kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

বহুমুখী ব্যবহারে চাহিদা বাড়ছে মোটরসাইকেলের

মাসুদ রুমী   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বহুমুখী ব্যবহারে চাহিদা বাড়ছে মোটরসাইকেলের

দেশে মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং, পার্সেল সার্ভিস,   ই-কমার্স ডেলিভারিসহ নানা ব্যাবসায়িক কাজেও বাড়ছে দুই চাকার এই বাহনের চাহিদা। ফলে চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই বাজারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তবে চীন থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আর এর প্রভাবে মোটরসাইকেলের প্রবৃদ্ধির গতিও কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তাঁরা জানান, ২০১৫ সালে মোটরসাইকেল বিক্রি দুই লাখের নিচে ছিল। বাংলাদেশের বাজারে থাকা দেশি-বিদেশি প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান ২০১৭ সালে প্রায় পৌনে চার লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি করে, যা ছিল ২০১৬ সালের থেকে প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে তা বেড়ে সাড়ে পাঁচ লাখে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে বেশি বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ সিসির মোটরসাইকেল। সংখ্যার দিক দিয়ে মোট বিক্রির ৪১ শতাংশের মতো ছিল কম সিসির মোটরসাইকেলের দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ১৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেল। সংখ্যার দিক দিয়ে মোট বাজারের ৩২ শতাংশ বিক্রি হয়েছে উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেল। মাঝারি ১২৫ সিসি ক্ষমতার মোটরসাইকেলের বাজার ছিল মোট বিক্রির ২৭ শতাংশ। ১৫০ বা তার চেয়ে বেশি সিসির মোটরসাইকেলে বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ শতাংশ। তবে চলতি বছর শেষে মোটরসাইকেলের প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখিতা কিছুটা কমবে।

দেশে মোটরসাইকেলের বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাজাজ, টিভিএস, ইয়ামাহা, হিরো, হোন্ডা, সুজুকি ও মাহিন্দ্রা। ক্রমেই বাজারে অবস্থান শক্ত হচ্ছে দেশি ব্র্যান্ড রানার, যমুনা ও রোড মাস্টারের। প্রতিষ্ঠিত প্রায় সব ব্র্যান্ডই দেশে কারখানা স্থাপন করেছে। এ ছাড়া কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানের ডায়াং, জংশেন, হিরো পাওয়ার মোটরসাইকেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আছে কোরিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশের আমদানি করা মোটরসাইকেল।

উত্পাদনকারীরা জানান, আগে দেশের বাইরে থেকে সম্পূর্ণ ফিটিং করা মোটরসাইকেল আমদানি করা হতো। এতে আমদানি শুল্ক গুনতে হতো প্রায় ১৮১ শতাংশ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বাইরে থেকে ইঞ্জিন ও যন্ত্রপাতি আমদানি করে দেশেই সেগুলো সংযোজন শুরু করেছে। এর ফলে সেসব মোটরসাইকেলে আমদানি শুল্ক দিতে হচ্ছে ৮৯ শতাংশ। তবে দেশে মোটরসাইকেল বিক্রিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০১৬ সাল থেকে। উত্পাদনের শর্ত যুক্ত করে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেয়। ফলে কম্পানিগুলো দেশে কারখানা স্থাপন করে বাজারে মোটরসাইকেলের দাম কমানোর সুযোগ পায়। পরের তিন বছর এই বাজারে উল্লম্ফন ঘটে।

মোটরসাইকেলের বাজারে শীর্ষ ভারতের বাজাজ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল। দেশে উত্পাদন ও সরবরাহকারী উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের নীতি সহায়তায় দেশে মোটরসাইকেলের বাজার বাড়ছে। আমরা মানুষের মোটরসাইকেল ক্রয়ে নানা সুবিধা দিচ্ছি। ঢাকার সাভারের জিরানীতে নিজস্ব কারখানায় মোটরসাইকেল উত্পাদন করছি। এতে দাম কিছুটা কমেছে।’

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল বিক্রি বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো এখন বিনা সুদে অথবা স্বল্প সুদে মাসিক কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার সুযোগ। এমনকি কোনো ধরনের ডাউনপেমেন্ট ছাড়াই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে সমান মাসিক কিস্তি সুবিধায় কেনা যাচ্ছে বাইক। আর সে কারণে তরুণরা খুব সহজেই মোটরসাইকেল কিনতে পারছেন। এ ছাড়া রাইড শেয়ারিং অ্যাপসগুলোর কারণেও মোটরসাইকেলগুলো বিক্রির পরিমাণ বেড়ে গেছে অনেকখানি। পাশাপাশি ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসা ই-কমার্স এবং এফ-কমার্সে (ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা) ডেলিভারিতে বড় ভূমিকা রাখছে মোটরসাইকেল। পাঠাও, মুভ, স্যাম, উবার-মটো, ইজিয়ার, ওভাইয়ের মতো রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলোতে দিন দিন বাড়ছে নিবন্ধিত বাইকচালকের সংখ্যা। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ কিস্তিতে মোটরসাইকেল ক্রয় করে রাইড শেয়ারের মাধ্যমে আয় করেই পরিশোধ করছে মাসিক কিস্তির টাকা।

রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস দীর্ঘায়িত হলে মোটরসাইকেল বিক্রিতে প্রভাব পড়বে। আমরা প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নানা রকম পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, দেশে অটোমোবাইল শিল্প গড়ে তুলতে হলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভেন্ডর শিল্পেরও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। টু হুইলার উত্পাদকরা যাতে স্থানীয় ভেন্ডরদের কাছ থেকে যন্ত্রাংশ কেনে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব ভেন্ডর গড়ে উঠেছে সেগুলো ভালোভাবে চলছে না। কারণ সব শিল্প মালিক এদের থেকে পণ্য কিনছে না। এ বিষয়ে সরকারি কোনো আইন বা নীতিমালা না থাকায় এমনটি হচ্ছে। তা ছাড়া সিকেডির সংজ্ঞা নির্ধারণে জটিলতা থাকায় শিল্প মালিকরা দেশি কম্পানির পণ্য কিনতে বাধ্য নয়। সরকার এসব জটিলতার নিরসন করছে না। সময়ের ব্যবধানে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা রাখি।

মন্তব্য