kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিশাল বাংলা

রেজাউল ইসলাম একজন কবি

কবিতাপ্রেমী রেজাউল ইসলাম থাকেন রাজশাহীর তানোরে। তিনি বই পড়তে ও কবিতা লিখতে ভালোবাসেন। টিপু সুলতান তাঁর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেজাউল ইসলাম একজন কবি

তাঁর বয়স এখন ৬৭। জীবনযুদ্ধে তিনি আজ ক্লান্ত। তবু কবিতা লেখা বন্ধ করেননি রেজাউল। অর্থের অভাবে নিজের লেখা কবিতা প্রকাশ করতে পারেন না। কোনো রকমে কম্পিউটারে কম্পোজ করে বইয়ের মতো বাঁধিয়ে নিজেই বিভিন্ন স্থানে দিয়ে আসেন। তাঁর লেখা এমন বইয়ের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৪টি। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বইয়ের নাম—আগুনের গান, ফোটা ফুলে নিশি, ভোরের শিশির, স্বর্ণরেখা, স্বর্ণহার, সুবর্ণা, গাঁয়ের মেয়ে, রক্তে রাঙা ফিলিস্তিন, কবরের কান্না ইত্যাদি। এলাকায় তাঁকে কবি বলেই সবাই চেনে।

 

কবি পরিচয়

১৯৫২ সালে কবি রেজাউল ইসলাম রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার শান্তিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পিতা-মাতাসহ নানাবাড়ি কালীনগরে চলে যান। তাঁর পিতার নাম শমসের আলী মোল্লা, মায়ের নাম পদ্ম বিবি। ১৫ বছর সেখানে বসবাস করার পর সপরিবারে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসেন। শৈশবের স্মৃতিমাখা কালীনগর গ্রাম ছেড়ে আসতে তাঁর অনেক কষ্ট হয়েছিল। তাই আসার সময় কেঁদেছিলেন কবি। কিছুতেই ভুলতে পারছিলেন না কালীগ্রামের সবুজ মাঠ, বিলে ফোটা শাপলা বা দিগন্তজোড়া ফসলের ঢেউয়ের কথা। তিনি পড়াশোনাও করেছিলেন কালীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত সব ছেড়ে জন্মভূমি শান্তিপাড়ায় চলে আসতেই হয়। ভর্তি হন চকগোবিন্দ হাই স্কুলে। সেখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে ১৯৭২ সালে হাটগাঙ্গোপাড়া হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। আইএ পাস করেন ১৯৭৪ সালে তানোর কলেজ থেকে। মুক্তিযুদ্ধ কাছ থেকেই দেখেছেন কবি রেজাউল। তখন মানুষের দুর্দশার শেষ ছিল না। গভীর রাতে বোমা আর গ্রেনেডের বিকট শব্দে আঁতকে উঠেছে মানুষ। দিবালোকেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গাঁয়ের লোকদের ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে। মানুষ জঙ্গলে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে। ঘরবাড়ি পোড়ানোর দৃশ্য তিনি ভুলতে পারেন না। পাকিস্তানি সেনাদের নির্বিচারে মানুষ হত্যা তাঁকে আজও কাঁদায়। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসের সঙ্গে লড়তেও দেখেছেন কবি। স্মৃতিগুলো কবির হৃদয়ে জেগে আছে আজও।

 

পেশায় একজন কবিরাজ

১৯৮৬ সালে কবি আশরাফুল হক পলাশের ‘গ্রাম বাংলা’ পত্রিকার সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে জন্মভূমির মায়া ছেড়ে ধানের ও সারি সারি তালগাছের দেশ বরেন্দ্র ভূমি রাজশাহীর তানোরে কুঠিপাড়া গ্রামে চলে আসেন। ২০০০ সালে অসীম কুমারের ‘ধানসিঁড়ি’ নামের ত্রৈমাসিক পত্রিকায় সহ-সম্পাদকের কাজ করেন আর ২০১৫ সালে ‘বিলকুমারী’ পত্রিকায় সম্পাদকের কাজ করেন। তিনি আইয়ুব বিন সাবিদের প্রান্তর পত্রিকায় প্রচার সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ‘হরিবাসর’ নামের একটি কবিতা লেখার জন্য তানোর কলেজের অধ্যক্ষ নারায়ণচন্দ্র বিশ্বাস কবিকে ধ্রুবতারা উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন কবিরাজি চিকিৎসা করে। পড়ন্ত বেলায় এসে রেজাউল ইসলামের ইচ্ছা, কোনো একটি প্রকাশনী থেকে তাঁর কবিতাগুলো প্রকাশ করার। অর্থের অভাবে নিজে তা করতে পারছেন না।

 

কবিতাগুলো লেখার সময়

কবি রেজাউল ইসলাম যেখানে যান, সেখানকার কোনো কিছু চোখে পড়লে তা নিয়ে কবিতা লেখেন। যেমন ‘দক্ষিণ দুয়ার খোলা’ শিরোনামের কবিতাটি যখন লেখেন একটি মেয়ে তখন নিজ বাড়ির দরজায় আনমনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মেয়েটির বিষণ্ন মন দেখে কবিতাটি তিনি লেখেন। তারপর ‘আমার মন বলে’ নামের ২৬ লাইনের একটি কবিতার কথা বলা যায়। শরতে লেখা সে কবিতা। বিকেলবেলায় তিনি বিলকুমারী বিলের ধারে দাঁড়িয়ে হারানো প্রিয়ার কথা ভাবছিলেন। ভাবছিলেন প্রিয়া হয়তো সংসারের নানা কাজে ব্যস্ত আছে। তখন প্রিয়ার বিভিন্ন কাজের বিবরণ তুলে ধরলেন কবিতার মধ্যে। আরেকবার বসন্তে কোকিলের কুহু কুহু ডাক ভেসে আসছিল। তা শুনে ভোরবেলায় কবির ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। মন তাঁর আনন্দে ভরে গিয়েছিল। তিনি লিখেছিলেন ‘ফাল্গুনিপ্রভাতে’ কবিতাটি। উল্লেখ্য, কবি রেজাউল ইসলামের প্রথম যে কবিতাটি প্রকাশিত হয় তার নাম ‘ঝরা ফুল’। ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘গ্রাম বাংলা’য় তা প্রকাশিত হয়েছিল। সেটা ১৯৮৮ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে।     

ছবি : লেখক

মন্তব্য