kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

বাজেটের ছাড়ে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে নতুন সুযোগ

ফারজানা লাবনী   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজেটের ছাড়ে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে নতুন সুযোগ

আগামী অর্থবছরের (২০২১-২২) প্রস্তাবিত বাজেটে করোনাকালীন আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে কৃষি খাতে ব্যাপক সুবিধার কথা বলা হয়েছে। বিশেষভাবে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে দেশে উত্পাদিত ফলমূল, শাক-সবজি, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্য তৈরিতে বিনিয়োগকারীকে প্রথম ১০ বছর কর অব্যাহতি দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলেছেন, করোনাকালীন সংকটে এ দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে কৃষি খাতে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে মৌসুমি কৃষিপণ্য সারা বছর সংরক্ষণ করে কিভাবে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায় তার পথ খুঁজে বের করা হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক গোলাম মোয়াজ্জেম কালের কণ্ঠকে বলেন, এ দেশে সহজে কৃষিপণ্য উত্পাদন হলেও বাণিজ্যিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করে সারা বছর রমরমা ব্যবসা করা সম্ভব। এতে দেশে নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠবে। নতুন শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান হবে, যা করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে গতি আনতে খুব জরুরি।

প্রসঙ্গত, এ দেশে মৌসুমে চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ফলমূল, শাক-সবজি পাওয়া যায়। যেমন : আম, জাম, পেঁপে, কাঁঠাল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফল। শাক-সবজির মধ্যে ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ বিভিন্ন শাক-সবজি আছে। এ ছাড়া দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবারও এ দেশের ঘরে ঘরে তৈরি হয়। এ দেশের বেশির ভাগ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষিনির্ভর। মৌসুমে পাওয়া ফলমূল, শাক-সবজি বা দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের অভাবে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে সারা বছর কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। এ দেশের মাটি, আবহাওয়া কৃষিপণ্য উত্পাদনের জন্য উপযোগী। এতে সাধারণ আয়ের একজন মানুষের পক্ষে বা একটি পরিবারের পক্ষে অল্প সময়ে এবং কম খরচে চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া সম্ভব হয়।

এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনাকালীন সংকটেও কৃষি খাতে ছাড় দিয়ে সরকার আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষভাবে মৌসুমে পাওয়া কৃষিপণ্য সারা বছর রেখে ব্যবসায়ে সরকার উদ্যোক্তা আকর্ষণে চেষ্টা করেছে। আশা করি এতে অর্থনীতিতে সুফল আসবে। কারণ আগামী অর্থবছরে করোনার তৃতীয় ঢেউ এলে শিল্প খাতের বিপর্যয় বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি সরকারের একমাত্র ভরসার জায়গা হবে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে উত্সাহিত করার পাশাপাশি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান বিক্রি বাড়ানো, মূল্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখা, কৃষি বীমা চালু, কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণে প্রান্তিক কৃষককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি খাতে ন্যূনতম এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগামী ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শর্ত আছে, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বিডার নিবন্ধিত হতে হবে। কাঁচামালের সবটা দেশে উত্পাদিত হতে হবে। উত্পাদনকারী কারখানার পরিবেশ বা পণ্যের মানের কারণে দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে শাস্তি পেলে এই সুবিধা পাবে না।