kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

১২ হাজার ট্রাক বছরে উত্পাদন সম্ভব ইফাদ অটোসের প্লান্টে

তাসকিন আহমেদ, এমডি, ইফাদ অটোস লিমিটেড, ও ডিএমডি, ইফাদ গ্রুপ বাংলাদেশ

রফিকুল ইসলাম   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



১২ হাজার ট্রাক বছরে উত্পাদন সম্ভব ইফাদ অটোসের প্লান্টে

স্বাধীনতার তিন দশকই বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে ছিল। এখন সময় এসেছে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই প্রগ্রেসিভ ম্যানুফ্যাকচারিং করার। একসময় ট্রাক ও বাস আমদানি করা হতো। প্রথম দিকে সম্পূর্ণ গাড়িই আমদানি করা হয়েছে। এখন গাড়ি আমদানি না করে পার্টস এনে গাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। অটোমোবাইল শিল্প নিয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন ইফাদ অটোস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ইফাদ গ্রুপ বাংলাদেশের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) তাসকিন আহমেদ।

তিনি বলেন, সরকার ২০১৬ সালে মোটরসাইকেল তৈরির বিষয়ে নীতি সহায়তা দিয়েছে। পাঁচ থেকে সাত বছর স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে আইন করা হয়েছে তিন স্তরে উদ্যোক্তারা দেশেই মোটরসাইকেল উত্পাদন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সরকার বিশাল শুল্ক সুবিধা দিয়েছে।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় দেশের ব্যবসায়ী মহল এখন অনেকটাই পরিপক্ব। নতুন প্রজন্মের চিন্তাভাবনা আছে। সরকার এখন অনেক বেশি ব্যবসাবান্ধব। এটাকে সাধুবাদ জানাই। সরকারের বিভিন্ন মহলে এখন আলোচনা চলছে বেবিট্যাক্সি নিয়ে। ইলেকট্রিক টু হুইলার, ইলেকট্রিক থ্রি হুইলার, ইলেকট্রিক ফোর হুইলার নিয়ে সব জায়গায় কথা হচ্ছে। থ্রি হুইলার নিয়ে কথা হচ্ছে কিভাবে দেশেই উত্পাদন করা যায়।

তিনি বলেন, ‘মার্কেট সাইজ ও দেশ ছোট হওয়ার কারণে গাড়ি ব্যবহারের দিক থেকে টু হুইলার ও বড় গাড়ির ক্ষেত্রে দেশে একটা পূর্ণাঙ্গ কারখানা করা সম্ভব নয়। কারণ এ জন্য প্রয়োজন বিশাল বড় বিনিয়োগ, যার বিপরীতে ব্যবসা টেকসই হবে না। কিন্তু থ্রি হুইলারে ইঞ্জিন আর গিয়ার বক্স বাদ দিয়ে পুরো অংশই করা সম্ভব। অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার এখন দেশে উত্পাদন সম্ভব। কিন্তু দেশে গাড়ি উত্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি সহায়তা বড় প্রয়োজন। সেটা পাওয়া গেলে উত্পাদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। বাসশিল্পের ৯৫ শতাংশই এখন দেশে উত্পাদন হচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। যার জন্য এসি বাসের চাহিদা বাড়ছে। দেশের মধ্যম আয়ের মানুষের আয়ের পরিবর্তনও হয়েছে। রাস্তায় ধুলাবালির কারণে এসি বাসের দিকে ঝুঁকছে। সরকার নীতি সহায়তা দিলে বাস উত্পাদনকারী বড় বড় কম্পানিও বাংলাদেশে বিনিয়োগে ঝুঁকবে। আমরা নিজেদের কেন ছোট করে দেখব? বাস উত্পাদন করে বাইরে পাঠাতে পারলে ক্ষতি কোথায়?’

তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘বড় কম্পানিগুলো সংযোজন করে। আমরা সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চাচ্ছি যে আমরা এখন উত্পাদন করব। পলিসি থাকলে অন্যান্য পণ্য দেশের বাইরে থেকে আনব না। দেশেই উত্পাদন হবে। বিদেশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে চাহিদা সৃষ্টি হলে দেশেই সব ধরনের পণ্য উত্পাদন করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুগোপযোগী একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ২০২০ সালে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে থার্স্ট সেক্টর (প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার) ঘোষণা করেছেন। বড় ট্রাক, বাস তো দূরে থাক মোটরসাইকেল পূর্ণ তৈরির বাজারও কিন্তু বাংলাদেশে নেই। তাহলে আমরা কী করব? হাত গুটিয়ে বসে থাকব? না, ভারতের টয়োটা বিভিন্ন দেশ থেকে পার্টস কিনে অ্যাসেম্বল করে গাড়ি বানায়। গার্মেন্টশিল্প পৃথিবীতে ৪৭০ থেকে ৪৮০ বিলিয়ন ডলারের বাজার। এই বাজার বাংলাদেশ ১০ শতাংশ ধরতে পেরেছে। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পটি পৃথিবীতে সাত ট্রিলিয়ন ডলার। কোনো পলিসি না থাকার পরও গত বছর ৩৯১ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে। এই সেক্টরের পর অটোমোবাইল খাত নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এই শিল্পে কী কী পণ্য বানানো যেতে পারে এটা নিয়ে ভাবতে হবে। জাপান, তাইওয়ান পারলে আমরা কেন পারব না? আমি পণ্য তৈরি করে পার্শ্ববর্তী দেশে রপ্তানি করতে কেন পারব না?’

দেশের বাজারে থ্রি টু ফোর হুইলার গাড়িতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। শতভাগ নয়, একটি গাড়ি বা ট্রাকের ১০ শতাংশ উত্পাদন করতে পারলেও তো অনেক! সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে একটা পলিসি প্রয়োজন, সেটা সরকার থেকে আসতে হবে। ১৯৯১ সালে ভারতের ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে। সরকার পলিসি দিয়েছে, তখন বড় বড় কম্পানি এগিয়ে এসেছে। প্রথম প্রজন্মের সুযোগ সুবিধা এসেছে।

নতুন পরিকল্পনার বিষয়ে ইফাদ অটোসের এমডি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সর্ববৃহত্ সংযোজন প্লান্ট করেছি, যাতে বছরে ১২ হাজার বাণিজ্যিক ট্রাক উত্পাদন করা সম্ভব হবে। একটি নীতির জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। নতুন বড় বিনিয়োগ করেছি, কেবিন ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট করা হয়েছে। এই কেবিন এখন আর বিদেশ থেকে আনতে হবে না। এখানেই উত্পাদন হবে। এ বছর থেকে সব ধরনের মান বজায় রেখে দেশে এসি ও নন-এসি বাস উত্পাদন সম্ভব হবে। কারখানা বানানো শেষ, টেস্ট চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে স্টেকহোল্ডারদের এক জায়গায় নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকার রোড ট্রান্সপোর্ট নীতিমালা করছে, এটাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। স্টেকহোল্ডার এক টেবিলে বসালে আলোচনা হবে। ট্রাকে ওভারলোডিং, বাস বানানোর ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা মানা হতো না। এটা নিয়ে বিআরটিএ কাজ করছে। বাড়তি মাল নেওয়ার কারণে রোড ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, দুর্ঘটনাও ঘটছে। এগুলো বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। বড় বাসের চাহিদা বাড়ছে। মাঝারি মানের ট্রাকের চাহিদাও বাড়ছে। আমরা আশা করছি সরকারের নীতি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় অটোমোবাইল শিল্পে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।’

মন্তব্য