kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

পণ্যভিত্তিক প্রদর্শনীর কনসেপ্ট নিয়ে আসে সেমস গ্লোবাল

নতুন গাড়ির বাজার বাড়াতে প্রদর্শনীর আয়োজন করে যাচ্ছি

মেহেরুন এন ইসলাম, প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সেমস গ্লোবাল

সজীব আহমেদ   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নতুন গাড়ির বাজার বাড়াতে প্রদর্শনীর আয়োজন করে যাচ্ছি

ছবি : শেখ হাসান

চাকরি করতেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে; কিন্তু গত্বাঁধা নিয়মে থাকতে পারলেন না। দুই বছর হতেই চাকরি ছেড়ে নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে প্রথম এক্সিবিশন বা প্রদর্শনীর কনসেপ্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন সেমস গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন ইসলাম। তাঁর সেই আইডিয়া দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি বড় সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে।

কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তগুলো নিয়ে মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে অনেকে প্রদর্শনীর ধারণাটি সহজভাবে না নিয়ে আমাকে বলেছিল এগুলো আমি কী করছি, এটা এ দেশে সম্ভব না। তবে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট পণ্যের বাজার সৃষ্টি করে পণ্যকেন্দ্রিক এক্সিবিশন আয়োজন করে পণ্যটিকে টার্গেট অর্ডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানো। ১৯৯৩ সালে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন, তখন কাজটি কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এ বিষয়ে অনেক বেশি পড়াশোনা করেছি এবং পরিশ্রমও করে গেছি, তাই সফলতাও পেয়েছি।’

শুরুটা কিভাবে হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে এ উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম, ১৯৮৯ সালে চাকরির দুই বছর হতেই চাকরি ছেড়ে নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ওখানে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম যে পৃথিবীটা অনেক বড়, আমি ছাত্রজীবনে যা ভেবেছি তা না। আমার ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টায় ছোট বাবুকে রেখে অফিসে যাই; কিন্তু দুপুর ১২টার মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যেত। কাজ শেষ হলেই বসদের খুব বিরক্ত করতাম, আমাকে কাজ দেন, না হলে বাসায় চলে যাব। যারা কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করত তারা সবাই দেশের বাইরে থেকে আসা। আমাকে তখন নানা ধরনের কাজ দেওয়া হতো। কাজ করতে করতে তখন অনেক কিছু শিখে গিয়েছিলাম। অফিসে এসে প্রতিদিন একই কাজ করব এবং এসে বসে থাকব, তা আমার দ্বারা সম্ভব না। আমি তাঁদের অনুমতি নিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে এলাম।

তখন সিদ্ধান্ত নিলাম এমন কিছু করা উচিত, যা দেশের আর কেউ করছে না। আমিই প্রথম শুরু করব, যাতে আমি বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারি। এত কম বয়সে, কম পুঁজি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা আমার পক্ষে চ্যালেঞ্জিং ছিল। ছোট থেকেই দেশের বাইরে ঘুরতে যেতাম, বিশেষ করে সিঙ্গাপুরে। ওখানে যখন ঘুরতাম তখন দেখতাম অনেক প্রদর্শনী হয়, জানলাম এগুলো সরকারিভাবে হচ্ছে না, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বা উদ্যোক্তারা করছেন। তখন দেশে এ নিয়ে কিছু করার চিন্তা থেকেই এ বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করি। ১৯৯২ সালে দেশে প্রদর্শনীর কনসেপ্ট নিয়ে কাজ শুরু করি, পরে ১৯৯৩ সালে প্রথম শেরাটন হোটেলে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করি। আমি শুরু করলাম নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী দিয়ে। প্রথমেই সাফল্য পেলাম। কারণ তখন এ ধরনের প্রদর্শনী কেউ করেনি, সবাই মেলা করত। তারপর করলাম কম্পিউটার টেলিকমিউনিকেশন অফিস ইকুইপমেন্টের প্রদর্শনী। ২০০০ সালেও আমরা প্রথম আবাসন খাত নিয়ে প্রদর্শনী করি। এটাও ছিল সুপারহিট। ২০০৪ সাল পর্যন্ত আমাদের তেমন কোনো প্রতিযোগী ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সেমস গ্লোবালের সাতটি দেশে অফিস রয়েছে। সর্বপ্রথম বাংলাদেশে অফিস নিয়েছিলাম ১৯৯২ সালে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা ও ব্রাজিলের পর সর্বশেষ মরক্কোতে অফিস নিয়েছি ২০১৭ সালে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ দেশের বাইরে এ প্রতিষ্ঠানে ১০৫ জন কাজ করছে।’

প্রদর্শনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক্সিবিশন হচ্ছে সরাসরি যোগাযোগ। একটি টেলিভিশনে প্রচার করলে দেখবেন বিজ্ঞাপনে ঠিক যতটুকু তথ্য দেওয়া হলো ঠিক ততটুকু তথ্যই মানুষ জানতে পারে। অল্প তথ্যের একটি বিজ্ঞাপন দেখে অন্য পণ্যের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ থাকে না। এক্সিবিশনে গেলে আপনি দীর্ঘ সময় নিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য ঘুরে ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

অটোমোবাইল প্রদর্শনী প্রসঙ্গে মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, ‘আমরা অটোমোবাইল নিয়ে ১৫ বছর ধরে কাজ করছি। শুরুতে অটোমোবাইলের মার্কেট খুব ছোট ছিল। তখন খুব দাপট ছিল রিকন্ডিশন্ড গাড়ির। আমরা চিন্তা করেছিলাম, নতুন গাড়ির মার্কেট তৈরি করতে না পারলে একসময় বাজার আরো ছোট হয়ে যাবে। তাই নতুন গাড়িকে প্রাধান্য দিয়ে প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করলাম। স্টাডি করে দেখলাম, মূলত আমরা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির জাংক মার্কেটে পরিণত হচ্ছি। তাই ভবিষ্যতের জন্য নতুন গাড়ি কেন কিনতে হবে তার যুক্তিসংগত প্রচার দরকার। এর জন্য ঢাকা মোটর শোর চেয়ে যৌক্তিক আর কিছু হতে পারে না।’

 

বিশ্বের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে সারা বিশ্ব করোনাভাইরাস আতঙ্কে রয়েছে। এ কারণে আমাদের অনেক ইভেন্টের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই আরো বেশ কিছু ইভেন্ট করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। তার মধ্যে ১৫তম ঢাকা মোটর শো, ষষ্ঠতম ঢাকা বাইক শো, চতুর্থ ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো, পঞ্চম ঢাকা অটো পার্টস শো ২৭ থেকে ২৯ আগস্ট, পঞ্চম ফুড বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক এক্সপো, পঞ্চম অ্যাগ্রো বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক এক্সপো ১৯ থেকে ২২ আগস্ট, ১৩ মেডিটেক্স বাংলাদেশ, পঞ্চম আন্তর্জাতিক হেলথ ট্যুরিজম এবং সার্ভিস এক্সপো ২০ থেকে ২২ আগস্ট, ২১তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক এক্সপো ২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর, ব্রাজিল আন্তর্জাতিক অ্যাপারেল সোর্সিং শো ২০ থেকে ২২ অক্টোবর, পঞ্চম আন্তর্জাতিক সেফটি এবং সিকিউরিটি এক্সপো বাংলাদেশ, ২১তম রিয়েল এস্টেট এক্সপো ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া আরো ১০টি ইভেন্ট এ বছরই হওয়ার কথা রয়েছে দেশে ও দেশের বাইরে।’

 

মন্তব্য