kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

ফেসবুক থেকে পাওয়া

আগুন বুকে ভালো আছি

২২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সেই পুরনো ডায়েরিটা আজ হাতে নিলাম। ঝাপসা চোখে ডায়েরির পাতায় চোখ বুলিয়ে দেখলাম। ডায়েরিটার পাতায় পাতায় রক্তের ছাপ। হঠাৎ করেই সেই পেছনের দিনগুলোতে ফিরে গেলাম। কত ঝগড়া আর মান-অভিমান, দিন শেষে জান আমার জান। মনে পড়ে সেই রাতের কথা, তুমি বলেছিলে এটাই হবে তোমার আমার শেষ কথা। সেই মুহূর্তে আকাশে বিকট শব্দে বিদ্যুৎ চমকে উঠছে আর বুকের ভেতরে কী যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎই নয়নতলে কপোল ভিজিয়ে নেমে আসে ঝরনাধারা। তখন হয়তো আকাশে জমে থাকা মেঘগুলো আমার কষ্ট সইতে না পেরে মুষলধারে বৃষ্টি হয়ে নেমে এলো। সত্যিই, সেদিন বিধাতার অনেক কৃপা ছিল। আমার চোখের জল ও বৃষ্টির জল মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। আশপাশের মানুষগুলো আমাকে দেখে বুঝতেই পারল না।

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কানে হেডফোন লাগিয়ে তোমার বিদায়ী কথাগুলো শুনছিলাম। কষ্টে কথা বলতে পারছিলাম না, শেষ মুহূর্তে শুধু একটি প্রশ্ন করেছিলাম—আমাকে ছাড়া তুমি কি সত্যিই থাকতে পারবে? উত্তর পেয়ে কলটা কেটে দিলাম। সেদিন মন থেকে তোমাকে বিদায়ে জানিয়ে দিলাম। তারপর নিরুদ্দেশ পথচলা। এপথ থেকে ওপথে, পথে পথে গেয়ে গেছি জীবনের কিছু গান, হৃদয় গহিনে চাপা দিয়ে কিছু পিছুটান। তুমি শুধু জানতে, আমি তোমাকে তীব্র ঘৃণা করি। কিন্তু বুঝতেই পারলে না, এই ঘৃণার অন্তরালেই কতটা ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল। তুমি জানো, আমি তোমাকে ভুলে বেশ আছি। শুধু জানো না তোমার স্মরণে আজও নিজেকে আগলে রাখি। স্মরণে যে কতটা ক্ষরণ হয়, সেটা তুমি কেমন করে বুঝবে?

হয়তো এখন তুমি অনুশোচনায় ভুগছ। মনে মনে আমাকেই খুঁজছ। কিন্তু বাস্তবে যা হওয়ার নয়, তা কখনো হবে না। দুজনার ভেতরে শুধুই ভালোবাসার দীর্ঘশ্বাসটুকুই থাকুক। অনুভব করে নেব, যোজন যোজন দূর থেকে, যত দিন দুজনার হৃদয়ে ভালোবাসা বেঁচে থাকে। ভালো আছি, তুমিও ভালো থেকো।

—সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ, ঢাকা।

মন্তব্য