kalerkantho

উদ্যমী বাংলাদেশ

একজন সাব্বীর আনসারী

টিনশেডের ছোট্ট একটি ঘর। চায়ের দোকান। সেখানেই শুরু। এখন নওগাঁ শহরের আটাপট্টিতে তাঁর পাঁচতলা ভবন। সাব্বীর হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট শহরের সব লোকের চেনা। ফরিদুল করিম সাব্বীরের সফল হয়ে ওঠার গল্প বলছেন

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একজন সাব্বীর আনসারী

ইদ্রিস আনসারী ও সায়রুন্নেছার বড় ছেলে সাব্বীর আনসারী। ১৯৭৪ সালে বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজে লাগেন। বাবার বানানো রুটি আর চা পরিবেশনের দায়িত্ব ছিল সাব্বীরের। কাপ-প্লেট ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করার কাজও করতেন। এভাবে চলে যায় ছয় বছর।

একদিন হঠাৎ

১৯৮০ সাল। এক ব্যবসায়ী পরিবারের জন্য একদিন বাবার পরামর্শ নিয়ে রান্না করতে বসেন। রান্না করেছিলেন ১০টি মুরগি আর দুই কেজি চালের পোলাও। কিন্তু কোনো কারণে ওই পরিবারটি সেগুলো নিতে আসেনি। সন্ধ্যার দিকে এলাকার মোস্তাক নামের এক যুবক চা-রুটি খেতে আসেন। পোলাও দেখে পরিবেশন করতে বলেন। সাব্বীর  তাঁকে পোলাও আর মুরগির মাংস খেতে দেন। খেয়ে খুবই প্রশংসা করেন মোস্তাক। সেদিন সাব্বীর হাফ প্লেট পোলাও আর হাফ প্লেট মুরগির মাংসের দাম ধরেছিলেন মাত্র ১৩ টাকা।

খাওয়া শেষ করে মোস্তাক দোকান থেকে চলে যান। কিছু সময় পরে আরো কয়েকজন বন্ধু নিয়ে ফিরে আসেন। তাঁরাও পোলাও-মুরগি খেতে চান। ওই দিন সাব্বীরের সব খাবার শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরের দিন সাব্বীর রুটির পাশাপাশি তিন কেজি চালের পোলাও এবং ১২টি মুরগি রান্না করেন। সেদিনও খাবার সব শেষ হয়ে যায়। দিন দিন তাঁর ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। দোকানে ১২ জনের বসার ব্যবস্থা করেন, যেখানে আগে বসতে পারত ছয়জন। নাম ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা গেল আসন না পেয়ে অনেকে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। লোকে বিরক্ত হয়ে কটু কথাও বলত। সাব্বীর মিষ্টি কথায় সব সামলে নিতেন।

 

ভবনটি পাঁচতলা

এখন সাব্বীর পাঁচতলা ভবন গড়েছেন। ভবনের দোতলায় হোটেল, তিনতলায় কমিউনিটি সেন্টার, চারতলায় গুদামঘর আর পঞ্চমতলায় রান্নার ব্যবস্থা। তাঁর হোটেলে এখন একসঙ্গে ৫৬ জন লোক বসে খেতে পারে।  ২০১২ সাল থেকে মিষ্টি আর দইও বিক্রি করছেন। তাঁর দই-মিষ্টিও জনপ্রিয়। তাঁর রেস্টুরেন্টে এখন কর্মচারীর সংখ্যা ২০-২২ জন। সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতেও খাবার সরবরাহ করে থাকেন সাব্বীর। রমজান মাসে ইফতারের জন্য নানা পদের খাবার তৈরি করে থাকেন। সাব্বীর বলছিলেন, ‘এখনো সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হোটেলে সময় দিই। প্রয়োজনে নিজেই কর্মচারীদের সঙ্গে খাবার পরিবেশন করি। ২০১৮ সালে মানসম্মত খাবার ও পরিচ্ছন্নতার জন্য জেলার সেরা হোটেলের পুরস্কার পেয়েছি জেলা প্রশাসন থেকে।’ আরো বললেন, ‘সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম আমাকে এত দূর নিয়ে এসেছে। আমার তিন ভাই আমাকে ব্যবসায় সহযোগিতা করে। আমার লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি। কিন্তু ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা করেছি।’

সাব্বীরের পরিবার

স্ত্রী হামিদা খাতুন স্বামীকে সমর্থন দেন সব সময়। ছেলে সবুর আনসারী সাগর সিলেট শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর হয়েছেন। এখন বিসিএস পরীক্ষা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মেয়ে সায়কা পাভীন এইচএসসি পাস করেছেন।

ছবি : লেখক

মন্তব্য