kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

‘মা,তোমার ছেলে তো জজ হয়ে গেছে’

সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে গোলাম রসুল সুইটের জীবন। কোনো প্রতিবন্ধকতা তাঁকে আটকাতে পারেনি। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন সহকারী জজ হিসেবে। তাঁর সংগ্রামমুখর জীবনের গল্প শুনেছেন মাসুদ রানা ও পিন্টু রঞ্জন অর্ক

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



‘মা,তোমার ছেলে তো জজ হয়ে গেছে’

সহকারী জজ হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে মা-বাবার সঙ্গে গোলাম রসুল সুইট

সাতক্ষীরার দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের কোমরপুরে আমার জন্ম। বাবা মোশারফ হোসেন, মা মাহফুজা খাতুন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আমি বড়।

 

শুধু নাই আর নাই

বুঝতে শেখার পর থেকে দেখতাম আমাদের সংসারে শুধু নাই আর নাই। বাবা সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন। অন্যদিকে আম্মার অভিধানে ‘অবসর’ বলে কোনো শব্দ ছিল না। ফজরের আজানের পর মাকে কোনো দিন বিছানায় থাকতে দেখিনি। সারা দিন কাজকর্ম সেরে আবার বিছানায় ফিরতেন রাতে। ছোটবেলায় মায়ের কাছে এটা-ওটা বায়না ধরতাম; কিন্তু প্রাইমারি স্কুলে থাকতেই বুঝে গিয়েছিলাম, আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। তখন থেকেই মা পরের বাড়িতে কাজ শুরু করেন। গ্রামে নারীদের কাজকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হতো না। ফলে পারিশ্রমিকও কম দেওয়া হতো। তবু আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে যেতেন মা।

 

কাউকে বুঝতে দিইনি

আমরা দুই ভাই পিঠাপিঠি। মা অন্যের বাড়ি থেকে প্লেটভর্তি ভাত নিয়ে আসতেন। সেটা দুজন মিলে খেতাম। তা ছাড়া দুপুরের বেশির ভাগ সময় স্কুলে কাটত। সে সময় স্কুলে এনজিও থেকে বিস্কুট দেওয়া হতো। সেই বিস্কুট খেয়েই দুপুর কাভার। এমনও দিন গেছে, দুপুরে ঘরে রান্না হয়নি। আমি আর ছোট ভাই সারা দিন না খেয়ে মাঠে বসে খেলা দেখেছি। কাউকে বুঝতে দিইনি। স্কুলবেলায় নতুন জামা পরার স্মৃতি খুব বেশি নেই। ঈদের সময় ফিতরার টাকা পেতাম। সেটা দিয়ে গাইড ও স্কুলড্রেস কিনতাম। বাবাও কিছু টাকা দিতেন। তখনো আমাদের এলাকায় বিদ্যুত্ আসেনি। বেশির ভাগ সময় দিনের বেলা পড়তাম। পরীক্ষার আগে সকালবেলা পড়তাম। আমাকেও ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন মা। তখন থেকেই বুঝতাম সকালে উঠে পড়তে হবে। মা সব সময় বলতেন, ‘আমার ছেলে বড় চাকরি করবে। তখন পরিবারে শান্তি আসবে।’

 

প্রাথমিক স্কুল থেকে মাদরাসায়

এত কিছুর মধ্যেও পড়ালেখায় কখনো ভাটা পড়েনি। যা পড়তাম মনে থাকত। শাখরা কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। ক্লাসে সব সময় প্রথম হতাম। প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হলাম মাদরাসায়। স্কুল থেকে মাদরাসায় যাওয়ার কারণ সেই খরচাপাতি। মা বোঝালেন, ‘মাদরাসায় পড়লে তেমন খরচ হবে না। বই, নোট কেনা লাগবে না।’

 

ইব্রাহীম ও জাকিরুল আমার বন্ধু

মাদরাসায় ইব্রাহীম ও জাকিরুল নামে দুজন বন্ধু ছিল। আমি ক্লাসে প্রথম ছিলাম। তারা দুজন আমার সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করত। তখন ছয় মাস প্রাইভেট পড়লে বন্ধুরা চার মাসের টাকা দিয়ে দিত। মাদরাসায় পড়ার সময় একটা কি দুইটা পাঞ্জাবি ছিল আমার। পাঞ্জাবির পেছন দিকে ছিঁড়ে গেলে দরজির দোকান থেকে সেলাই করে নিতাম। একবার ঈদের সময় চাচা তাঁর ছেলে-মেয়েদের নতুন জামাকাপড় কিনে দিয়েছেন; কিন্তু আমার কোনো নতুন পোশাক নেই। খুব খারাপ লেগেছিল সেইবার। আমার মন খারাপ দেখে ইব্রাহীম একটা গেঞ্জি (টি-শার্ট) কিনে নিয়ে আসে। সেটা পরেই সেইবার ঈদগাহে গিয়েছিলাম। আমার খালাতো ভাইদের ব্যবহূত পোশাক আমাকে দিত। বলা যায়, স্কুলবেলাটা অন্যের দেওয়া জামাকাপড় পরেই কেটেছে। এখনো মনে আছে, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম নতুন প্যান্ট পরেছি। মাদরাসায় বিভিন্ন প্রগ্রাম হতো। এ রকম প্রগ্রামের জন্য পাঁচ টাকা, ১০ টাকা চাঁদা ধরা হতো। সেটা দেওয়া আমার জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে যেত। একবার ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একটা প্রগ্রামের জন্য চাঁদা দিতে পারিনি। বাড়িতে কাঁদছি দেখে এক আত্মীয় সেই টাকা দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেলাম। তারপর সখীপুর খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজে ভর্তি হলাম। ফুফু সেইবার ভর্তির টাকা দিয়েছিলেন।

 

আমার ছেলেকে ভাত দিতে পারলাম না

প্রথম বর্ষে নিয়মিতই ক্লাস করতাম। তখন আমাদের পরিবারের অবস্থা আরো করুণ। বাড়ি থেকে কলেজ ১২ কিলোমিটার দূরে। সাইকেলে যেতাম। কলেজে যেতে-আসতে আট টাকা ভাড়া লাগত। দু-এক দিন গাড়িতে যেতে ইচ্ছা করলেও টাকার জন্য সে সাধ মিটত না। একবারের কথা মনে আছে। তখন রমজান মাস। মা দিনভর মাঠে কাজ করতেন। একদিন ইব্রাহীম আমাদের বাড়িতে এলো। রাতে থাকবে। ঘরে সাহ্ রি করার মতো কোনো খাবার নেই! কিন্তু এটা বলতেও পারছিলাম না। আরেক দিন আমার ভাত খাওয়া প্রায় শেষ। 

মায়ের সঙ্গে সেলফিতে

তখন বাইরে থেকে ছোট ভাই এসে ভাত খেতে চাইল; কিন্তু হাঁড়িতে আর ভাত নেই। মায়ের চোখে তখন অঝোর ধারায় জল। কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, ‘আমার ছেলেকে ভাত দিতে পারলাম না।’

 

দ্বিতীয় বর্ষে আর ক্লাস করা হলো না

কলেজে ইংরেজি প্রাইভেট পড়তাম; কিন্তু স্যারকে ঠিকঠাক টাকা দিতে পারছিলাম না। কারো কাছে চাইব সে উপায়ও নাই। বুঝলাম, আমাকেই রোজগার করতে হবে। আমাদের বাসা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভোমরা স্থলবন্দর। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষে সেখানে কাজ নিলাম। হাজার দেড়েক পেতাম। সব সংসারে ব্যয় করতাম। দ্বিতীয় বর্ষে আর ক্লাস করতে পারিনি। ফলে স্যার পরীক্ষা দিতে দেবেন না। বললেন, ‘ও তো ক্লাস করেনি। পাস করবে কী করে?’ অনেক অনুনয়-বিনয়ে স্যারের মন গলল। শর্ত হলো টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে দুই হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। পাস করলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। যাহোক, টেস্টে সব বিষয়ে পাস করলাম। ২০০৯ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.১০ পেয়েছিলাম। এর মধ্যে এক বছর আর পড়ালেখা হয়নি।

 

তুই কী করবি?

আমাদের ক্লাসের সেকেন্ড বয় হাবিবুর রহমান জিপিএ ৫ পেয়েছিল। ঢাকায় কোচিং করত। সে আমাকে বলল, ‘আমি তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেব। তুই কী করবি?’ আমি ওর কাছ থেকে কিছু শিট নিয়েছিলাম। এরই মধ্যে ২০০৯ সালে জাতীয় শোকদিবসে সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে রচনা প্রতিযোগিতার। এতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করি। পুরস্কার হিসেবে অনেক বই পেয়েছিলাম। সেখানে ফোরকান আলী নামে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। সব শুনে তিনি কোচিংয়ে ভর্তি হতে বললেন। তাঁর পরামর্শে ঢাকায় গিয়ে কোচিং করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

 

গরুটিও বেচে দিলেন

মাকে সব খুলে বলি। মা একটি গরু পালতেন। সেটা ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিলেন। সে টাকা দিয়ে ২০১০ সালের মে মাসে রাজধানীতে একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলাম। সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে মেসে থাকতাম। ফার্মগেটে এসে কোচিং করতাম; কিন্তু মাস দুয়েকের মধ্যে সব টাকা ফুরিয়ে যায়। বাড়িতে যে টাকা চাইব সে উপায়ও নেই। এ অবস্থায় ফিরে আসা ছাড়া উপায় কি? পরে মোবাইল ফোনটাও বেচে দিলাম দুই হাজার ৮০০ টাকায়; কিন্তু এতে আর কয় দিন চলে! সাভারে নাহিদ ভাই নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তিনি  জাহাঙ্গীরনগরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়তেন। একদিন তাঁর রুমে গেলাম। সব কিছু খুলে বললাম। তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। কোচিংয়ের শেষদিকে এসে সকাল আর দুপুর মিলিয়ে একটা রুটি খেতাম। আর রাতে সবজি দিয়ে ভাত খেতাম। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে থাকি।

 

তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলাম

যাহোক ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে ১১তম হলাম। সবার পরামর্শে সেখানে আইন বিভাগে ভর্তি হলাম। আমার এক খালাতো ভাই বিদেশে থাকত। সে ভর্তির টাকা দিয়েছিল।

 

ভর্তি তো হলাম। এরপর?

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর শুরু হলো নতুন সংগ্রাম। কিভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাব—এটাই যেন বিরাট চ্যালেঞ্জ। শুরু হলো টিউশনি খোঁজা। অনেককে বলেছি; কিন্তু মিলছিল না। পরে ‘পড়াতে চাই’ শিরোনামে লিফলেট ছাপালাম। ক্যাম্পাসের আশপাশের স্কুল-কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে অভিভাবকদের হাতে হাতে সেটা বিলি করলাম। এভাবে একটি টিউশনি জোগাড় হয়ে যায়। বেতন এক হাজার ৫০০ টাকা। কয়েক দিনের মধ্যে আরো কয়েকটি টিউশনি জোগাড় হয়ে গেল। এভাবেই মেস খরচ ও পড়ালেখা চলতে থাকল। গণরুমের মতো একটি মেসে থাকতাম। সেখানে ১০০ টাকার মতো ভাড়া লাগত। কয়েক মাস পর মা ঢাকায় চলে আসেন। ভাটারায় থাকতেন। এখানেও মা বাসাবাড়িতে আর বাবা নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করতেন। মা বলতেন, ‘‘ছেলে ল’য়ে পড়ে। বেকার থাকবে না। উকিল হবে।’’

এক সঙ্গে চার বন্ধু। ইমরান, মহসিন হাসান, আশিকুর রহমান ও গোলাম রসুল। চারজনই সহকারী জজ

 

ঈদে বাড়ি যাওয়া হতো না

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি সেমিস্টারে ভর্তি ও পরীক্ষার ফি অনেক বেশি। এটা দিতে হিমশিম খেতে হতো। এই শহরে ঈদের সময়টা খুব নিঃসঙ্গ লাগত। ওই সময় বাড়ি যেতে অনেক খরচ। ফলে ঈদে খুব একটা বাড়ি যাওয়া হতো না। বন্ধুরা সবাই চলে যেত। মেসে আমি একা। তখন ভাবতাম, আমার একদিন সুদিন কাছে আসবে। ২০১৫ সালে সিজিপিএ ৩.২৫ পেয়ে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে সিজিপিএ ৩.১৩ পেয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করি। স্নাতক শেষে চাকরির প্রস্তুতি শুরু করি। মাস্টার্স শেষ হওয়ার পর মাকে গ্রামে পাঠিয়ে দিলাম। তখন থেকে মা বাড়িতে থাকেন। আর অন্যের বাড়িতে কাজ করতে দিইনি। বাবাকেও এখন আর  রাত জেগে অন্যের বাড়ি পাহারা দিতে হয় না। তত দিনে আমার ছোট ভাই আমিরুল ইসলাম সুমন বিদেশে চলে গেছে। আমার চাকরির পরীক্ষা, খরচাপাতিও সে দিত।

 

জুডিশিয়াল সার্ভিসে পরীক্ষা দিলাম

২০১৭ সালে দশম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। এতে আমি ও আমার চার বন্ধু ভাইভার জন্য নির্বাচিত হই। পরে চারজনের চাকরি হয়ে গেল। একজন বাদ পড়ে গেল। সেই হতভাগা আমি। একইভাবে ১১তম জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায়ও ভাইভা থেকে বাদ পড়লাম। তখন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে যেতে থাকলাম। সারা দিন কাজ করতাম আর সন্ধ্যায় টিউশনি করতাম। এরই মধ্যে বন্ধুদের চাকরি হয়ে গেল। আমার কোনো গতি হলো না। তখন পড়ার টেবিলে বসে কান্নাকাটি করতাম; কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল—আমি পারব। মনে মনে নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিতাম। মনে মনে বলতাম, ‘আমাকে পারতেই হবে’। ২০১৮ সালে ১২তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিলাম। লিখিত, ভাইভার বৈতরণি ভালোমতো উতরে গেলাম।

 

আকাশও সেদিন কেঁদেছিল

২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি জজকোর্টে। এক বন্ধু ফোন দিয়ে বলল, ‘জুডিশিয়ারি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। তোর রোল নম্বরটা দে।’ একটু পরে জানাল, ‘অভিনন্দন, তুই তো সহকারী জজ হয়ে গেছিস।’ আমার চোখে তখন আনন্দাশ্রু। মাকে ফোন দিয়ে বললাম, ‘মা, তোমার ছেলে তো জজ হয়ে গেছে।’ শুনে মা কোনো কথা বলতে পারছিলেন না, শুধুই কাঁদছিলেন।

 

আর্তজনের বন্ধু হতে চাই

জানুয়ারির ২৮ তারিখ আমার স্বপ্ন পূরণের দিন। এ দিন সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করলাম পিরোজপুরে। যেদিন যোগদান করতে যাব, তার আগের দিন মা খুব কান্নাকাটি করছিলেন। বলেছিলেন, ‘বাবা, তুই গরিব মানুষের পাশে থাকিস। সারা জীবন সত্ থাকিস। ন্যায়বিচার করিস।’ আমি যে মহান দায়িত্ব পেয়েছি, সেটা সঠিকভাবে পালন করতে চাই। আমার বড়লোক হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। সমাজে যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।

আমি মনে করি কোনো মানুষ যদি সামনে এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে অর্থ কোনো বাধা নয়। কেউ যদি মনে জোর রেখে সামনে এগিয়ে যায়, তাহলে সে সফলতা পাবেই।

ছবি : সংগ্রহ

মন্তব্য