল্টারস’ ও ‘ব্ল্যাকজ্যাকস’ এখনো মিষ্টান্নপ্রিয়দের জিবে জল এনে দেয়, উৎসবে থাকে বিক্রির অগ্রভাগে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ঐতিহাসিক উপকূলীয় শহর সালেমে গড়ে উঠেছে দেশটির সবচেয়ে পুরনো ক্যান্ডি কম্পানি ‘ইয়ে ওলল্ডে পেপার ক্যান্ডি কম্পানি’। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে রয়েছেন তৃতীয় প্রজন্ম বব বারকিনশো। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মেয়ে জেকি রাসেল। গত অক্টোবরে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদক ডানা জ্যাকবসন ঘুরে আসেন প্রতিষ্ঠানটিতে। তিনি দেখেন কিভাবে বাবা-মেয়ে মিলে তৈরি করছেন জনপ্রিয় ক্যান্ডি।

বব বারকিনশো বলেন, ‘অক্টোবর হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ততার মাস। কারণ এই মাসে হ্যালোউইন উৎসব ঘিরে সবচেয়ে বেশি ক্যান্ডি বিক্রি হয়। আমরা এখনো ঠিক সেই রেসিপি দিয়েই ক্যান্ডি বানাই, যা একদম শুরুতে ছিল। এমনকি আমাদের দোকানে ১৮০০ সালের কিছু সরঞ্জামও আছে, যেটিকে আমরা আমাদের শিকড় হিসেবে মনে করি।’ তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কোথা থেকে এলাম, শুরুটা কিভাবে হলো ইত্যাদি।’

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮০৬ সালে। ম্যারি স্পেন্সার নামে একজন ইংলিশ নারী সমুদ্রে জাহাজ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে আমেরিকার সালেমে আসেন। ওই ঘটনায় তিনি সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান।

প্রতিবেশীরা জানতে চাইল তাঁকে কিভাবে সাহায্য করতে পারে। বললেন, ‘আপনারা যদি দয়া করে আমাকে কিছু চিনি দেন, তাহলে আমি ক্যান্ডি বানাতে পারব,

আশা করি ওটা দিয়েই আমি নতুন জীবন শুরু করতে পারব।’ 

এরপর প্রতিবেশীরা সবাই মিলে তাঁকে এক ব্যারেল চিনি দিলেন। তিনি তৈরি করলেন ‘জিব্রাল্টারস’ ক্যান্ডি। বিশ্বাস করা হয়, এটাই আমেরিকার প্রথম ক্যান্ডি, যা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হয়। ১৮৩০ সালে কনফেকশনার জর্জ পেপার এই ব্যবসা কিনে নেন। জিব্রাল্টারস মূলত নারীদের স্বাদ ও পছন্দকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি মেয়েদের ক্যান্ডি হিসেবে পরিচিতি পায়, যা লেবু ও পেপারমিন্টের (একজাতীয় সুগন্ধি তেল) ফ্লেভারে তৈরি। পেপার তাই পুরুষদের পছন্দের ‘ব্ল্যাকজ্যাকস’ নামে আরেকটি ক্যান্ডি তৈরি করলেন, যা আখ থেকে উৎপন্ন গুড় দিয়ে তৈরি হয়।

বারকিনশোর দাদা বিশ শতকের শুরুতে পেপারের কাছ থেকে ব্যবসাটি কিনে নেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বাবা পারিবারিক বেজমেন্টে এটি বানানো শুরু করেন। বারকিনশো বলেন, ‘বাবা যখন ক্যান্ডি তৈরি করতেন পুরো বাসা ঘ্রাণে ম-ম করত। জানালা দিয়ে সেই ঘ্রাণ চলে যেত আশপাশে। তখন প্রতিবেশীদের বাচ্চারা চারপাশের জানালায় এসে ঝুলে থাকত। ক্যান্ডির ঘ্রাণই যেন তাদের অনেক ভালো লাগত। আমিও ১০ বছর বয়স থেকে বাবার সঙ্গে ক্যান্ডি তৈরি শুরু করি। এখন আমাদের দোকানের পাশেই কিচেনে ক্যান্ডি তৈরি করি। ফলে এর সুগন্ধ ক্রেতাদেরও প্রলোভিত করে।’

বারকিনশো এখন একই রেসিপি তাঁর নাতির হাতে তুলে দিয়েছেন। যেভাবে তাঁর দাদা এবং বাবা তাঁকে দিয়েছিলেন। কিভাবে পুরনো একটি রেসিপি এখনো ভোক্তাদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়, তার গোপন সূত্র শেয়ার করলেন বারকিনশো। জানালেন, জিব্রাল্টারস এখনো ঠিক সেভাবেই তৈরি করা হয়, যেভাবে ম্যারি স্পেন্সার ১৮০৬ সালে তৈরি করেছিলেন। একইভাবে ব্ল্যাকজ্যাকসও শুরুর রেসিপি দিয়ে তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, কম্পানির এ সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখা, যা তাঁদের প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিচ্ছে।

আমেরিকান ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি হ্যালোউইনে আমেরিকায় ক্যান্ডি বিক্রি হয় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের। পশ্চিমা দেশগুলোতে ৩১ অক্টোবর এ উৎসবের দিনটিতেই সরকারি ছুটি থাকে। আর এ দিনে ইয়ে ওলল্ডে পেপার ক্যান্ডি কম্পানির চকোলেট ও ক্যান্ডির দারুণ চাহিদা থাকে। সূত্র : সিবিএসনিউজ।