kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

সিলেটের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে চা শিল্প

করোনা পরিস্থিতির এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে এবারের বাজেট খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। কৃষকদের প্রণোদনা, কৃষি যন্ত্রাংশ এবং পোল্ট্রি খাতের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক কমানো, স্বাস্থ্য খাতে জীবন রক্ষাকারী পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রণোদনার বিষয়টি বাজেটে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

সিলেটে সেভাবে শিল্পায়ন হয়নি তাই এখানকার ব্যবসা ট্রেডিং নির্ভর হওয়ায় করোনার ধকল সামলানো ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে সুদবিহীন ঋণের পাশাপাশি বাজেটে থোক বরাদ্দ চান তাঁরা। বাজেটকে সামনে রেখে এসব প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেটের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা।

এবারের বাজেটে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার জলিল। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘করোনা আমাদের কিছু ক্ষেত্রে চোখ খুলে দিয়েছে। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যে যতটা সম্ভব অনলাইন বা তথ্য-প্রযুক্তির সমন্বয় করাটা হবে দূরদর্শী পদক্ষেপ। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা এবং তাঁদের আর্থিক প্রণোদনা এই বাজেটে রাখা দরকার।’

পর্যটন খাতকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত জানিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘পর্যটন হলো এমন একটি খাত যার উন্নয়ন হলে সঙ্গে অন্য দশ-বারোটি ব্যবসারও উন্নতি হবে। তাই এ খাতে বাজেটে আরো গুরুত্ব দিতে হবে।’

খাদ্যের দাম যাতে স্থিতিশীল থাকে বাজেটে সে বিষয়ে জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন পোল্ট্রি খাতে সিলেটের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান অয়েস্টার পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিশারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা মহামারি পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে তা কেউ জানি না। তাই সবার আগে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। যাতে নিত্যপণ্যের দাম নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে না যায়।’ পোল্ট্রি খাতের বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, ‘এই খাতে যেসব জিনিস আমদানি করা হয় তার দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। ফিডের দামও বাড়ছে। এতে ডিম ও ব্রয়লার মাংসের দাম না বাড়ালে টিকে থাকা কঠিন হবে সংশ্লিষ্টদের।’

গত বছর সরকার করোনা পরিস্থিতিতে যে প্রণোদনা চালু করেছিল সেটি এই বাজেটেও অব্যাহত রাখা দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের দারুণ পদক্ষেপ ছিল। তবে এটি যাতে যথাযথভাবে কাজে লাগে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কারণ সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা সিলেটে মাত্র ২৫ শতাংশ কাজে লেগেছে।’

এবারের বাজেটে কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘গত বছর করোনা মহামারি শুরুর কয়েক মাস আগে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। তখন কিন্তু আমরা টাকা দিয়েও ধান, চাল, পেঁয়াজের মতো পণ্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ক্রয় করতে পারিনি। একইভাবে ২০১৯ সালে আমাদের উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো মজুদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুটি বিষয় থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার আছে। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া দরকার। এর পাশাপাশি কৃষক যাতে তাঁর ন্যায্য মূল্য পান তা নিশ্চিত করা, বাজেটে কৃষকের জন্য সার, ডিজেলের মতো অনুসঙ্গে এবং কৃষিযন্ত্রের ক্ষেত্রে ভর্তুকি বাড়ানো দরকার।’ গত তিনটি বাজেটেই কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ এক জায়গায় আটকে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির কারণে হলেও ভর্তুকির পরিমাণ এবার বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি কৃষি যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমালে কৃষি যন্ত্রপাতি দেশেই কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক এবং দেশের কৃষিই লাভবান হবে।’

এবারের বাজেটে গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করেন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আফজাল রশীদ চৌধুরী। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন আমদানি শুল্ক কমানো, আমদানির ক্ষেত্রে অফিশিয়াল জটিলতা কমানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘ভ্যাট ট্যাক্স কমানো জরুরি।’