kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

টিভিএস মোটরসাইকেল জ্বালানিসাশ্রয়ী

খুচরা অর্থায়নের ব্যবস্থা ও উচ্চ নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি

জিয়াদুল ইসলাম   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টিভিএস মোটরসাইকেল জ্বালানিসাশ্রয়ী

ছবি : মঞ্জুরুল করিম

 

বিপ্লব কুমার রায়

সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ

 

‘মোটরসাইকেলে দেশের সবচেয়ে অগ্রগামী ব্র্যান্ড টিভিএস। বর্তমানে এ ব্র্যান্ডের অবস্থান দ্বিতীয়। এর বড় কারণ আমাদের মোটরসাইকেলের দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন, স্থায়িত্ব, বিক্রয়-পরবর্তী বিশ্বমানের সেবা। এ ছাড়া টিভিএস মোটরসাইকেলের সব মডেলই তার সমসাময়িক অন্যান্য মোটরসাইকেলের তুলনায় কম তেলে বেশি চলে। ফলে গ্রাহকের পছন্দের তালিকায় টিভিএস ব্র্যান্ড সব সময়ই এগিয়ে থাকে। আমরা গ্রাহকদের সন্তুষ্টি নিয়ে আরো ভালো অবস্থানে যেতে চাই।’ টিভিএস অটো বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিপ্লব কুমার রায় সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে মোটরসাইকেলের বাজার প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকার। এর ২৪ শতাংশ শেয়ারই টিভিএসের। টিভিএস মোটরসাইকেলের বিশেষত্ব ও গ্রাহকপ্রিয়তার কারণ মোটরসাইকেলের দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন, দীর্ঘস্থায়ী, গুণগত মান ও বিক্রয়-পরবর্তী বিশ্বমানের সেবা। এ ছাড়া টিভিএস মোটরসাইকেলের সব মডেলই তার সমসাময়িক অন্যান্য মোটরসাইকেলের তুলনায় কম তেলে বেশি চলে। এর মানে জ্বালানিসাশ্রয়ী। আর জ্বালানিসাশ্রয়ী মোটরসাইকেলের প্রতি আমাদের আপামর মানুষের ঝোঁক বেশি। সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে টিভিএস ব্র্যান্ডের বাইক খুবই আকর্ষণীয়।’

মোটরসাইকেল শিল্পের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে মোটরসাইকেলের মাথাপিছু পরিমাণ বা বিক্রি এখনো তুলনামূলক কম। এ জন্য এই বাজারের সম্ভাবনা ব্যাপক। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া—এসব জায়গার তুলনায় আমাদের বিক্রি কম। ফলে আমাদের এই শিল্প যদি ১০ গুণও বেড়ে যায় তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘দেশে মোটরসাইকেল শিল্পের এখন তৃতীয় ধাপ চলছে। প্রথম ধাপে আমরা শুরু করি সিবিইউ আমদানি দিয়ে, এরপর আমরা সিকেডি করি। আর এখন স্থানীয়করণে চলে গেছি।’

তিনি বলেন, ‘আগে মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে ধারণা করা হতো। এর কারণ ছিল বেশি দাম। মোটরসাইকেলে সম্পূরক শুল্ক আরোপে দামটা বেশি ছিল। এখন দেশে উত্পাদন হওয়ার কারণে মোটরসাইকেল গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে এসেছে। ফলে বাজারও সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিক্রি ও বাজার সম্ভাবনার মাঝে যে ব্যবধান আছে সেটা পূরণ হয়ে যাবে। ফলে আগামী দিনে এই শিল্পের অপার সম্ভাবনা আমরা দেখতে পাচ্ছি।’ 

এ খাতের সমস্যা সম্পর্কে বিপ্লব কুমার রায় বলেন, ‘এ শিল্পে আমরা যেমন সম্ভাবনা দেখছি, পাশাপাশি প্রতিকূলতাও রয়ে গেছে। আজকে বিভিন্ন দেশের মোটরসাইকেল শিল্প অনেক দূর এগিয়েছে। এর বড় কারণ রিটেইল ফিন্যান্স। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো কাঠামোগত রিটেইল অর্থায়ন নেই। আমরা যে বাহনটি বিক্রি করি, সেটা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের একটা বাহন। তাদের জন্য একেবারে পুরো টাকাটা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে যদি অর্থায়নের সুযোগ করে দেওয়া যেত, তাহলে স্বল্প ডাউনপেমেন্টে রেজিস্ট্রেশন করেই সে বাহনটি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে পারত। আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো, আমাদের দেশে নিবন্ধন ব্যয় অনেক বেশি। সাধারণত কর ও নিবন্ধনসহ ব্যয় ৬ শতাংশের মধ্যে থাকার কথা। কিন্তু আমাদের দেশে যদি একটি ১০০ সিসি বাইকে এই ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশের ওপরে যায়, তা এ শিল্পের বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা। পাশাপাশি আরেকটি প্রতিবন্ধতা হলো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রির বিকাশ না হওয়া। তবে আমরা আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উন্নয়ন ঘটবে; যা এই শিল্পের টেকসই হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

দেশে মোটরসাইকেল শিল্পের কারখানা স্থাপন কতটা লাভজনক—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে মোটরসাইকেলকে অগ্রাধিকার শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই ভালো বার্তা। এই মুহূর্তে আমাদের সব ব্র্যান্ডই বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করেছে। তবে অগ্রাধিকার শিল্প হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে উত্পাদন নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকাটা খুবই কঠিন। এ জন্য আমদানি নিরুত্সাহ করতে হবে।’

মোটরসাইকেল শিল্পে সম্প্রতি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি কমার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে ব্যবসা আগের চেয়ে কমে গেছে। প্রথম কারণ, দেশে তারল্য সংকট বিরাজ করছে। দ্বিতীয় কারণ, নতুন সড়ক পরিবহন আইন। ওই আইনে জরিমানা ও শাস্তি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আমরা চাই আইনের প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল থাকুক। তবে আইনটি নিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাই ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের জোর দেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘গত দুই-তিন বছর এ শিল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই শিল্পের বিকাশের স্বার্থেই আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। প্রথমত, এই বাজারটাকে আরো বড় করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন রিটেইল ফিন্যান্সিং। এর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। যখন এই বাজার বড় হবে, তখন চিন্তা করতে হবে এটাকে কিভাবে টেকসই রাখা যায়। টেকসই পর্যায়ে রাখার জন্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রির ডেভেলপমেন্ট জরুরি হয়ে পড়বে। এরপর দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমাদের পণ্য বিদেশে রপ্তানি করব, এ রকম চিন্তা আসবে। এটা কিন্তু একটার সঙ্গে আরেকটা জড়িত।’

দক্ষ ও অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অবশ্যই আমরা গ্রাহকের সন্তুষ্টি নিয়ে এ বাজারে এগিয়ে যেতে চাই, একটা ভালো অবস্থানে যেতে চাই। সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন মোটরসাইকেল উত্পাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আরো সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রাহকদের কাছে টিভিএস ব্র্যান্ড পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাব।’

মন্তব্য