kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রস্তুত হচ্ছে পায়রা

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রস্তুত হচ্ছে পায়রা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা বন্দরের টিখালী জেটি এলাকা ছবি : কালের কণ্ঠ

বাহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের চাপ নিতে দ্রুত প্রস্তুত হচ্ছে পায়রা সমুদ্রবন্দর। আর এ বন্দরকে ঘিরে পাল্টে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলসহ উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন চিত্রও। বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ, শেরেবাংলা নৌঘাঁটি নির্মাণ, শেখ হাসিনা সেনানিবাস স্থাপন, ইপিজেট নির্মাণসহ অন্যান প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চল আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সিঙ্গাপুর মডেলে শহর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯১টি জাহাজের পণ্য খালাসের মাধ্যমে নির্মাণাধীন দেশের এই তৃতীয় সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ১৮৭ কোটি ৬৪ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পায়রা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) কমোডর এম জাকিরুল ইসলাম বলেন, গত ৩০ জুন চীনের সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যাতে ব্যয় হবে এক হাজার ৩৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বঙ্গোপসাগরের রাবনাবাদ নদের মোহনাঘেঁষা কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া গ্রামের মূল বন্দর এলাকায় পায়রা বন্দরের পণ্য খালাসের জন্য অত্যাধুনিক এ টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে পায়রা বন্দরের অবকাঠামোর আরো উন্নতি ঘটবে। বন্দরের ছয় লেনের রাস্তার সঙ্গে আন্ধারমানিক নদের ওপর আরো একটি ছয় লেনের অত্যাধুনিক ব্রিজ হবে এবং পায়রা বন্দরের এখন যে টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে সেখানে রেললাইন সংযোগ করা হবে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে। এতে কনটেইনারসহ সব পণ্য পরিবহন হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে।

তিনি বলেন, পায়রা বন্দরের টার্মিনাল সম্পন্ন হলে সেখানে সাড়ে ৯ এবং ১০ মিটারের বড় জাহাজ আসতে পারবে। তখন চট্টগ্রাম বন্দরের মতোই পায়রা বন্দর ব্যস্ত বন্দরে পরিণত হবে। পদ্মা সেতু, লেবুখালী ব্রিজ চালু হলে দেশ-বিদেশের অনেক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে। এই চুক্তির মাধ্যমে পায়রা বন্দরের একটি মাইলস্টোন সেট হলো।

তিনি জানান, বর্তমানে চিটাগং বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজের যে জ্যাম লেগে থাকে, তাতে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সময় ক্ষেপণ এবং লোকসান গুনতে হয়। আগামী দিনে পায়রা বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

কলাপাড়া পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার বলেন, পায়রা বন্দরের মাধ্যমে কলাপাড়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় পরিবর্তন আসছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে। বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের জন্য দেশি-বিদেশি নির্মাতাসহ ১০ হাজার শ্রমিক কলাপাড়ায় অবস্থান করছেন। সে কারণেও কলাপাড়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম গতি পেয়েছে। এ ছাড়া পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে কলাপাড়ায় দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য জমি ক্রয় করেছেন।

মন্তব্য