kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

কর্মমুখর পোশাকশিল্পে অর্ডার কমার আশঙ্কা

এই সময়ে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মৌসুমের অর্ডার আসার কথা, কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেভাবে অর্ডার আসছে না

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর্মমুখর পোশাকশিল্পে অর্ডার কমার আশঙ্কা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার খুব বেশি প্রভাব নেই চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের যাতায়াতে সমস্যা হলেও কারখানাগুলোতে উপস্থিতিতে খুব বেশি হেরফের নেই। ফলে গতবারের লকডাউনের মতো এবার উৎপাদনপ্রক্রিয়াতে তেমন ব্যাঘাত ঘটেনি। তবে বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আগামী মৌসুমের তৈরি পোশাকের অর্ডারের গতি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চট্টগ্রাম ইপিজেডে বর্তমানে চালু কারখানার সংখ্যা ১৪৬টি। এসব কারখানায় কাজ করেন প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার শ্রমিক। নিষেধাজ্ঞার পরদিন চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্রায় ৯২ শতাংশ শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন নিজ নিজ কর্মস্থলে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৯০ শতাংশ। স্বাভাবিক সময়েও কমবেশি এমনই উপস্থিতি থাকে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার নির্দেশিত সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রতিটি কারখানা কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের একাধিক মনিটরিং টিম প্রতিনিয়তই কারখানা পরিদর্শন করে তদারকি করছে। এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের মধ্যে আক্রান্তের খবর পাইনি। তা ছাড়া শ্রমিকদের স্বাভাবিক উপস্থিতির কারণে উৎপাদনেও কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে না।’

তবে গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল সীমিত হওয়ায় দূর-দূরান্তের শ্রমিকদের যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চট্টগ্রাম কালুরঘাট শিল্প এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন সালমা বেগম। অফিসে যাতায়াতের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘৮টায় অফিস, সকাল ৭টা থেকে দেওয়ানহাট মোড়ে অপেক্ষা করতে করতে কোনো গাড়িতেই উঠতে পারিনি। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর শেয়ারে সিএনজি নিয়ে আধাঘণ্টা দেরিতে অফিসে ঢুকেছি। আসা-যাওয়াতেই অনেক সময় এবং টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।’

শিল্প-কারখানাকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখায় গত বছরের মতো সংকটের সৃষ্টি হয়নি জানিয়ে বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও ইস্টার্ন অ্যাপারেলস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ক্যাপাসিটির চেয়ে কিছুটা কম শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদনক্ষমতাও কিছুটা কমেছে। তবে এখনো বড় ধরনের কোনো লোকসানে পড়িনি। টিকে থাকার লড়াইয়ে আছি।’

এই মুহূর্তে জুন-জুলাই পর্যন্ত অর্ডার বুকড থাকলেও পরের মৌসুমের জন্য অর্ডার বুকিং দেওয়া কমে গেছে বলে জানালেন এই ব্যবসায়ী নেতা। তিনি বলেন, ‘এই সময়ে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মৌসুমের অর্ডার আসার কথা, কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেভাবে অর্ডার আসছে না। আগামী এক মাস এমন পরিস্থিতি চললে টিকে থাকা কষ্ট হয়ে যাবে।’

একই কথা বললেন বিজিএমইএর নবনির্বাচিত পরিচালক ও আরডিএম অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এই মাসে প্রচুর অর্ডার আসার কথা। বিশেষ করে নিট পণ্যে। ওভেন পণ্যের অর্ডার পরিস্থিতি বোঝা যাবে আরো এক সপ্তাহ পর। এই মুহূর্তে জুন পর্যন্ত কাজের অর্ডার আছে।’