kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

অটোমোবাইলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে

মতিউর রহমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উত্তরা গ্রুপ অব কম্পানিজ

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অটোমোবাইলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে

বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার যেসব বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন তারই একটি অংশ। এরই মধ্যে নতুন নতুন সড়ক তৈরিতে সরকার ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গাড়ির একটি বিশাল বাজার তৈরি হবে। বছরের প্রথম দিকে এ খাতে আমাদের প্রবৃদ্ধি থাকলেও ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ বাস্তবায়নের পর এই শিল্প কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। তবু আমরা আশাবাদী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজার আবার প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটবে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন উত্তরা গ্রুপ অব কম্পানিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান। তিনি বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট।

মোটরসাইকেল ও থ্রি হুইলারের বাজারে শীর্ষে উত্তরা মোটরস

মতিউর রহমান বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের শ্রমবাজার এখনো যথেষ্ট সাশ্রয়ী। যদিও অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে গাড়ি প্রস্তুত করছে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো এ খাতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রতিষ্ঠান অপ্রতুল। স্থানীয়ভাবে গাড়ি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের জন্য আমাদের অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। অবকাঠামোগত সুবিধা ও জমি অধিগ্রহণ আমাদের জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। তবে আশার কথা হলো, সরকার এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। পাশাপাশি সহজে ব্যবসা করার সূচক উন্নয়নে জোরালোভাবে কাজ করছে। বলা যায়, বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের সুবাতাস বইছে।’

বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার কর্তৃক আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহজীকরণে ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারের’ কার্যক্রম আরো গতিশীল ও কার্যকর করা। স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত অটোমোবাইল শিল্পের জন্য এখনো তেমন ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তাই অটোমোবাইল শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে এ বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে দেশের বাইরে গাড়ি রপ্তানির ব্যাপারে কাজ করছে। এটি অবশ্যই অটোমোবাইল শিল্পের জন্য আনন্দের সংবাদ।

মোটরসাইকেলের বাজার নিয়ে মতিউর রহমান বলেন, ‘দেশে মোটরসাইকেলের বাজার পাঁচ লাখের মতো হলেও বর্তমানে এ খাতে কিছুটা ধীরগতি চলছে। তবে মানুষ যখন গাড়ির নিবন্ধন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের ব্যাপারে আগ্রহী হবে, গাড়ির বাজারে আরো প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। বর্তমানে দেশের মোটরসাইকেল বাজারের বৃহত্ মার্কেট শেয়ার এবং থ্রি হুইলার বাজারের সর্বোচ্চ মার্কেট শেয়ার নিয়ে আমরা উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম অবস্থানে রয়েছি। তবে বেশ কয়েক মাস ধরে মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য যানবাহন বিক্রির হার ২৫-৩০ শতাংশ কমে গেছে। আশা করি, ভবিষ্যতে বিক্রয় বাড়বে।’

বাজারে উত্তরা মোটরসের স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পণ্যের মান সুরক্ষায় সব সময় আপসহীন। গুণগত মান নিশ্চিতকারী নামিদামি মডেলগুলোই কেবল আমরা বাজারজাত করি। ফলে গ্রাহকদের কাছে উত্তরা মোটরস এখন বিশ্বস্ততা ও আস্থার নাম। পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবাদানে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আমাদের সুবিশাল সার্ভিস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত নিশ্ছিদ্রভাবে সেবা প্রদান করছি। স্বল্প ও ন্যায্য মূল্যে খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রি করছি। সেবা প্রদানের এ কার্যক্রমকে আরো সম্প্রসারিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে শুধু সেবা প্রদানের জন্য সার্ভিস ডিলার নিয়োগ করা এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সহজলভ্য করার জন্য স্পেয়ার পার্টস ডিলার নিয়োগসহ স্থানীয় ওয়ার্কশপ বা মেকানিকদের বিনা মূল্যে ও প্রয়োজনীয় বিশেষ টুলস প্রদান করা ইত্যাদি।’

তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে গাড়ির মূল্য, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের মূল্য ব্যাপক হারে কমে এসেছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মোটরসাইকেলের মূল্য এখন গ্রাহকদের হাতের নাগালে। এ ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান স্বল্প শর্তে কিস্তিতে গাড়িও দিচ্ছে। ফলে অনেকেই খুব সহজেই একটি গাড়ির মালিক হতে পারছে। অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে গাড়ি প্রস্তুত করছে। ফলে ভবিষ্যতে গাড়ির মূল্য আরো সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আমরা আশা করি। তবে এ খাতে কিছু সমস্যাও রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কাঁচামালের অপ্রতুলতা। পাশাপাশি আমাদের দক্ষ কারিগরি জনবলেরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই সরকারকে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে হবে।’

গ্রাহক সচেতনতার বিষয়ে এই উদ্যোক্তা বলেন, “বাংলাদেশ সরকার সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ বাস্তবায়ন করছে। সরকারের এই সুউদ্যোগের সঙ্গে আমরা একমত। তবে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি শহর থেকে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে বিকল্প যান চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। সব ধরনের গাড়ির ও মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ও অন্যান্য ফি কমিয়ে আনতে হবে। নিরাপদ সড়ক ও সড়কে যাত্রী নিরাপত্তার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে যাত্রী, চালকসহ সকলকে সচেতন করা, চালকদের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণসহ লাইসেন্স গ্রহণে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করা, হেলমেট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা ইত্যাদি।”

মন্তব্য