kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

ফিরে দেখা

সেবার স্বপ্নপূরণ হয়েছিল

১৯৯৭ সাল। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। সে সময়টাকে যাঁরা ধরে রেখেছেন তাঁদের একজন ফটোসাংবাদিক বুলবুল আহমেদ। মোহাম্মদ আসাদ সে সময়ের গল্প শুনে এসেছেন

৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেবার স্বপ্নপূরণ হয়েছিল

বাংলাদেশ ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার আইসিসি ট্রফি খেলেছে। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। শেষে এলো ১৯৯৭ সাল। সে বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয় আইসিসি ট্রফি টুর্নামেন্ট। সেটি ছিল ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। সেখানে সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করে ফাইনালে যায় বাংলাদেশ। ফাইনালে মুখোমুখি হয় কেনিয়ার। দিনটি ছিল ১৩ এপ্রিল। চরম উত্তেজনাপূর্ণ ছিল সে খেলা। প্রকৃতিও বিরূপ ছিল সেদিন। শেষ বলে দরকার এক রান। শেষ রানটি নিয়েছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলট। সেবার টাইগারদের অধিনায়ক ছিলেন আকরাম খান। দলে আরো ছিলেন বুলবুল, নান্নু, সুজন, পাইলট, রফিক, শান্ত, সাইফুল, মণি ও আতাহার। তখন বাংলাদেশের কোচ ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার গর্ডন গ্রিনিজ। ওই বিজয়ের পর তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এর আগে শুধু বক্সার মোহাম্মদ আলি এই সম্মান পেয়েছিলেন।  

 

আনন্দ বেশি

ওই কেনিয়ার কাছেই হেরে ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেস্তে যায় বাংলাদেশের। তাই কেনিয়াকে হারানোর আনন্দটা ছিল বেশি। সারা দেশ বিজয়ের আনন্দে ভাসতে থাকে। বালতি-গামলায় করে রং ছিটানোর দৃশ্য সারা ঢাকায়ই সেইবার দেখা গিয়েছিল, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি এলাকা রঙে রঙিন হয়ে গিয়েছিল। সেদিন বাঙালি জানান দিয়েছিল ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালোবাসার কথা। রঙিন ওই সময়ের ছবি তুলে রেখেছিলেন ফটোসাংবাদিকরা। সেটা ছিল ফিল্মের যুগ। তাই ছবি অনেকেই সংরক্ষণ করতে পারেননি। যাঁরা সংরক্ষণ করেছেন, তাঁদের একজন বুলবুল আহমেদ।

 

বুলবুল বলেন

খেলায় জিতলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আনন্দ উৎসব হয়ই। তাই ফটোসাংবাদিকরা ছবি ধরতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হাজির থাকেন। সেদিন আমিও খেলা দেখে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছাই। গিয়ে দেখি রঙের বন্যা বইছে। আমার গায়েও রং পড়েছিল। সেদিন সেই রং মধুরই লেগেছিল। রং মাখার ছবি অবশ্য আমার কাছে নেই। কারণ তখন ছিল ফিল্মের যুগ। আমরা অনেকেই সঠিকভাবে ফিল্ম সংরক্ষণ করতে পারিনি। অল্প কিছু ছবি ডিজিটাল ইমেজ করে ধরে রেখেছি।

খেলোয়াড়রা কবে দেশে ফিরেছিলেন ঠিক মনে নেই। তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সেই নাগরিক সংবর্ধনায় পুরো সময়ই আমি ছিলাম টাইগারদের সঙ্গে। বলে রাখা ভালো, তখন কিন্তু স্পোর্টসে আলাদা ফটোগ্রাফার থাকত না। এখন তো স্পোর্টস ফটোগ্রাফাররাই এসব ছবি তোলেন। তখন একজন ফটোসাংবাদিককে সব রকম ছবি তুলতে হতো। সেদিন প্রথম গিয়েছিলাম বিমানবন্দরে। খেলোয়াড়রা বিমান থেকে নামার পরই ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের পুরনো বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে নিয়ে আসা হয়। এখানে অপেক্ষা করছিল লাখো জনতা। প্যারেড গ্রাউন্ড কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মোহাম্মদ হানিফ তখন ঢাকার মেয়র। তিনিই এই সংবর্ধনার আয়োজক। সাবের হোসেন চৌধুরী তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (পরে ‘কন্ট্রোল’ বাদ দেওয়া হয়) চেয়ারম্যান। সম্ভবত আইসিসিরও কর্তাব্যক্তি ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খেলোয়াড়দের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া হলো। ফ্ল্যাট, গাড়ির চাবিও পেলেন তাঁরা। ফুলের মালা, ক্রেস্টও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীকেও সেখানে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

 

আমরাও খুশি ছিলাম

আমরা অনেক ফটোসাংবাদিক ছিলাম সেখানে। ছবি তোলা তো ডিউটি।  বেশি ভালো লাগছিল এত বড় একটা অর্জনের অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে।   তখন ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় কাজ করি। আমার তোলা সেদিনের ছবি পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় করে ছাপা হয়েছিল। দেশের সব পত্রিকায়ই ওই দিনের ছবি গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়েছিল। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের তাঁর বাসভবনেও সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। সেখানেও ছবি তুলেছিলাম।

মন্তব্য