kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

বছরে ১২০০ গাড়ি উৎপাদন করতে চায় পিএইচপি অটোমোবাইলস

মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, এমডি, পিএইচপি অটোমোবাইলস লিমিটেড

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বছরে ১২০০ গাড়ি উৎপাদন করতে চায় পিএইচপি অটোমোবাইলস

বাংলাদেশকে গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত করতে চায় পিএইচপি অটোমোবাইলস লিমিটেড। তাই প্রতিবছর এক হাজার ২০০ গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে দেশের স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সাল নাগাদ এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আকতার পারভেজ। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে গাড়ি উত্পাদন নিয়ে তাঁর স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

মোহাম্মদ আকতার পারভেজ বলেন, “অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রির জন্য আমরা তিন-চার বছর যাবত্ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের ভাগ্য ভালো একজন ভালো পার্টনার পেয়েছি। কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়ার তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ইউআইটিএসের কনভোকেশনে এসেছিলেন। পরে তিনি তাঁর দেশে ফিরে গিয়ে সুফি মিজানুর রহমান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। মাহাথির মোহাম্মদ যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন তাঁর সঙ্গে ছয়জন সেক্রেটারি এসেছিলেন। তাঁরা পিএইচপি ফ্যামিলির ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সম্পর্কে স্টাডি করেন। এরপর আমার বাবাকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানান।

আমরা যখন মাহাথির মোহাম্মদের আমন্ত্রণে মালয়েশিয়ায় যাই তখন তিনি আমাদের বলেন, ‘তোমরা প্রথমে আমার অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিটা দেখে আসো।’ তখন আমরা ভাবলাম, আমাদের কেন অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে পাঠাচ্ছেন? সম্মানিত ব্যক্তির কথা রাখতে আমরা সেই ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট করি এবং কারখানা ভিজিট করে আসার পরে মাহাথির মোহাম্মদ আমার আব্বাকে প্রস্তাব দিলেন ‘সুফি মিজান আপনি বাংলাদেশে অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি শুরু করেন।’ তখন আমার বাবা হেসে বললেন, ‘এই ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই নেই। আমার ব্যবসা গ্লাস, ঢেউটিন ও অন্যান্য পণ্যের।’ তখন মাহাথির মোহাম্মদ আব্বাকে বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমি আপনাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করব। আমি আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছি। আমার সেক্রেটারিদের কাছ থেকে অনেক তথ্য নিয়েছি, আপনি বাংলাদেশে ২৭টি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করছেন।’ সেই দিন থেকে আমাদের অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে আগ্রহের শুরু।

এরপর দেশে এসে জায়গা নির্বাচন, জমি ক্রয়, নকশা তৈরি করা, গাড়ি ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করার মতো কারিগরি সহযোগিতা আমরা মালয়েশিয়া থেকে পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশীয় আর্কিটেক্টদের কিছু সহায়তা পেয়েছি। এর আগে বিভিন্ন সংস্থার যথাযথ অনুমোদন নেওয়া সবই ঠিকঠাকমতো সম্পন্ন করেছি।”

মোহাম্মদ আকতার পারভেজ আরো বলেন, ‘বাধা ছিল, কিন্তু আল্লাহর রহমতে সব দূর হয়েছে। প্রথম দিকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে আমাদের। এখন সব কিছু সুন্দরভাবে হয়েছে। এটা যেহেতু ডিফারেন্ট ইন্ডাস্ট্রি তাই এর জন্য বাড়তি কিছু কষ্ট করতে হয়েছে। এখন সবার দোয়ায় আমরা গাড়ি তৈরি শুরু করেছি। গাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার পর আমরা অনুধাবন করলাম যে গাড়ি তৈরির খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে, কারণ আমরা মালয়েশিয়া থেকে যন্ত্রপাতি এনে সংযোজন করছি। প্রথম দিকে শুল্ক কাঠামো উত্পাদনকারীদের অনুকূলে ছিল না। এরপর বিষয়টি সরকারকে জানালাম। সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সার্বিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার (১৩৩২ সিসি) গাড়ি এখন আমরা ১৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারছি। আল্লাহর রহমতে গাড়ির বিক্রি বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরো বাড়বে আশা করছি। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য অটো শোতে আমরা নতুন গাড়ি লঞ্চ করব। এটা জিপ ক্যাটাগরির, প্রোটন এক্স৭০, এটিতে সর্বাধুনিক সব প্রযুক্তির সংযোজন থাকবে। আশা করছি, এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রাহক সেবার বিষয়টি চিন্তা করে আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি, যা দেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দিতে পারেনি। এটা হলো কোনো গ্রাহকের গাড়ি যদি কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা সেই গ্রাহককে তার গাড়ি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত কম্পানির পক্ষ থেকে একটি বিকল্প গাড়ি ব্যবহারের জন্য দিয়ে থাকি। এ ছাড়া নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে মেইন্টেন্যান্সের জন্য পাঁচটি ফ্রি সার্ভিসিং দেওয়া হচ্ছে। আমাদের গাড়ি কেনার পর থেকে ৩৫ হাজার কিলোমিটার মাইলেজের মধ্যে সার্ভিসিংয়ের ক্ষেত্রে যত ধরনের উপাদান (ওয়াশ, লুব অয়েল, ফিল্টার, গিয়ার অয়েল) সব কিছুই ফ্রি দেওয়া হবে।’

তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন ধীরে ধীরে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির দিকে ঝুঁকছে। দেশের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির বিক্রি এখন বেড়েই চলেছে। কারণ মানুষ গাড়ি কেনার পর অন্তত পাঁচ বছর নিশ্চিন্তে থাকতে চায়। দুই বছর আগেও মানুষের মধ্যে এ ধরনের সচেতনতা ছিল না। এখন মানুষ ঝামেলামুক্ত থাকতে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি কিনছেন।

বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে মোহাম্মদ আকতার পারভেজ বলেন, ‘বিক্রয়-পরবর্তী ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামে আমাদের তিনটি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার কাকরাইল এবং তেজগাঁও রিং রোডে দুটি শোরুম এবং সার্ভিস সেন্টার খোলা হয়েছে। বারিধারায় একটি সার্ভিসিং সেন্টার করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে এখানে পুরোদমে সার্ভিস দেওয়া শুরু হবে। যেহেতু ঢাকা বড় শহর, তাই আমরা সেবার পরিধি বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় সার্ভিস সেন্টার করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ ছাড়া দেশব্যাপী রহিমআফরোজের যে ১১টি সেন্টার রয়েছে তাতেও আমাদের গ্রাহকরা গাড়ির সেবা পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘সিডান কারের পাশাপাশি আমরা মাইক্রোবাসও তৈরি করছি। করপোরেট গ্রাহকরা এই মাইক্রোবাস বেশি কিনছেন। এই গাড়িগুলোর তিন বছরের ওয়ারেন্টি দিচ্ছি আমরা। এই সময়ের মধ্যে কিছু হলে রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি রয়েছে।’

মন্তব্য