kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

সড়কে নামছে স্বচালিত গাড়ি

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়কে নামছে স্বচালিত গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কোনো চালকবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামতে যাচ্ছে, যেটিতে মানুষের বসার বা চালানোর কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। এত দিন যত চালকবিহীন গাড়ি তৈরি করা হয়েছে তার সবটিতেই প্রয়োজনে যাতে একজন চালক বসতে পারে, এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এ গাড়িটি সেদিক থেকে ব্যতিক্রম।

জানা যায়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে স্বচালিত গাড়িটি রাস্তায় পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো স্টিয়ারিং হুইল নেই, ব্রেক কষার পেডাল নেই। এমনকি কোনো সাইড ভিউ মিররও নেই। নিউরো নামের একটি কম্পানি এই গাড়িটি তৈরি করেছে মূলত একটি ডেলিভারি ভ্যান হিসেবে। গাড়িটির নাম দেওয়া হয়েছে আর-টু। এটি টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে পরীক্ষা করা হবে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী এক দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি করবে স্বচালিত গাড়ি। চালকবিহীন গাড়ি, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, স্বচালিত গাড়ি, রোবো-গাড়ি বা রোবটিক গাড়ি ইত্যাদি নামে পরিচিত হয়ে ওঠা এ গাড়ি পরিবেশ সেন্সর দিয়ে নিরাপদে যেকোনো দূরত্বে চলাচল করতে পারবে। রাস্তা চলাচলে আশপাশের তথ্য সংগ্রহে এটিতে কয়েক ধরনের সেন্সর থাকবে। যেমন—রাডার, লিডার, সোনার, জিপিএস, ওডোমেট্রি ইত্যাদি।

বিএমডাব্লিউ, নিশান, ফোর্ড, জেনারেল মোটরস, টেসলা, গুগলের ওয়েমোসহ বহু কম্পানি এ নিয়ে কাজ করছে এবং খাতে বিনিয়োগ করেছে। উবারও চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে কাজ করছে। বিশ্বের অনেক দেশে পরীক্ষামূলক যাত্রী পরিবহনও শুরু হয়েছে। তবে সর্বসাধারণের স্তরে আসেনি এখনো।

জানা যায়, স্বচালিত গাড়ি নিয়ে কাজ শুরু হয় ১৯২০ সালে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয় ১৯৫০ সালে। ১৯৭৭ সালে প্রথম আধা-স্বচালিত গাড়ি নির্মাণে সফল হন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রে নিউরোর গাড়িগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো চালক বা আরোহী কেউই থাকবে না। তাদের আর-টু ডিজাইনের গাড়িতে কোনো সাইড ভিউ মিরর বা উইন্ডস্ক্রিনও নেই। তবে এটির পেছনে একটি ক্যামেরা থাকবে, যাতে গাড়ির পেছনের রাস্তার ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখা যায়। নিউরো এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে যে হিউস্টনে যখন পরীক্ষামূলকভাবে আর-টু চালানো হবে, তখন এটি ডোমিনোস পিত্জার পিত্জা থেকে শুরু করে সুপারমার্কেট চেন ক্রুগার বা ওয়ালমার্টের মালপত্র ডেলিভারি দেবে। জেনারেল মোটরস একই ধরনের একটি স্বচালিত গাড়ি তৈরি করছে। তারাও তাদের গাড়িটির পরীক্ষার জন্য অনুমতি চেয়েছে।

ইলেকট্রিক ও স্বচালিত গাড়ি নির্মাণে বিশ্বে যে বিনিয়োগ প্রতিযোগিতা চলছে তাতে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাগনা ইন্টারন্যাশনাল। কম্পানিটি আগামী এক দশকে এ খাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে মাগনার সিইও ডোনাল্ড (ডন) জে ওয়াকার বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁর মতে, ইলেকট্রিক ও স্বচালিত গাড়িতে যে বিনিয়োগ হচ্ছে তাতে লাগাম টানা উচিত। এর স্থলে আরো বেশি অংশীদারি গড়ে তুলতে হবে। ডেট্রয়েটে অটোমোটিভ নিউজ ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আগামী এক দশকে ইলেকট্রিক গাড়িকে ব্যাপকভাবে বাজারজাত করতে আমরাও উদ্যোগ নিয়েছি। তবে ইলেকট্রিক ও স্বচালিত গাড়ি তৈরিতে যে পরিমাণ অর্থ ঢালা হচ্ছে, তা কমিয়ে আনা উচিত। কারণ দিন শেষে ভোক্তারা সাশ্রয়ী পরিবহনই চায়। এ শিল্পে যে অর্থ আমরা ঢালছি সে ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন। বিবিসি, জেডডিনেট, উইকিপিডিয়া।

মন্তব্য