kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

বাণিজ্যিক গাড়িতে নেতৃত্ব দিতে চায় এনার্জিপ্যাক

জসীম উদ্দিন (স্বপন) মহাব্যবস্থাপক, মোটর ভেহিকল ডিভিশন, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড

এম সায়েম টিপু   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাণিজ্যিক গাড়িতে নেতৃত্ব

দিতে চায় এনার্জিপ্যাক

পরিবহন খাতকে সমৃদ্ধ করতে আনকাই নামের বাস বাজারজাত করছি আমরা। ওই উন্নত প্রযুক্তির বাস যাত্রী পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে

 

 

এনার্জিপ্যাক গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড। মূল প্রতিষ্ঠান ১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু করলেও এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৫ সালে। প্রতিষ্ঠানটি ইলেকট্রিক্যাল বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ করেছে দেশের পরিবহন খাতেও। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এমন তথ্য জানান এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জসীম উদ্দিন (স্বপন)।

তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকেই দেশের বাজারে প্রকৌশল যন্ত্রপাতির পণ্য উত্পাদন এবং বাজারজাত করে আসছে আমাদের প্রতিষ্ঠান। পণ্য প্রস্তুত থেকে শুরু করে বিপণন ও বিক্রয়োত্তর সেবা দিয়ে থাকি আমরা। ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার, সুইচ গিয়ার ইত্যাদি পণ্য উত্পাদন করতে যত রকম আনুষঙ্গিক উপকরণ লাগে প্রায় সবই আমরা করি। এর পাশাপাশি গ্যাস জেনারেটর, ডিজেল জেনারেটর, কম্প্রেসর, লিফট আমদানি করে বাজারজাত করে থাকি। বর্তমানে নিজেদের ব্র্যান্ডের (GLAD) ডিজেল জেনারেটর স্থানীয়ভাবে সংযোজন করে আসছি। আমরা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্যও তৈরি করে থাকি। যেখানে বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী পণ্য এলইডি বাল্ব, সোলার সিস্টেম ও ফ্যান তৈরি করা হয়।’ পাঁচ বছর ধরে নির্মাণ খাতের আধুনিক যন্ত্রপাতি বিপণন করে আসছে আমাদের প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি জি-গ্যাস ব্র্যান্ডের এলপিজি গ্যাস ভোক্তাদের ব্যাপক সারা পেয়েছে। এ ছাড়া স্টিলপ্যাক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

জসীম উদ্দিন (স্বপন) বলেন, ‘পরিবহন খাতকে সমৃদ্ধ করতে আনকাই নামের বাস বাজারজাত করছি আমরা। ওই উন্নত প্রযুক্তির বাস যাত্রী পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। জ্যাক ও শ্যাকম্যান পিক-আপ ভ্যান ও ট্রাকও রয়েছে। আমাদের বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার জ্যাক গাড়ি দেশের রাস্তায় চলছে। ভোক্তাদের কাছে এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়াও পেয়েছি। জ্যাক গাড়ি নিজেরাই স্থানীয়ভাবে সংযোজন করে থাকি। সরকারি সহায়তা পেলে আরো অধিক গাড়ি সংযোজন করা সম্ভব। ২০১৯ সালে আমরা দেড় হাজারের বেশি গাড়ি নিজেদের কারখানায় সংযোজন করেছি। বিপণনকৃত গাড়িগুলো হলো ১.৩৫ টন থেকে ৫ টন পর্যন্ত। ছয়টি মডেলে তৈরি হয় এসব গাড়ি। দেড় টন গাড়ির ৬০ শতাংশ বাজার এনার্জিপ্যাকের দখলে। এর পাশাপাশি সব বাণিজ্যিক গাড়ির মোট বাজারের ৫ শতাংশও। গত বছর আমরা ডাবল কেবিন পিকআপ দেশে সংযোজন শুরু করি। বাজারে ভালো সাড়াও পাওয়া যায়। আশার বিষয় হচ্ছে, প্রতি মাসেই ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি আমাদের বিক্রি হচ্ছে। জুনের মধ্যে আসছে নতুন মডেলের আরেকটি ডাবল কেবিন পিকআপ।’

তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক গাড়িতে আমরা নেতৃত্ব দিতে চাই। শীর্ষ তিনে উঠে আসতে চাই। ডাবল কেবিন পিকআপে আগামী বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাজার নিজেদের দখলে নেওয়ার ইচ্ছা আমাদের আছে। ব্যক্তিগত গাড়িতে বিনিয়োগেরও চিন্তা চলছে। বিদ্যুত্সাশ্রয়ী প্যাসেঞ্জার কার বা হাইব্রিড কার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মোটরসাইকেলের বাজার নিয়ে আমরা ভাবছি না।’

এই কর্মকর্তা জানান, দেশের বাজারে হেভি ডিউটি ভেহিকল নিয়ে আসতে চায় এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন। ১০ বা ততোধিক চাকার গাড়ি নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য এরই মধ্যে চীনের ঝযধপসধহ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। বর্তমানে টাটা অশোক লেল্যান্ড এবং আইশার এই বড় গাড়ির বাজার দখল করে আছে। এনার্জিপ্যাকও এই ব্যবসায় আসছে শিগগিরই। এর মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর জন্য আমদানি করা হয়েছে। এই গাড়ি পর্যাপ্ত হলে দেশে পণ্য পরিবহন খরচ কমে আসবে, ফলে পণ্য উত্পাদনে কম্পানিগুলোর খরচও কমে আসবে।

তিনি বলেন, দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে গাড়ির চাহিদাও বাড়ছে। বছরে প্রায় দুই হাজার হেভি ডিউটি ভেহিকল বাজারে আসছে। প্রতিটি গাড়ি ৩০ থেকে ৬০ লাখ টাকা দাম পড়ে। গাড়ির ধরন, চাকার সংখ্যা ও ওজন পরিবহনসহ গাড়ির গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে এই মূল্য। এ বাজার বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার। বিগত বছরগুলোতে এ গাড়ির বাজারে প্রবৃদ্ধি থাকলেও বৈশ্বিক মন্দার কারণে চলতি বছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর।

মন্তব্য