kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

অটোমোবাইলে শুল্ক কমালে সরকারের রাজস্ব বাড়বে

ইফতেখার আহমেদ টিপু , চেয়ারম্যান, ইফাদ গ্রুপ বাংলাদেশ

রফিকুল ইসলাম   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অটোমোবাইলে শুল্ক কমালে সরকারের রাজস্ব বাড়বে

ছবি : লুৎফর রহমান

১৯৮৫ সালে ইফাদ গ্রুপ অটোমোবাইল খাতে ব্যবসা শুরু করে। প্রথমে দেশে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি আমদানি করা হতো, এখন সেটা করা হয় না। পার্টস আমদানি করে অ্যাসেম্বলিং করে পূর্ণাঙ্গ বাস-ট্রাক উত্পাদন করা হয়। এখন বাস-ট্রাক উত্পাদনে আরো এক ধাপ এগিয়েছে ইফাদ। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন ইফাদ গ্রুপ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ টিপু।

তিনি বলেন, ‘আমরাই প্রথম প্লান্ট করেছি। আধুনিক মেশিনারিজের সমন্বয়ে অ্যাসেম্বলিং প্লান্টে প্রতিদিন ২৫টি গাড়ি উত্পাদন হচ্ছে। প্রতি ৪০ মিনিটে একটি গাড়ি তৈরি হচ্ছে। ইঞ্জিন ও চেসিস ছাড়া সব কিছুই দেশে উত্পাদন সম্ভব হচ্ছে। বাস আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে, এখন দেশে উত্পাদন করা হচ্ছে। সরকারের সব ধরনের দ্বিতল বাস তৈরি করছে ইফাদ। এয়ারকন্ডিশন বাসও তৈরি করছে। দেশে বাস ও ট্রাক উত্পাদনের কারখানা করা হয়েছে। এখানে কর্মসংস্থান বাড়বে। সব কিছু দেশে উত্পাদন করা গেলে পণ্যের ওপর কর কমবে। পণ্যের দামও কমে যাবে। চলতি বছরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাস তৈরি করতে পারব।’

ইফাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ যত দিন বেঁচে থাকবে তত দিন অটোমোবাইল খাতের বাস ও ট্রাকের চাহিদা থাকবে। আর এ খাতটি বাংলাদেশের জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ একটি মাত্র দেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। একটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বেশি। পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরই ভরসা। আর বন্দর থেকে মালপত্র আনা-নেওয়ায় ট্রাকের প্রয়োজন পড়বে। দেশে কোনো পণ্যের উত্পাদনে কাঁচামাল নেই। সব কাঁচামাল এখন আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ কাঁচামাল ও আমদানিনির্ভরশীল দেশ। কয়েকটি পণ্য মাত্র রপ্তানি করি। দেশের প্রয়োজনে সব কিছুই আমদানি করতে হয়। ফলে পণ্য আনা-নেওয়ায় ট্রাকসহ যানবাহনের ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বের উন্নত দেশেও পণ্য আনা-নেওয়ায় ট্রাকের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে রাজধানীতে যেসব মানুষ থাকে তাদের বেশির ভাগেরই পরিবার গ্রামে বা মফস্বলে থাকে। সাপ্তাহিক ছুটি পেলেই তারা গ্রামে চলে যায়। অফিস শুরু হলে চলে আসে। ঈদসহ বিভিন্ন উত্সবের ছুটিতে মানুষ গ্রামে ফেরে। তখন বাসের অনেক চাহিদা থাকে। কাজেই মানুষ যত দিন থাকবে তত দিন বাসের চাহিদা থাকবে। বর্তমানে অটোমোবাইল খাতের বাস-ট্রাক উত্পাদনে ইফাদের অংশ ৩৭ শতাংশ। প্রতিদিনই এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি এখন কিছুটা নিম্নমুখী। গার্মেন্টশিল্প ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। অন্যান্য খাতেও সে প্রভাব পড়ছে।

এই অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা বলেন, বাস ও ট্রাক উত্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারের ভ্যাট ও শুল্ককর বাড়তি। প্রতিবছর ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার শুল্ক প্রদান করি। এই খাতে সরকার সহায়তা না করলে টিকে থাকা কষ্টকর। বাস-ট্রাকের ওপর সরকার ভ্যাট ট্যাক্স বাড়ালে; সেটা পরোক্ষভাবে জনগণের ওপরই গিয়ে পড়বে। বিলাসী পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হোক। জনগণের ভোগান্তি বাড়বে না।

তিনি বলেন, ‘অটোমোবাইল খাতে শুল্ক কমালে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। কিন্তু বর্তমানে কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা অধিদপ্তর থেকে নানা ভোগান্তি করছে। সেটার কারণে নতুন কারখানা করার আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকে। গাড়ি বিক্রির পর ক্রেতার সঙ্গে বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়ার চুক্তি থাকে। গ্রাহককে সহজে সেবা দিতে আমরা সারা দেশে সার্ভিস সেন্টার বসিয়েছি। কিন্তু কলকারখানা অধিদপ্তর মূল কারখানায় না এসে সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে কমপ্লায়েন্স খোঁজে; ওভারটাইম ও বেতন-ভাতার খোঁজখবর নিয়ে ভোগান্তি করছে। এটা একধরনের বিড়ম্বনা। সেটা থেকে রেহাই দেওয়া প্রয়োজন। সরকারের উচ্চ মহলকে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। সরকারের সহায়তা পেলে অনেক দূর এগিয়ে যাবে দেশের অটোমোবাইল শিল্প।’

মন্তব্য