kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ফেসবুক থেকে পাওয়া

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

ওর বাবাকেও এই রঙে সুন্দর লাগত

ঘরের ভেতরে খুব হৈচৈ হচ্ছে। এরই মধ্যে আছমা বেগম বারান্দায় এসে বসলেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর বহু কষ্টে ছেলেকে বড় করেছেন। এখন তাঁর ছেলে একটা বড় কম্পানিতে ভালো পজিশনে কাজ করে। নিজে পছন্দ করে ঘরে বউ এনেছে। আজ ওদের প্রথম বিয়েবার্ষিকী। হঠাৎ করেই আছমা বেগমের চোখ ভিজে উঠল। তিনি ফিরে গেলেন পেছনের দিনগুলোতে। চঞ্চল পাখির মতো উড়ে বেড়াতেন তিনি। এ-পাড়া থেকে ও-পাড়া। কার গাছে আম পেকেছে, কার গাছের পেয়ারা মিষ্টি, সব খবর রাখতেন। গ্রামের বাচ্চাদের নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরতে ঘুরতে কখন বড় হয়ে গেছেন, বুঝতেই পারেননি। বুঝতে পেরেছিলেন, যখন ধূসর রঙের একটা পাঞ্জাবি পরে, মুখে লাজুক হাসি নিয়ে রাজপুত্রের মতো এক ছেলে তাঁদের বাড়ি এসেছিল। লাল পাড়ের শাড়ি পরা এক মহিলা তাঁর কাছে বসে হাতটা ধরে বলেছিলেন, ‘অনেক সুন্দর মেয়ে তো আপনাদের।’ তাঁর চোখে সেদিন ঘোর লেগেছিল। পুতুল বিয়ে দিতে দিতে একসময় তাঁর বিয়ের দিনটা ঘনিয়ে এলো। চারদিকে হৈচৈ, উৎসবের আনন্দ। এর মধ্যে সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি পা বাড়িয়েছিলেন অন্য এক বাড়ির পথে। অচেনা, অজানা একজন মানুষকে ভরসা করে যেদিন তিনি এ বাড়ির একজন হয়ে গেলেন, সেদিন থেকেই তাঁর মনে হয়েছিল জীবনে নিশ্চয়ই তিনি কোনো ভালো কাজ করেছেন, তাই আল্লাহ তাঁকে এই মানুষটার জীবনসঙ্গী করেছেন। তবে সুখ বেশিদিন সয়নি। বিয়ের বছরখানেকের মাথায় এক দিন মানুষটা মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। ডাক্তার বলেছিলেন, শহরে নিয়ে যেতে। দীর্ঘ রাস্তা তিনি বসেছিলেন স্বামীর হাতটা মুঠোর মধ্যে ধরে। তাঁর গর্ভে বড় হচ্ছে তাঁদের সন্তান—এই খুশির খবরটা দেওয়ার জন্য সেদিন তিনি স্বামীর পছন্দের সব রান্না করেছিলেন। মানুষটা সে খাবারও মুখে দিতে পারেননি। ভ্যানে বসে হাতটা ধরে রেখে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি বাবা হবে।’ কথাটা শুনে মানুষটা বোধ হয় একটু খুশিই হয়েছিলেন। পর মুহূর্তে তাঁর হাতটা শিথিল হয়ে গেল। চারদিকে ভয়ংকর নিস্তব্ধতার মাঝে নীরবে চলে গেলেন।

‘মা! তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন? সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। আসো আমার সঙ্গে’—ছেলের কথা শুনে আছমা বেগম ঘুরে দাঁড়ালেন। দেখলেন ছেলেটা আজ ধূসর রঙের একটা পাঞ্জাবি পরেছে। ওর বাবাকেও এই রঙে ঠিক এমন সুন্দর লাগত।

তাসনিম ইসলাম

নারায়ণগঞ্জ

 

নাম না জানা মেয়েটি

সকাল ৮টা। প্রতিদিনের মতো ঘর থেকে বের হলাম কলেজের উদ্দেশে। তাড়াহুড়া করে গাড়িতে উঠলাম। হঠাৎ দেখি একটি মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এ কী, ও আমার দিকে আসছে কেন? কিছু বলবে না কী? মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন উঁকি দিল। কিন্তু না, মেয়েটি এসে আমার পাশের সিটে বসে পড়ল। গাড়ি  ছাড়ল। ওকে দেখার পর হঠাৎ আমার মুখ থেকে একটা কথা বেরিয়ে এলো ‘সকালটা যে এত সুন্দর হতে পারে আগে জানা ছিল না।’ মেয়েটি আমার দিকে তাকাল। ভয়ে আমার শরীর ঘামছিল। হৃৎকম্পন বেড়ে গিয়েছিল। মেয়েটি কিছু না বলে শুধু মুচকি হাসি দিল। কি সুন্দর সে হাসি! এমন মেয়ে আমি আগে কখনো দেখিনি। তবে এই ভালোলাগাটা বেশি সময় টেকেনি। কিছুক্ষণ পর গাড়ি কলেজের সামনে চলে আসায় নেমে গেলাম। আর নামটি জানা হলো না। জানি না আর কি হবে দেখা তার সঙ্গে। তবে তাকে আমি মনে রাখব চিরকাল আমার অন্তরে।

অর্ণব দাস

এমসি কলেজ, সিলেট

 

ভালোবাসার বন্ধন

মেয়ে বলে আমাকে সাইকেল কিনে দেয়নি বাবা। কিন্তু ছোট ভাইয়ের সাইকেল ছিল। ওর সঙ্গে আমার বয়সের ব্যবধান বেশি নয়। আমারও সাইকেল চালানো শেখার শখ হয়। ছোট ভাই-ই আমার সাইকেল ট্রেইনার। প্রথম দিকে পারতাম না। পড়ে যেতাম। তবে হাল ছাড়িনি। ধীরে ধীরে  সাইকেল চালানো শিখলাম। একসময় তো রীতিমতো পারদর্শী হলাম। ছোটবেলায় স্মৃতিগুলো এমনই; বিশেষ করে যদি আপন ভাই-বোন থাকে এবং বয়সের পার্থক্য যদি খুব বেশি না হয়। মধুর সব সময় কাটে তখন। একজন আরেকজনকে যেকোনো জিনিস শিখিয়ে দেয়, আবার দিন শেষে রাতে চলে তুমুল মারামারি, চুল টানাটানি, এরপর জীবনে কথা না বলার প্রত্যয়। যদিও এক বেলা পর সেই প্রত্যয়ের কথা মনে থাকে না। ভাই-বোনের সম্পর্কগুলো এমনই। ঝগড়া থাকবে যত বেশি, ভালোবাসা থাকবে তার থেকেও বেশি।

শাহীন সুলতানা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ

মন্তব্য