kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

এগিয়ে যাও বাংলাদেশ

নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ

অতি বর্ষায়ও মাছ ভেসে যাওয়ার ভয় নেই আর খাঁচায় মাছ চাষ লাভজনকও। তাই নদীতে খাঁচায় মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছেন সিরাজগঞ্জের অনেক চাষি। ফুলজোড় ও করতোয়া নদী ঘুরে এসে জানালেন অসীম মণ্ডল

১৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ

২০১৫ সালের কথা। টেলিভিশনে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষের একটি প্রতিবেদন দেখেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চর ঘাটিনার ফজলুল হক। বিষয়টি তাঁকে বেশ আকৃষ্ট করে। উপজেলা মত্স্য অফিসে যোগাযোগ করেন। জানতে পারেন এ বিষয়ে তাঁকে সহযোগিতা করতে পারবেন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা ড. আমিমুল এহসান। ফজলুল হকের তখন কাজ ছিল না, বলতে গেলে বেকার। আগে ছোটখাটো একটি ব্যবসা করলেও সেটা বন্ধ। চলে গেলেন রাজশাহী। আমিমুল এহসানের কাছ থেকে নদীতে ভাসমান খাঁচায় তেলাপিয়া চাষের প্রশিক্ষণ নিলেন। এরপর গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি নিজের বাড়ির পাশে করতোয়া নদীতে ৫০টি প্লাস্টিক ড্রাম ফেলে প্রয়োজনীয় বাঁশ, কাঠ ও নাইলন নেট দিয়ে ২০টি খাঁচা বানান। প্রতিটি খাঁচা ১৫ ফুট চওড়া ও ২০ ফুট লম্বা। এতে ব্যয় হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

প্রথমবার এই খাঁচায় দেড় লাখ টাকায় ১০ হাজার তেলাপিয়া মাছের পোনা ছাড়েন। চার মাসে এসব পোনা পূর্ণাঙ্গ মাছে রূপ নেয়। প্রতিটির ওজন হয় ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম। চার মাসে মাছের খাবার ও আনুষঙ্গিক পরিচর্যার জন্য ব্যয় হয় আরো তিন লাখ টাকা। এতে উৎপাদিত হয় প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ। ফজলুল হক জানান, প্রথম দফায় তাঁর এই নতুন মত্স্য প্রকল্পে বিনিয়োগ হিসাব করলে লাভের পরিমাণ কম। এ প্রকল্পে গ্রামের ছয় যুবককে কাজ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ভাসমান খাঁচার সংখ্যা দ্বিগুণ করলে এলাকার আরো ১০ যুবককে কাজ দিতে পারবেন।

এখন সিরাজগঞ্জের বেশ কয়েকটি জায়গায় নদীতে খাঁচায় মাছের চাষ হচ্ছে। জেলার অন্তত ৫০ যুবক মাছ চাষ শুরু করেছেন এবং স্বাবলম্বী হয়েছেন। খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে জেলার রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলায় ফুলজোড় ও করতোয়া নদীতে।

আমিমুল এহসান জানান, ২০১২ সালে তাঁর কর্মস্থল ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সেখানে বিজিবির সহযোগিতায় মহানন্দা নদীতে ভাসমান খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষে সফলতা পান। এরপর এই প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছেন। উল্লাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘১২ বছর আগে দেশে প্রথম কুমিল্লায় এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়। প্রবহমান নদীর পানিতে ভাসমান খাঁচায় মাছের পোনাগুলো প্রাকৃতিক নিয়মে বেড়ে ওঠে এবং এর প্রাকৃতিক স্বাদও অটুট থাকে। ফলে বাজারে এই মাছের চাহিদাও বেশি।’ জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় ২৯২টি খাঁচায় প্রায় অর্ধশত মাছচাষি মাছ চাষ করছেন। এ ব্যাপারে বেকার যুবকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। তারা পরামর্শের জন্য আসছে। জেলা মত্স্য অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি খাঁচায় ৮০০ থেকে এক হাজার মাছের পোনা ছাড়া হয়। লাভ হয় এক লাখ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।’ 

মাছচাষিরা জানান, সরকারি ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়া গেলে আরো অনেক বেকার যুবক এ কাজে আসবে। এতে বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দেশে মাছের চাহিদাও অনেকাংশে পূরণ হবে।

মন্তব্য