kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

উৎসব

ভেনিস কার্নিভাল

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভেনিস কার্নিভাল

হাজার বছর বয়স হয়ে যাচ্ছে উৎসবটির। ইতালির ভেনিসকে লোকে চেনে জল আর মুখোশের শহর বলে। পর্যটকদের ভিড় এখানে বলতে গেলে সারা বছর। তবে কার্নিভাল হয় বছরে একবারই। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলে অনুষ্ঠানাদি। এবার শুরু হচ্ছে ১৬ ফেব্রুয়ারি আর চলবে ৫ মার্চ পর্যন্ত। আহনাফ সালেহীন খবর খুঁজেছেন

 

উৎসবসূচি-২০১৯

১৬ ফেব্রুয়ারি : উদ্বোধন এবং জলের ওপর ভেনিসীয় ভোজ

২৩ ফেব্রুয়ারি : কার্নিভাল স্ট্রিট শো ও অফিশিয়াল ডিনার

২৪ ফেব্রুয়ারি : সান মার্কো চত্বরে ফ্লাইট অব দ্য অ্যাঞ্জেলস। মুখোশ প্রতিযোগিতা।

২৮ ফেব্রুয়ারি : মুখোশ প্রতিযোগিতা। বুরানো (একটি জায়গার নাম) কার্নিভাল। অফিশিয়াল ডিনার।

মার্চ ১ : মুখোশ প্রতিযোগিতা। বুরানো কার্নিভাল। অফিশিয়াল ডিনার।

মার্চ ২ : মুখোশ প্রতিযোগিতা। মারঘেরায় ওয়াগন প্যারেড। বুরানো কার্নিভাল।

মার্চ ৩ : সান মার্কো চত্বরে ইগল ফ্লাইট। মেস্ত্রেতে ফ্লাইট অব দ্য ডংকি। কস্টিউম কনটেস্ট ও পুরস্কার বিতরণী।

মার্চ ৪ : সাধু মার্কের সিংহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। বাচ্চাদের মুখোশ প্রতিযোগিতা।

মার্চ ৫ : জেলারিনোর (ভেনিসের একটি জায়গা) কার্নিভাল। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অফিশিয়াল ডিনার।

১১৬২ সাল। আকুইলেইয়ার যুদ্ধে জিতেছিল ভেনিস। লোকে নেচে-গেয়ে সান মার্কো স্কয়ার (প্রধান উৎসবস্থল) জমিয়ে রেখেছিল। সেটাকেই কার্নিভালের সূচনাকাল ধরা হয়। উৎসবসংক্রান্ত নথি অবশ্য ১২৯৬ সালের আগের পাওয়া যায়নি। ওই বছর উৎসবের দিনে সরকারি ছুটি ছিল। তবে কার্নিভাল বেশি জমজমাট হয় পনেরো শতকে। পোশাক, মুখোশ, নৌকাবাইচ—এ উৎসবের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ১৮ শতকের মাঝামাঝি এটি ইউরোপের অন্যতম প্রধান উৎসবে পরিণত হয়। তবে ১৭৯৭ সালে নেপোলিয়ন ভেনিস দখল করে নিলে উৎসব বন্ধ হয়ে যায়। পরে অস্ট্রিয়ার দখলে যাওয়ার পরও উৎসবে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আগে মুসোলিনিও মুখোশ পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। শেষে ১৯৭৯ সালে প্রায় দুই শতক পরে উৎসব আবার পুরোদমে চালু হয়।

কানাডার ব্যারি কারবল এবং ফায়ে শিমড দম্পতি ১৯৮৬ সাল থেকে কার্নিভালে যোগ দিচ্ছেন। তাঁরা নিজেদের নকশার পোশাক পরে উৎসবে যোগ দেন। তাঁরা পাঁচ জোড়া পোশাক নিয়ে উৎসবে যান। একবার ১৮ শতকে ভেনিসের লোক যেমন পোশাক পরত, তেমন পোশাক পরে উৎসবে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা মাথায় রাখেন আলোকচিত্রীদের কথা। ছবি তুললে যেন সুন্দর দেখায়। তাই রঙের প্রাচুর্য রাখেন পোশাকে। তবে তাঁরা মুখোশ কম পরেন। কারণ পোশাক অনুযায়ী চড়া মেকআপে মুখ ঢাকেন। পোশাক বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁদের আলাদা স্যুটকেস আছে। তাতে পরচুলাও থাকে। ব্যারি বলছিলেন, ‘আমার একটা গাউন আছে, যার ওজন পাঁচ কেজি।’ তাঁরা সান মার্কোর কাছেই কোনো একটি থাকার জায়গা বেছে নেন, যেন ফিরতে বেশি বেগ পেতে না হয়।

 

উৎসবে মুখোশ

গবেষকরা বলেন, ধনী-গরিবের প্রভেদ মেটাতেই উৎসবে মুখোশের প্রচলন। ভেনিসবাসীর আকাঙ্ক্ষা ছিল উৎসবে জমিদার ও কৃষক যেন একই সঙ্গে নাচ-গানে মেতে উঠতে পারে। মুখোশ পরা থাকলে কেউ কাউকে চিনতে পারবে না। তাই সংকোচ থাকবে না। ভেনিস কার্নিভালের একটি বহুল প্রচলিত মুখোশের নাম বাউতা। এই মুখোশটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সভায়ও ব্যবহৃত হতো ১৮ শতকে। যখন কোনো ব্যাপারে ভেনিসের সব নাগরিকের পরামর্শ প্রয়োজন হতো, তখন সরকার একটি সভার আয়োজন করত। আর পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে সবাই মুখোশ পরে আসত। এর পর আসে কলম্বিনা মুখোশের কথা। এটি চোখ, নাক আর গাল ঢেকে রাখে। মঞ্চনাটকের একটি চরিত্র এই কলম্বিনা। যদিও এখন নারী-পুরুষ উভয়েই এই মুখোশ পরে; কিন্তু আসলে বাউতার নারীরূপ হলো কলম্বিনা। আরেকটি মুখোশের নাম মেডিকো ডেলা পেস্টে। এর দীর্ঘ লম্বা চোয়াল, দেখতে কিম্ভূত। ১৭ শতকের ফরাসি ডাক্তার শার্ল ডি লোর্ম প্লেগের রোগী দেখতে গিয়ে এ রকম মুখোশ ব্যবহার করতেন। বেশির ভাগ সময় মুখোশটির রং সাদা হয়। তারপর আছে ভল্টো নামের মুখোশ। ভল্টোর অর্থ ভূত। এটি ভারী প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়। অন্য মুখোশগুলোর চেয়ে এটি ভারী। জান্নি নামের আরেকটি মুখোশ আছে। এটি চামড়ায় গড়া অর্ধেক মুখোশ। এর নাক বেশি লম্বা হয়, আইব্রো ঢেকে রাখে। উল্লেখ্য, কমেডি নাটকে জান্নি নামের একটি বোকা চরিত্র প্রায়ই মঞ্চে দেখা যায়।

 

 

মন্তব্য