kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

সাশ্রয় হবে ৪০০ কোটি টাকা ► কমবে আমদানি

মাল্টা-কমলার উৎপাদন বাড়াতে বড় প্রকল্প

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে ৪০ হাজার টনের বেশি মাল্টা এবং অনান্য লেবুজাতীয় ফসলের আবাদ বাড়বে

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাল্টা-কমলার উৎপাদন বাড়াতে বড় প্রকল্প

পাহাড়ি অঞ্চলে উন্নত মানের কমলা ও মাল্টার চাষ হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের লেবুজাতীয় ফলের (মাল্টা, লেবু, কমলা, বাতাবি লেবু) অধিকাংশ চাহিদা মেটানো হয় আমদানির মাধ্যমে। তবে চাহিদার কথা চিন্তা করে লেবুজাতীয় ফসল উৎপাদনে নতুন একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নতুন করে আরো ৪০ হাজার টন মাল্টা এবং লেবুজাতীয় ফল উৎপাদিত হবে। এতে সরকারের আমদানি কমে সাশ্রয় হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বাংলাদেশের সাত বিভাগের ৩০ জেলার ১২৩টি উপজেলায় বৃহৎ কিংবা ছোট পরিসরে লেবু বা মাল্টাজাতীয় ফসলের আবাদ হয়। ‘লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক নতুন প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে মার্চ ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০২৪। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্প এলাকায় প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফলন বৃদ্ধিরও কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে বছরে ৪০ হাজার টনের বেশি মাল্টা এবং অনান্য লেবুজাতীয় ফসলের আবাদ বাড়বে। প্রকল্প এলাকায় ২০টি সরকারি নার্সারিতে লেবুজাতীয় ফলের মাতৃবাগান স্থাপন এবং চারা উৎপাদনের কাজ করা হচ্ছে। যে পুরনো পাঁচ হাজার বাগান আছে সেগুলোও এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হবে। এতে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কৃষকের আয়ও বাড়বে ১০ শতাংশ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংঘনিরোধ উইং-এ বাংলাদেশ লেবুজাতীয় ফলের আমদানি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে লেবু এক লাখ ৫৯ হাজার ৬০১ টন এবং কেনু আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৪০৭ টন। এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কমলা ২১ হাজার ৮৮৯ টন, মাল্টা ৪৯ টন এবং কমলাসদৃশ ফল কেনু আমদানি করা হয় ১০ হাজার ৭৩৯ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কমলা দুই লাখ ৫০ হাজার ৬৯৮ টন, মাল্টা ২১৭ টন এবং কেনু আমদানি হয় ৯ হাজার ৯০০ টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কমলা এক লাখ ৭২ হাজার ৬৭৫ টন, মাল্টা ২৩ টন এবং কেনু ছয় হাজার ২৮৫ টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কমলা এক লাখ ৮৭ হাজার ৯২১ টন ও মাল্টা ৩০৫ টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কমলা এক লাখ ৭৭ হাজার ৮৭৬ টন ও মাল্টা ৯ হাজার ৮০১ টন এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কমলা এক লাখ ৫০ হাজার ৮২৯ টন ও মাল্টা আমদানি করা হয় ৬৪৩ টন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিবছর লেবুজাতীয় ফলের আমদানি বাড়ছে।

তবে লেবুজাতীয় ফল দেশে আমদানি হলেও রপ্তানি তুলনামূলক বেশ কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লেবু রপ্তানি হয়েছে ১৮৯ টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৭৫ টন। কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফলের আবাদ হয়। এর মধ্যে লেবুজাতীয় ফলের আবাদ হয় মাত্র দুই হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০২৩ সাল নাগাদ বাস্তবায়ন হলে লেবুজাতীয় ফলের উৎপাদন বাড়বে প্রায় ২০ শতাংশ। যেহেতু আমাদের নিজস্ব বাগানে মাল্টা ও কমলা উৎপাদিত হবে। পাশাপাশি কমবে আমদানিনির্ভরতা।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্পটির পরিচালক ফারুক আহ্মদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে প্রকল্পটির দ্বিতীয় বছর চলছে। আমরা মূলত দেশে মাল্টা, লেবু, কমলা এবং বাতাবি লেবুর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। ফলন বাড়ানোর জন্য কৃষককে পরামর্শ দেওয়া ছাড়াও সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। শুধু কমলা লেবু এখন চাষ করা হচ্ছে চার হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে। আমরা সবুজ রঙের মাল্টা উৎপাদনসহ কিভাবে এই ফলটি দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়টি নিয়েও কাজ করছি। মূলত দেশি ফলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানো এবং ফলের আমদানিনির্ভরতা কমানোই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।’

প্রকল্প সম্পর্কে জানা যায়, প্রকল্পে পুরনো পাঁচ হাজার লেবু বাগান ছাড়াও বিভিন্ন আয়তনের প্রায় ৫৪ হাজার নতুন লেবুগাছ সৃজন করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য দেশের ৫৯ হাজার ১০০ কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রকল্পে বারি মাল্টা-১ ও ২, জারা লেবু, সিডলেস লেবু, কলম্বো লেবু, বারি বাতাবি লেবু-১/২ জাত ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকল্প সম্পন্ন হলে লেবুজাতীয় ফলের উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়বে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কমলা, মাল্টা, লেবু এবং বাতাবি লেবুর উৎপাদন ছিল তিন লাখ ৮০ হাজার ৬৬ টন। প্রকল্প শেষ হলে ২০২৩-১৪ অর্থবছরে এই চার জাতের লেবুর উৎপাদন দাঁড়াবে চার লাখ ৩৭ হাজার টনের বেশি।