kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

আরো একাত্তর

মধুর রেস্তোরাঁ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধসহ অনেক ঘটনার সাক্ষী মধুর ক্যান্টিন। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রিয় মধুসূদন দে ওরফে মধুদা শহীদ হয়েছেন একাত্তরেই। সেই মধুর ক্যান্টিন নিয়ে একটি চলচ্চিত্র হচ্ছে। তার একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন সোহানা সাবা। প্রীতি প্রাপ্তি শুনতে চেয়েছিলেন কিভাবে সাবা সে সময়ে ফিরছেন

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মধুর রেস্তোরাঁ

মধুদার ভাস্কর্যের সঙ্গে অভিনেতা ওমর সানী

সাঈদুর রহমান সাঈদ পরিচালনা করছেন মধুর ক্যান্টিন। মহরত হয়েছে; কিন্তু শুটিং শুরু হয়নি। সাঈদ জানিয়েছেন, আগামী মাসের শুরুতেই শুটিং শুরু হবে। পাত্র-পাত্রীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। সাবা ছবিটির প্রধান চরিত্রগুলোর একটিতে অভিনয় করছেন। তিনি এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী। বলছিলেন, ‘মধুর ক্যান্টিন ছবিটি ইতিহাস বলবে। এমন সময়ের ইতিহাস, যার সঙ্গে বাঙালির আত্মার যোগ। সেটি হলো মুক্তিযুদ্ধ। মধুদা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাকিস্তানি বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে একাত্তরে। মধুদা ও তাঁর রেস্তোরাঁ সারা দেশে চেনা। তাই ছবিটির জন্য দর্শকরা অপেক্ষা করে থাকবে। আমরা যারা এর বিভিন্ন চরিত্রে থাকছি তাদের প্রতিটি দৃশ্যেই আন্তরিক থাকতে হবে। এখানে আমারটি ছাড়া সব চরিত্রই ঐতিহাসিক। আমার চরিত্রটি লেখক সৃষ্টি করেছেন। সে সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া একটি মেয়ে আমি। আমার তাই কোনো সূত্র নেই। আমাকে পুরোপুরি সে সময়কে স্টাডি করে তৈরি হতে হবে। সে জন্য একটু কঠিনও লাগছে।’

সাবার চোখ দিয়েই ছবিটিতে দর্শকরা সে সময়ের সমাজ ও রাজনীতি দেখতে পাবে। সে নিজেও রাজনীতিসচেতন। মধুর ক্যান্টিনের সভা ও আড্ডায় অংশ নেয়। মিছিল-মিটিংয়েও যোগ দেয়। লেখাপড়া না জানা একজন মানুষ মানে মধুদা কিভাবে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে রাজনীতিসচেতন হয়ে উঠছেন—সাবা তা মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করেন। ছাত্রনেতাদের সঙ্গে মধুদার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি তাঁদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করেন। আন্দোলন-সংগ্রামের পোস্টার, লিফলেট ছাত্ররা তাঁর কাছে জমা রাখে আবার প্রয়োজনের সময় এসে চেয়ে নেয়। নিপীড়কদের হাত থেকে আড়ালেও রাখেন ছাত্রদের। তবে মধুদার মৃত্যুর দিন মেয়েটি মানে সাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারে না ব্যক্তিগত ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ায়।

সাবা ভাবছেন, এমন সাজ নেবেন

কিভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন

সাবা বলেন, ‘প্রথমে আমি সে সময়টাকে বোঝার চেষ্টা করছি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সহজ কোনো ব্যাপার ছিল না, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য। খুব কম পরিবারই মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনুমতি দিত। তাই আমি ধরে নিচ্ছি মেয়েটির পরিবার খানিক অগ্রসর ছিল। আর্থিকভাবেও সচ্ছল থাকবে। তাদের বাড়িতে পড়াশোনার চল থাকবে। তাই তাদের বাড়িতে একটি ভালো গ্রন্থাগার থাকবে ধরে নিচ্ছি। এই ব্যাপারগুলো বোঝার পর চরিত্রটি কিভাবে হাঁটবে বা কথা বলবে, ঠিক করে নিচ্ছি। মেয়েটি যে সুন্দর করে শহুরে ভাষায় কথা বলবে তাতো বোঝাই যাচ্ছে। তার কনফিডেন্স (আত্মবিশ্বাস) লেভেলও থাকবে হাই। এরপর মেয়েটির সাজপোশাক কেমন হবে, জানছি সে সময়ের ছাত্রীদের ছবি দেখে। কয়েকজনের সঙ্গে কথাও বলছি। সে সময় কিন্তু স্লিভলেস ব্লাউজ পরার চল ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা এ সাহস দেখাত। ব্যাপারগুলো নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে অনেকবার মতবিনিময় করেছি। আমি যেহেতু একজন ফ্যাশন ডিজাইনার, তাই পোশাক-আশাকের ব্যাপারগুলো নিজেই দেখব। ভাবছি মেয়েটিকে বেশির ভাগ সময় সুতি শাড়িতে দেখা যাবে। স্লিভলেস ছাড়াও মেয়েটিকে কোনো কোনো সময় হাফ হাতা ব্লাউজেও দেখা যাবে। সঙ্গে অল্প উঁচু হিল পরবে। চুলে বেণি করবে। আর যখন চুল ছাড়া থাকবে, তখন অল্প একটু পাফ (ফোলানো) করা থাকবে। এতে লুকটা অভিজাত হবে। তখন কিন্তু মেকআপের বেশি চল ছিল না। তাই চোখে কাজল দিতে পারে। লিপস্টিক লাগাবে হালকা করে, কোনো কোনো সময় কপালে টিপ পরবে। কাঁধে ব্যাগ ঝুলবে।’

উল্লেখ্য, ছবিটির গল্প ২৬শে মার্চ কালরাতের কিছু আগের সময়ের ঘটনা। ছবিটি বলবে একটি ক্যান্টিন কিভাবে একটি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয় সে গল্প। ছাত্রদের সঙ্গে থেকে থেকে মধুদা হয়ে উঠলেন দেশপ্রেমী, বুঝলেন তাঁর অধিকারের কথা। এই ছবিতে সাবার একজন প্রেমিক থাকবে। সে মুক্তিযোদ্ধা হবে। এই চরিত্রে অভিনয় করবেন মহসীন পলাশ।

ছবিটিতে মধুদার ভূমিকায় অভিনয় করবেন ওমর সানী। চিত্রনায়িকা মৌসুমী করবেন খুব সংবেদনশীল একটি চরিত্র, যে আসলে যুদ্ধশিশু। তাঁর এখনকার সময়টাই দেখানো হবে এ ছবিতে।

মন্তব্য