kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

যার যা কিছু আছে

একটি পয়েন্ট টুটু বোর রাইফেল

রাইফেলটি এ কে ফজলুল হক চৌধুরীর। শখে কিনেছিলেন আটষট্টি সালে। একাত্তরে সেই রাইফেলটিই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণে কাজে লেগেছে। জাহাঙ্গীর হোসেন দেখে এসেছেন

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটি পয়েন্ট টুটু বোর রাইফেল

এ কে ফজলুল হক চৌধুরীর দাদা বাসের আলী চৌধুরী ছিলেন রাজবাড়ীর বরাট অঞ্চলের জোতদার। খুব প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন। সেটা পঞ্চাশের দশকের কথা। চাচা আইনদ্দিন হোসেনের ছিল একটি গাদা বন্দুক। তিনি শৌখিন শিকারি ছিলেন। ফুপাতো ভাই ওলিউর রহমানেরও একটি দোনলা বন্দুক ছিল। তখন ফজলুল হকের কিশোরবেলা। ফুপাতো ভাইয়ের সঙ্গে শিকারে যেতেন। বরাটের অদূরে ছিল পদ্মা নদী। তখন স্টিমার ঘাটে কালাম নামে একজন অবাঙালি কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁরও একটি রাইফেল ছিল। কালামের রাইফেলটিও অনেকবার হাতে নিয়ে দেখেছেন ফজলুল হক। চাইতেন নিজের একটি রাইফেল হোক। টাকাও জমাতে থাকলেন। এলো ১৯৬৮ সাল। ৬০০ টাকার তহবিল নিয়ে রওনা হলেন খুলনা। সেখানকার একটি দোকান থেকে  রাশিয়ার তৈরি পয়েন্ট টুটু বোর রাইফেলটি কিনে ফেলেন।

ফজলুল হকের বয়স এখন ৮৩ বছর। ১৯৫৫ সালে এসএসসি পাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ৩৫। রাইফেল কেনার পর থেকে শীত মৌসুম তাঁর আনন্দে কাটত। এলাকার তরুণ-যুবকরা রাইফেলটি আগ্রহ নিয়ে দেখত। ফজলুল হকের বেশ একটা ভাব হতো।

 

একাত্তরের দিনগুলোয়

২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। ফজলুল হক এলাকার তরুণ-যুবাদের সঙ্গে সভা করেন। সবাই জানত তাঁর রাইফেলটির কথা। তরুণদের নিয়ে তিনি বরাট মাঠে চলে যান। ওই রাইফেল দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন আনসার সদস্যও প্রশিক্ষক ছিলেন। তখন আনসার সদস্য ছিলেন হাবিবুর রহমান। বলছিলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকেই দেশের অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও অস্থিরতা দেখা দেয়। ফজলুল হক তখন ১০-১২ জন আনসার সদস্যকে আহ্বান জানান কিশোর-যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে। বরাট খেলার মাঠ, কাটাখালী স্কুল, বরাট ভাকলা স্কুল, নবগ্রাম বাজার ও রাজবাড়ী রেলওয়ে মাঠে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলেছে। ফজলুল হকের রাইফেলটি তখন ছিল সম্বল।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস ফকির বললেন, ‘এই রাইফেলটির মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে স্থান পাওয়া দরকার।’

তখনকার আরেক আনসার সদস্য মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা এ অঞ্চলে রফিকুল ইসলাম কমান্ডারের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি। ৬৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন দলে। ফজলুল হক চৌধুরীও এই দলের একজন ছিলেন।’

 

ফজলুল হকের কথা

১৯৯৫ সাল পর্যন্ত রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করেছেন। তিনি চার ছেলে ও এক কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রীর নাম মরিয়ম চৌধুরী। বড় ছেলে আব্দুল আল ফারুক জেলা শহরের ডা. আবুল হোসেন কলেজের শিক্ষক, অপর ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী ও টিপু সুলতান চৌধুরী ব্যবসায়ী। আরেক ছেলে ফরিদ চৌধুরী, থাকেন মালয়েশিয়ায়। আর একমাত্র মেয়ে শিউলি চৌধুরীর বিয়ে হয়ে গেছে।

ছবি : লেখক

মন্তব্য