kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

পরম্পরা

দাদা থেকে নাতি

শুরু করেছিলেন দাদা আইয়ুব আলী মাস্টার। এখন চালাচ্ছেন নাতি রুহুল হোসেন। বিলাতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। জুয়েল রাজ পাত্তা লাগিয়েছিলেন

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাদা থেকে নাতি

রুহুল হোসেন

উনিশ শতকের সত্তরের দশকে গ্রেটার লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে বাঙালিরা বসতি গাড়তে শুরু করেন। পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে অবশ্য আরো অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বাঙালিরা সফল হয় আর বিলেতের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে শুরু করে। সে সূত্র ধরেই ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন। ১২ হাজার রেস্টুরেন্ট ও টেকওয়ের প্রতিনিধিত্ব করে এ সংগঠন।

 

শেষে বাড়ি ফিরেছিলেন

ওসবেরও অনেক অনেক দিন আগের কথা। ১৯১৯ সাল। জগন্নাথপুর থেকে বিলাত এসে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেছিলেন আইয়ুব আলী মাস্টার। রেস্টুরেন্টের নাম রেখেছিলেন শাহজালাল রেস্টুরেন্ট। একই সঙ্গে অরিয়েন্ট ট্রাভেলস নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও দিয়েছিলেন। তিনি ইউকে মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে যান। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনসেবা করেছেন। অবশেষে ১৯৮০ সালের পহেলা এপ্রিল হাসন-ফতেপুরের বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। ক্যারোলাইন অ্যাডামসের ‘সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে’ লেখা বইতে আইয়ুব আলী মাস্টার সম্পর্কে অনেক খবর দেওয়া হয়েছে।

 

আইয়ুব আলী মাস্টার

তবে হাল ধরেছিলেন মফজ্জল

আইয়ুব আলী মাস্টার দেশে ফিরে গেলেও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় তালা মেরে যাননি। তাঁর ছেলে মফজ্জল হোসেন হাল ধরেছিলেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ম্যানচেস্টারে দিলকুশ নামে একটি রেস্টুরেন্ট খোলেন। তবে একপর্যায়ে তিনিও বাবার মতো স্থায়ীভাবে দেশে চলে যান। আর দেশে গিয়ে সেই সিলেট সদরের লালবাজারে দিলকুশ খুলে বসেন। তারপর আসেন রুহুল হোসেন। তিনি আইয়ুব আলী মাস্টারের নাতি আর মফজ্জল হোসেনের পুত্র। বিলেতে বাঙালি কমিউনিটির পরিচিত মুখ রুহুল হোসেন। দাদাকে নিয়ে তাঁর অনেক গর্ব। তিনি বিলাত আসেন ১৯৮২ সালে। পড়ালেখা করে ভিন্ন পেশা গ্রহণ করেছিলেন গোড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত বাপ-দাদার পেশায়ই ফিরে আসেন ১৯৯৫ সালে।

 

এবার প্রপৌত্র

রুহুল হোসেনের লাল কিল্লা বিলাতে খুব নাম করেছিল। এ ছাড়া তাঁর আরো চারটি রেস্টুরেন্ট ছিল। এখন ইন্ডিয়ান লাউঞ্জকে ধরে রেখেছেন। এটাও একটি সফল রেস্টুরেন্ট। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তৃতীয় রুহুল হোসেন। চার ছেলের জনক তিনি। খুশির খবর হলো, তাঁর বড় ছেলেও নানা পেশায় হাত পাকিয়ে শেষে পৈতৃক ব্যবসায়ই থিতু হতে চলেছেন। সেটি হলে আইয়ুব আলী মাস্টারের চতুর্থ প্রজন্ম আসছে বিলাতের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়।

 

ছেলেদের সঙ্গে আইয়ুব আলী মাস্টার

সমাজসেবীও

দাদার মতোই রুহুল হোসেন সমাজসেবায় আগ্রহী। প্রতি রমজানে শতাধিক পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল, ৫ কেজি করে ডাল, ৫ কেজি করে তেল এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ খেজুর দিয়ে থাকেন। সিলেট শহর, বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও জগন্নাথপুরের দরিদ্র পরিবারগুলোই এই সহায়তা পায়। যাতায়াত বাবদ দুই শ করে নগদ টাকাও দেওয়া হয়। এ ছাড়া ফাতেমাপুরে এতিমদের জন্য তিনতলার একটি ভবনও বানিয়ে দিয়েছেন। এখানে ৬০ জন এতিম শিশু বাস করে।

মন্তব্য