kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

দামুড়হুদায় স্থানীয় যন্ত্রে উৎপাদন করছে দুই তরুণ

সম্ভাবনা জাগাচ্ছে কলাগাছের সুতা

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি   

৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিত্যক্ত কলাগাছ দিয়ে আঁশযুক্ত সুতা তৈরি হচ্ছে এবার চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামে। দুই বন্ধু মিলে বিদ্যুত্চালিত মেশিন দিয়ে এই সুতা প্রস্তুত করছেন। একসময় গাছের কলা কেটে নেওয়ার পর গাছটি পরিত্যক্ত অবস্থায় সেই স্থানেই পড়ে থেকে পচে নষ্ট হতো অথবা গাছের মালিক ওই গাছ কেটে অন্যত্র ফেলে দিত। এখন সেই পরিত্যক্ত গাছ সংগ্রহ করে সুতা তৈরি করছেন দুই বন্ধু সাইফুল ইসলাম ও আবু সাঈদ।

তাঁরা দেশি প্রযুক্তিতে তৈরি মেশিন দিয়ে কলাগাছের খোলস ছাড়িয়ে এই সুতা তৈরি করছেন। পাটাচোরা গ্রামে মাসখানেক ধরে কলাগাছ দিয়ে সুতা তৈরি করছেন তাঁরা। গ্রামের মাঠসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পরিত্যক্ত কলাগাছ সংগ্রহ করে প্রতিদিন ১৫-২০ কেজি করে সুতা তৈরি করছেন। কলাগাছের দুই দিকের অংশ কেটে ফেলে খোলস বের করে মেশিনে দিলে অন্য দিক থেকে বের হয়ে আসছে আঁশযুক্ত সুতা। এই সুতা রোদে শুকানো হচ্ছে। শুকানোর পর তার রং সোনালি হয়ে যাচ্ছে।

সাঈদ ও সাইফুল জানান, লাভের আশায় দুই বন্ধু মিলে বগুড়া থেকে মেশিন কিনে এনে সুতা তৈরি করা শুরু করেন। তবে বাজারদর নিয়ে শঙ্কিত তাঁরা। সুতার নির্দিষ্ট কোনো বাজারদর নেই। ক্রেতারা যে দাম বেঁধে দিচ্ছেন, সেই দামেই সুতা বিক্রি করতে হচ্ছে। তাঁদের বেঁধে দেওয়া দামে সামান্য লাভ হলেও টিকে থাকা কঠিন। প্রথম দিকে এই সুতা স্থানীয়ভাবে বিক্রি করলেও বর্তমানে তাঁরা তাঁদের উৎপাদিত সুতা ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করছেন।

তরুণ এই দুই উদ্যোক্তা বলেন, ‘কলাগাছের বর্জ্যগুলো জৈব সার হিসেবে ব্যবহারের জন্য আলাদা করে রাখা হচ্ছে। কলাগাছের সুতার বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিদেশি ক্রেতারা এই সুতা বাংলাদেশ থেকে কিনছে; কিন্তু এর ন্যায্য দাম কত আমরা জানতে পারছি না। বাজারদর ভালো পেলে আমরা মেশিন আরো একটি নিয়ে আসব। কলাগাছ দিয়ে তৈরীকৃত সুতার বাজারদর ঠিক করা গেলে এবং স্বল্প সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণের ব্যবস্থা করা হলে সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে এটি গড়ে উঠবে। সেই সঙ্গে বিদেশে সুতা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।’

‘আনন্দ বিল্ডিং কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজ অফ স্মল হোল্ডারস ইন বাংলাদেশ’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এর আগে খাগড়াছড়িতে কলাগাছ থেকে সুতা তৈরির প্রকল্প নিয়ে কাজ করে সাফল্য দেখিয়েছে। বর্তমানে লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, মিঠাপুকুর, যশোর, টাঙ্গাইল, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও সদরসহ দেশের অনেক স্থানে কলাগাছ থেকে সুতা উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জানা যায়, কলাগাছের আঁশ দিয়ে সুতা তৈরির গবেষণাটি শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় যন্ত্রের সাহায্যে বাকল থেকে আঁশ বের করে আনা হয়। সেই আঁশ পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় তুলার রোল। এরপর স্পিনিং মেশিনে দিয়ে তৈরি করা হয় সুতা। সেই সুতাতেই তাঁতের সাহায্যে কাপড় তৈরি করা হয়।