kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

একুশের প্রথম

শামসুজ্জামান খান   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বাংলা একাডেমি এবার একুশে একটা নতুন স্লোগান দিয়েছে : ‘একুশ আমাদের পরিচয়’। স্লোগানটি জনপ্রিয় হয়েছে। ‘একুশ আমাদের পরিচয়’—কথাটার মানে কী? কথাটাকে নিয়ে অনেক কিছু লেখা যায়, বলা যায়। কিন্তু সহজ করে বলা কঠিন হয়ে ওঠে। এর অর্থ হয়তো আমরা যা এবং যা হতে চাই, তাই একুশ। অর্থাৎ আচার, আচরণ, স্বভাব, কাজ করার ধরন, চিন্তা-ভাবনার বৈশিষ্ট্য, জীবন-যাপনের পদ্ধতি—যা কিছু আমাদের নিজস্ব, তার সৌন্দর্যটুকু বজায় রাখা এবং তাকে আরো সুন্দর ও নতুন করার প্রয়াসই একুশ; এবং এতেই আমাদের পরিচয়। এই পরিচয়টা এখনো একটা ফুটন্ত গোলাপের মতো আমাদের মন কেড়ে নিতে পারেনি। কিন্তু পারবে, একদিন পারবেই।

আমরা যে জাতি হিসেবে বাঙালি; একুশই আমাদের এ কথা জোর দিয়ে বলার শক্তি দিয়েছে। একুশ আরো শিখিয়েছে ‘সকল ভাষাই সমান মর্যাদা’। কোনো ভাষা যত ছোটই হোক তাকে খাটো করে দেখা অন্যায়। তাই আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব অবিকশিত জাতি আছে—যাদের অনেকে বাংলা দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলে—তাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও নিজস্ব জীবনধারার বিকাশ হোক; এটা আমরা চাই। কারণ এটা একুশের শিক্ষা।

একুশে তো বিশাল, মহান এবং বোধ করি ‘অমর’। আসলে আমাদের প্রাণভোমরাই একুশে। একুশে বলে : জাতি হিসেবে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ বাঙালি। একুশ বলে : বাংলাদেশে আরো অনেক অবিকশিত জাতি আছে—যারা সমান সুযোগ-সুবিধা পেলে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য সৃষ্টি নিয়ে বাংলাদেশের বৃহৎ সংস্কৃতিতে আরো নতুন সম্পদ যোগ করবে। যেমন করেছে সোভিয়েত ইউনিয়নের দাগেস্তান, কিরগিজিয়া বা অন্য কয়েকটি অঞ্চলের মানুষ। তাদের কোনো বর্ণমালাই ছিল না—এখন তাদের শুধু বর্ণমালা নয়; এক চমৎকার সাহিত্য ও সংস্কৃতির অধিকারী তারা। রুশ বিপ্লব এটা সম্ভব করেছে। ফলে দাগেস্তান থেকে বেরিয়েছে রসুল হামজাতোফের মতো মহান সাহিত্যিক, আর কিরগিজিয়ার চারণকবিদের মুখে মুখে বেঁচে থাকা হাজার বছরের পুরনো মহাকাব্য ‘মানাস’।

তানজানিয়ায় বিদেশি ভাষাই ছিল প্রধান। এখন সেখানকার কবি-সাহিত্যিকরা চর্চা করছেন মাতৃভাষা সোহেলীর। স্বাধীনতা ও জনগণের চেষ্টায় সোহেলীর মতো ভাষাও এখন কত উন্নত হয়েছে। সে দেশের রাষ্ট্রপতি জুলিয়াস নায়ায়েরে স্বয়ং মাতৃভাষা সোহেলীতে শেকসপিয়ারের বিপুল রচনার অনুবাদ করেছেন।

বিদেশের কথা না হয় বাদই দিলাম। দেশের কথাই বলি। বাংলা একাডেমিতেই একবার অনুষ্ঠান করে গেছে ময়মনসিংহের গারোরা। সে অনুষ্ঠান দেখে মনে হয়েছে, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বলে তাদের উপেক্ষা করা অন্যায়। তাদের অনুষ্ঠানে ছিল উন্নত কল্পনাশক্তি, রুচি ও অপরূপ সৌন্দর্য; এমনকি একুশের ওপরে লেখা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর অমর গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ তারা গারো এবং বাংলা ভাষায় পরিবেশন করে। সে উপস্থাপনা, বলতে দ্বিধা নেই, আমরা যেভাবে একুশের গান গাই, কোনো কোনো দিক থেকে ছিল তার চেয়ে তাৎপর্যময়, ব্যঞ্জনাধর্মী। ঠিক এমনি করে বলা যায় চাকমা, মারমা বা অন্য অবিকশিত জাতি সম্পর্কে।

একুশের ইতিহাসের কথা বলতে চেয়েছি। তার মধ্যে কি অন্য কথা বলছি? না, তা বলছি না। বলছি ইতিহাসের ধারার কথা। ইতিহাসের পটভূমির কথা। একুশে তো সাধারণ ঘটনা নয়, তাই একে বুঝতে গেলে ইতিহাসের উজ্জ্বল পৃষ্ঠাগুলো একটু নাড়াচাড়া করে নেওয়া ভালো।

ইতিহাস ও নৃতত্ত্ব শেখায়, দেহের গঠনে, চুলের বৈশিষ্ট্যে, মাথার খুলির ধরনে, রক্তের ধারায় আমরা বাঙালি এবং বাঙালিই; সেই সঙ্গে এটাও সত্য যে আমরা ‘মানুষ’, আমরা দেশপ্রেমিক এবং বিশ্বনাগরিক। নিজ সংস্কৃতি আমাদের প্রিয়, কিন্তু পৃথিবীর সংস্কৃতির যা কিছু সেরা জিনিস তা-ও আমাদের বুকের ভেতর রাখার মতো ধন। এই দুইকে মিলিয়ে বিজ্ঞানের কষ্টিপাথরে যা টেকায় তার সবটাই আমার আপন, সবটাই আমার নিজস্ব। সে জন্যই তো কবি বলেন : ‘সারা জাহা হামারা’ অর্থাৎ ‘সারা পৃথিবীটাই আমার।’

এই সব কথা অন্য সময়ে আরো বিশদভাবে বলব। এখন বলি একুশের কটি প্রধান ঘটনার ইতিহাস। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় যে ঐতিহাসিক ছাত্রসভা হয়, তাতে সভাপতি ছিলেন গাজীউল হক। এখন তিনি একজন বিখ্যাত আইনজীবী, লেখক ও সংস্কৃতিসেবী। সেই সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাধারণ ছাত্রদের চাপেই এটা করা হয়। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের আহ্বায়ক আবদুল মতিন প্ল্যান দেন একসঙ্গে মিছিল না করে ১০ জন করে ছোট দল এগিয়ে যাবে চুয়াল্লিশ ধারা ভাঙার জন্য। তাই করা হলো। ১০ জন করে এক একটি দলের নাম লিখেছিলেন মরহুম মোহাম্মদ সুলতান। এই দলে প্রথম নাম লেখালেন জলিল সরকার। আর দলনেতা হলেন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান শেলী। তাঁর নেতৃত্বে ৪৪ ধারা ভাঙার জন্য ১০ জনের একটি দল গলা ফাটিয়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে গেল। পর পর ১০ জনের আরো কয়েকটি দল। পঞ্চম দলে থাকলেন মেয়েরা। এঁদের মধ্যে ছিলেন সুফিয়া ইব্রাহিম, শাফিয়া খাতুন, রওশন আরা প্রমুখ। হাবিবুর রহমান সাহেব তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন : ‘বেলা তখন সোয়া একটা। উত্তেজনায় সারা গা থেকে তখন আগুনের তাপ বের হচ্ছে।’...

কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এঁদের গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা হাজতে রাখে। ৪৪ ধারা প্রথম ভঙ্গকারী তৎকালীন ছাত্রনেতা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি নামকরা বিচারপতি ও যশস্বী লেখক। একুশে ফেব্রুয়ারি ঠিক কখন কিভাবে গুলি করা হয় তার নিখুঁত বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে মরহুম হাসান হাফিজুর রহমান তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন : ‘কলেজের (মেডিক্যাল কলেজ) গেটে আমি দেড়টার দিকে পৌঁছে দেখি ছেলেরা ঢিল ছুড়ছে। এবং আমার যত দূর মনে হয় সেখানে পৌঁছানোর মিনিট পনেরো পরেই গুলিটা হয়।’ কেউ কেউ বেশ জোর দিয়ে বলেন, গুলি হয়েছে আরো পরে, আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে আর প্রথম শহীদ হন জগন্নাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র রফিকউদ্দিন আহমেদ। খোঁজখবর নিয়ে দুটি তথ্যকেই আমার নির্ভরযোগ্য মনে হয়েছে।

২১ ও ২২ তারিখে আর যাঁরা শহীদ হন তাঁরা হলেন—সালাম, বরকত, শফিউর রহমান ও কিশোর অহিউল্লাহ্।

হাসান হাফিজুর রহমান ভাষা আন্দোলনে একজন নেতৃস্থানীয় কর্মীই শুধু ছিলেন না; তিনি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে গুলি হওয়ার তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে একুশের প্রথম লিফলেট লেখা ও ছেপে আনার দায়িত্ব তিনিই পালন করেন। এ সম্পর্কে তিনি লিখছেন : ‘আমি আমীর আলী (এখন লন্ডনপ্রবাসী), আর একজন আমার সঙ্গে ছিল—আমরা তিনজন মধুর ক্যান্টিনে ফিরে আসি এবং জেলখানার উল্টো দিয়ে ক্যাপিটাল প্রেসে চলে যাই। সেখানে বসে একটা লিফলেট লিখি। এ সময় আমি স্বেচ্ছায় লিফলেট লেখার কথা চিন্তা করে প্রেসে যাই। সেখানে ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে প্রুফ দেখে লিফলেটটি ছাপিয়ে আনি। প্রেসটি সেদিন আমাদের সর্বাত্মক সহায়তা করেছিল।

৪টা-সাড়ে ৪টার দিকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসি। লিফলেট প্রায় দু-তিন হাজার ছিল। চকবাজার, নাজিরাবাজার ও বিভিন্ন দিকে লিফলেটগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়।’ রফিকুল ইসলামও লিফলেট লেখার সময় হাসান হাফিজুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন বলে এক সাক্ষাৎকারে বলেন। আর একজন সম্ভবত তিনিই অর্থাৎ ড. রফিকুল ইসলাম।

একুশের প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ও সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে পুঁথিপত্র প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়। প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মরহুম মোহাম্মদ সুলতান। সংকলনটি পরে সরকার বাজেয়াপ্ত করে।

একুশের প্রথম কবিতা রচিত হয় চট্টগ্রামে। কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী। তখন তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক কর্মী; ‘সীমান্ত’ নামের বিখ্যাত পত্রিকার সম্পাদক এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক।

বাংলাদেশের যেকোনো শিশু-কিশোরও এখন জানে যে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ই অমর একুশের গান। তবে এটি কিন্তু একুশের প্রথম গান নয়। একুশের প্রথম গান লেখেন এবং প্রথমবারের মতো গান জনাব গাজীউল হক। ১৯৫৩ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে (তখন সেখানেই জনসভা হতো) আয়োজিত জনসভায় গানটি প্রথম গাওয়া হয়। এ সম্পর্কে গাজীউল হক তাঁর স্মৃতিচারণায় বলেছেন : ‘সভায় জনাব শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধে ভাষা আন্দোলনের ওপর লেখা আমার গানটি আমাকে গেয়ে শোনাতে হয়। এখানে বলা প্রয়োজন, ১৯৫৩-৫৪-৫৫ সালে যে গানটি গেয়ে প্রভাতফেরি করা হতো সে গানটি লিখেছিলাম আমি। গানটির প্রথম লাইন ছিল, ‘ভুলবো না, ভুলবো না একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না।’ সময়ের প্রয়োজনে এই গানটি লিখেছিলাম। পরবর্তীকালে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত এবং আলতাফ মাহমুদ সুরারোপিত গানটি এ দেশের মানুষ গ্রহণ করে এবং আজ পর্যন্ত সে গানটাই প্রভাতফেরিতে গাওয়া হয়ে থাকে।

‘কবর’ নাটকটি এখন শিক্ষিত বাঙালির ঘরে ঘরে পরিচিত। এটিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম নাটক। নাটকটি লিখেছিলেন আমাদের দেশের সেরা অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিক-নাট্যকার মুনীর চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে আমাদের স্বাধীনতা যখন দোরগোড়ায় এসে গেছে সেই সময় ১৯৭১-এর ১৪ ডিসেম্বর স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদররা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। এই মহান শহীদের লাশটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ভাষা আন্দোলনের ওপর লেখা প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’। পঞ্চাশের দশকে এটি একটি পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল, উপন্যাসটি বই আকারে বের হয় ১৯৬৯-এ। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের ওই বছরই জহির রায়হান নির্মাণ করেন তাঁর বিখ্যাত সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’। এ বছর বাংলা একাডেমি বায়ান্নর একুশের কর্মতৎপরতায় ভরপুর জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’সহ একুশের ওপরে লেখা আরো দুটি উপন্যাস, শওকত ওসমানের ‘আর্তনাদ’ এবং সেলিনা হোসেনের ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ নিয়ে একত্রে প্রকাশ করেছে একুশের প্রথম উপন্যাস সংকলন ‘একুশের উপন্যাস’।

শহীদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্যই শহীদ মিনার নির্মাণের কথা চিন্তা করা হয়। একটা আকস্মিক চিন্তা থেকেই শহীদ মিনার তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। এর পরিকল্পনা কারো একার না, অনেকের। শহীদ মিনারের একটা নকশাও তড়িঘড়ি করে তৈরি করা হয়। নকশা করেন মেডিক্যাল কলেজের তখনকার ছাত্র সাঈদ হায়দার (বর্তমান ডাক্তার সাঈদ হায়দার) ও বদরুল আনম। ২২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকেই শহীদ মিনার কেমন হবে, কিভাবে নির্মাণ করা হবে—এসব কথা ভাবা হতে থাকে। বায়ান্নর ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু হয়। কারফিউয়ের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজের লাগোয়া বর্তমান শহীদ মিনারের কাছেই নির্মাণ করা হয় ভাষাশহীদদের উদ্দেশে প্রথম স্মৃতির মিনার। ছাত্ররাই ইট এনে বালির সঙ্গে সিমেন্ট মিশিয়ে দুজন ওস্তাগারের সাহায্যে রাতারাতি তৈরি করেন একুশের প্রথম শহীদ মিনার। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর শিল্পী হামিদুর রহমান বর্তমান শহীদ মিনারের নকশা করেন। আর এতে শিল্পী নভেরা আহমদের ভাস্কর্যও যুক্ত হয়। নানা সময়ে নানা পরিবর্তনে হামিদুর রহমানের মূল নকশা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। একাত্তরের ২৫শে মার্চের রাতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় মিনারটি। স্বাধীনতার পর নতুন করে এটি নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু হামিদুর রহমানের বিখ্যাত ম্যুরালচিত্র ও অন্যান্য পরিকল্পনা বর্তমান মিনারে নেই। বর্তমান মিনারে আছে মাঝখানে একটু মাথা নোয়ানো একটি বড় স্তম্ভ আর দুই পাশে দুটি করে চারটি ছোট স্তম্ভ। হামিদুর রহমান এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে ‘মা অর্থাৎ বড় স্তম্ভটি তার মাথা একটু বাঁকা করে তাঁর চারজন ছেলেকে (যাঁরা শহীদ হয়েছেন) আঁচলের আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছেন। মা বাংলাদেশ আর ছেলেরা বাংলাদেশের—সব মানুষের প্রতীক।’