kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

সেবা বিকেন্দ্রীকরণের ফলে গাড়ির লাইসেন্স নিতে বিড়ম্বনা কমেছে

ড. মো. কামরুল আহসান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)

পার্থ সারথি দাস   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেবা বিকেন্দ্রীকরণের ফলে গাড়ির লাইসেন্স নিতে বিড়ম্বনা কমেছে

দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থার বিভিন্ন কার্যালয়ে অনিয়ম ও ভোগান্তি কমাতে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুল আহসান। ভিড় ও ভোগান্তি এড়িয়ে অনলাইনে সেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ও সেবা বিকেন্দ্রীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলেন।

ড. মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ও বিআরটিএতে সেবা নেওয়া ও দেওয়া দ্রুত ও সহজ করতে ব্যবস্থা নিয়েছি। আগে গাড়ির ফিটনেসের পরীক্ষা করে সনদ নিতে হতো নির্দিষ্ট বিআরটিএ কার্যালয় থেকে। যে কার্যালয় থেকে গাড়ির নিবন্ধন করতে হতো সেখানেই গাড়ির ফিটনেস করতে হতো। তাতে একই কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের ভিড় ও সেবা পেতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো। তবে আমরা এই ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা থেকে সাধারণকে রেহাই দেওয়ার পথ হিসেবে বিআরটিএর যেকোনো কার্যালয়ে ফিটনেস সনদ নেওয়ার নীতি চালু করেছি। আমরা এটা বিকেন্দ্রীকরণ করেতে পেরেছি। এ ছাড়া আমরা কার, জিপ ও মাইক্রোবাস শ্রেণির যানবাহনের ফিটনেস সনদ এখন থেকে এক বছর পর পর নেওয়ার নিয়মটি চালু করেছি। আগে কার, জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিবছর ফিটনেস সনদ নিতে হতো। এটাকে আমি বলছি, সেবা বিকেন্দ্রীকরণ। সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণের ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিড়ম্বনা কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ি চালানোর সনদ বা ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে প্রথমে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পেতে হয়। এর জন্য আগে আবেদন করতে হতো বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে। আমরা নিয়ম চালু করেছি—এ জন্য অনলাইনে আবেদন করার। এক দিনেই আবেদন করে এ লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব। এতে বিআরটিএ কার্যালয়ে আবেদনকারীকে উপস্থিত হতে হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিতে একসঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা নেওয়ার পরিস্থিতি এড়ানো যাবে এসব ব্যবস্থা ও নিয়ম চালু করায়।’

ড. মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘আগে ভারী গাড়ির লাইসেন্স পেতে ছয় বছর লাগত, আমরা তা তিন বছরে নামিয়ে এনেছি। হালকা যানের লাইন্সেসধারী চালক আগে ভারী গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেতে ছয় বছর অপেক্ষা করতেন। এখন পরীক্ষা দেওয়াসহ অন্যান্য সব নিয়ম মানতে হবে। তবে সময়সীমা অর্ধেকে নামানো হয়েছে। আমাদের দেশে যোগ্য চালকের সংকট তীব্র। এ কারণে নতুন সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। তাতে বিড়ম্বনা কমবে। গাড়ি কিনে গ্রাহকরা নিবন্ধন করার আবেদনও করতে পারছেন অনলাইনে। তাতেও বিড়ম্বনা কমছে, সময় কম লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘বিআরটিএএর মিরপুর, ইকুরিয়াসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে দালালদের তত্পরতা কমানো হচ্ছে নির্বাহী হাকিমের উপস্থিতিতে। অভিযান চালানো হচ্ছে। কারণ এই দালালরা বিভিন্ন ধরনের অপতত্পরতার সঙ্গে জড়িত। এই দালালদের তত্পরতা কমেছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিআরটিএ কার্যালয়ে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীরা ভিড় করেন পরীক্ষা দিতে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ ধরনের পরীক্ষা অবশ্য আমরা স্থগিত করেছি। পরবর্তী সময় এসংক্রান্ত নির্দেশনা জানানো হবে।’

মন্তব্য