kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

বিস্কুট বাজারের ২০ শতাংশ চট্টগ্রামের

বড় বিনিয়োগে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় বিনিয়োগে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

একসময় বিস্কুট বলতেই যেন ছিল আল আমিন ব্র্যান্ডের ‘পাইনঅ্যাপেল’ এবং নাবিস্কোর ‘গ্লুকোজ’। এই দুই বিস্কুট খেয়েই কেটেছে অনেকের শৈশব। আর এই বয়সে এসে বাজারে দেখা মিলছে কমপক্ষে ২০০ ব্র্যান্ডের বিস্কুট। এসব বিস্কুটের মোড়কে, স্বাদে, মানে এতটাই বৈচিত্র্য এসেছে চেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে কোনটা দেশি, আর কোনটা বিদেশি। ব্যবসায়ীদের মতে, দেশে বিস্কুটের বাজার প্রতিবছর ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। মূলত চাহিদা বৃদ্ধি এবং শীর্ষ শিল্প গ্রুপগুলো এই খাতে বিনিয়োগ করায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ভালো মানের বিস্কুট রপ্তানিও হচ্ছে।

চট্টগ্রামে বিস্কুটের বাজারে এখন সাফল্যের অগ্রভাগে রয়েছে মধুবন, বনফুল, ফুলকলি, ওয়েল ফুড, কিষোয়ান, পিউরিয়া ও থাই ফুড। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিস্কুট ব্যবসা তিন ভাগে বিভক্ত। একটি হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত ও অটোমেটেড মেশিন দ্বারা পরিচালিত। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, অন্য বেকারি আইটেমের পাশাপাশি কেবল শোরুমে দামি বিস্কুট তৈরি করছে। তৃতীয়টি হচ্ছে সাধারণ মানের বেকারি আইটেম।

দেশের মোট বিস্কুট বাজারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হচ্ছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের। ২০টির মতো নামিদামি প্রতিষ্ঠান এখানে বিস্কুট ব্যবসা পরিচালনা করছে; এর মধ্যে ঢাকার শীর্ষ বিস্কুট কম্পানির দাপট থাকলেও চট্টগ্রামের বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে তিন থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান। আবার চট্টগ্রামভিত্তিক একাধিক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের বাইরে গিয়ে কারখানা স্থাপন করে বিস্কুট ব্যবসা পরিচালনা করছে যেমন : ওয়েল ফুড, ইস্পাহানি ও বনফুল। এসব প্রতিষ্ঠান দেশজুড়েই ভালো ব্যবসা করছে।

বিস্কুট উৎপাদনে চট্টগ্রামে শীর্ষে থাকা কিষোয়ান গ্রুপের এমডি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানগুলো আমরা স্থানীয় মানুষের স্বাদ-ঘ্রাণ-দাম বিবেচনা করেই বিস্কুট তৈরি করি। ফলে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে আমাদের গ্রাহক একটু আলাদা। আমাদের বাজারটা আমরা ধরে রেখেছি।’

চট্টগ্রামে ওয়েল ফুড খুব বেশি আইটেমের বিস্কুট তৈরি না করলেও বিস্কুটের বাজারে অনন্য বৈচিত্র্য এনেছে। তাদের এরাবিয়ান বিস্কুট যেমন আছে, স্বাস্থ্যসম্মত ওটস বিস্কুট, ওটস রেইজিন, এলমন্ডস বিস্কুটও আছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বেলা বিস্কুটকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে গেছে ওয়েল ফুড। তবে ওয়েল ফুড শোরুমে যে বিস্কুট বিক্রি করে সেটির দাম তুলনামূলক বেশি। একটু প্রতিযোগিতামূলক দামের বিস্কুট তৈরি করছে ‘মর্নিং ফ্রেশ’ ব্র্যান্ড নাম দিয়ে।

জানতে চাইলে ওয়েল গ্রুপের সিইও সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত করতে চাই ওয়েল ফুডকে। দেশে এমন মানের বিস্কুট তৈরি করি, যা অন্য কারো নেই। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা বিদেশেও ভালো সুনাম কুড়াচ্ছি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেশে আমরা বিস্কুট রপ্তানি করছি।’

বর্তমানে ওয়েল ফুডের ব্যবসা মাসে গড়ে আড়াই কোটি টাকা উল্লেখ করে সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়েল ফুডের আউটলেটভিত্তিক ব্যবসাকে আমরা ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। কয়েক বছরেই দ্রুত কয়েক শ কোটি টাকার ব্যবসা করব এমনটা চিন্তা করি না। কারণ ওয়েল ফুডের ক্রেতা হচ্ছেন উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির।’ তিনি বলেন, “খাদ্যের এই ব্যবসা যতটুকু না লাভ তার চেয়ে বেশি যশ-খ্যাতি বা ‘নেইম অ্যান্ড ফেইম’ ব্যবসা। আমি মূলত এটিকে ব্র্যান্ড হিসেবেই জনপ্রিয় করতে চাই। ৫০ বছর পর সেই প্রজন্ম যাতে শুধু ওয়েল ফুডের ব্র্যান্ড বিক্রি করেই কয়েক শ কোটি টাকা পায় সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছি।”

ওয়েল ফুডের মতো চট্টগ্রামে অনেক অভিজাত বিস্কুটের শোরুম আছে। তাদের অন্যতম হচ্ছে— ফ্লেভারস, ড্রিপস, কুপারস, কিংস, ডুলছে, মিঠাই, সিজল, জেকস অন্যতম। কম সময়ে জনপ্রিয় হওয়া ড্রিপস সুইটস অ্যান্ড বেকারির এমডি আফরিন নেওয়াজ বলেন, ‘গ্রাহকদের রুচি ও স্বাদ লক্ষ্য করেই আমরা আধুনিক মেশিনে যত্ন করেই বিস্কুট বানাই। যেমন একটি স্টিক বিস্কুটে দেখবেন অর্ধেক চকোলেট মোড়ানো, আবার একটি বেলা বিস্কুটে আছে হরলিকসের স্বাদ।’

চট্টগ্রামের বাজারে ফুলকলি দুই শ্রেণির বিস্কুট বিক্রি করে বেশ ভালো অবস্থানে আছে। ফুলকলি নিজেদের ব্র্র্যান্ডে বিস্কুট বিক্রি করে কেবল শোরুমে। আর এর চেয়ে একটু কম দামের বিস্কুট বিক্রি করে ‘পিউরিয়া’ নামে। এই ব্র্যান্ডের বিস্কুট এখন চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। ফুলকলি ফুড প্রডাক্টসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবু সালেহ বলেন, ‘ফুলকলির জনপ্রিয়তার পরই পিউরিয়া ব্র্যান্ডের বিস্কুট বিক্রি শুরু হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের কাছে আমাদের বিস্কুট ব্যাপক জনপ্রিয়। এ জন্য প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে গ্রাহক টানতে আমরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি যোগ করছি উৎপাদনে।