kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

এলো খুশির ঈদ

নাদিরা নকশাকার

নাদিরা ফেরদৌসী ঢাকা চারুকলায় লেখাপড়া করেছেন। পেশায় তিনি পোশাক নকশাকার। এবারের ঈদে তাঁর নকশা করা ৫০টি পোশাক বাজারে আনছে ফ্যাশন হাউস কে ক্রাফট। তাঁর সঙ্গে গল্প করতে গিয়েছিলেন মাহবুবর রহমান সুমন

১০ জুন, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাদিরা নকশাকার

নাদিরার নকশা করা পাঞ্জাবি ও শাড়িতে মডেলরা

ছোটবেলায় মেয়ের জামায় নানা ধরনের নকশা করে দিতেন মা। মাকে দেখে দেখেই নাদিরার আগ্রহ জন্মে সেলাই-ফোঁড়াইয়ে। তবে মা চাইতেন মেয়ে নাচ শিখুক। আর নাদিরার আগ্রহ ছিল আঁকিবুঁকিতে। বড় হতে হতেই নাদিরা নিজের জামা, ব্যাগ নিজেই ডিজাইন করতে থাকলেন। তখন থেকেই তাঁর ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার ইচ্ছা। 

 

স্বপ্ন থমকে গেল

তখন নাদিরা এইচএসসির ছাত্রী। হঠাত্ই বাবা মারা গেলেন। ধাক্কা খেল গোটা পরিবার। যা-ই হোক, এইচএসসি পাসের পর প্রথমবার ভর্তি হয়েছিলেন ন্যাশনাল কলেজে অর্থনীতিতে। কিন্তু তাতে মন লাগল না। টিউশনি করে টাকা জমাতে থাকলেন। বড় বোনও কিছু টাকা দিয়েছিলেন। ভর্তির কোচিং করতে থাকলেন। আর পরেরবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চান্সও পেয়ে গিয়েছিলেন।

 

নিজেই উঠে দাঁড়ালেন

পড়তে পড়তেই ব্যাগ, জামা ইত্যাদির নকশা করতে থাকলেন। কয়েকটি ফ্যাশন হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিক্রির জন্য দিয়েও আসতে লাগলেন। তাতে যেমন পড়ার খরচ উঠতে থাকল, আবার ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ওয়ার্কশপ করার উপায়ও পেয়ে গেলেন। এভাবে চলছিল—পড়াশোনা আর অবসরে পোশাক নকশা। বিএফএ শেষ বর্ষে তখন। হঠাত্ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখলেন কে ক্রাফট ডিজাইনার নিয়োগ দেবে। তিনি আবেদন করলেন। নিয়োগও পেয়ে যান। সেই থেকে মানে ২০০৯ থেকে, এখন সাত বছর হয়ে গেল, নাদিরা পেশাদার পোশাক নকশাকার।

 

এবারের ঈদ ফ্যাশন

এবারের ঈদের জন্য ৫০টিরও বেশি পোশাক নকশা করেছেন নাদিরা। এগুলোর মধ্যে আছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, টপস ও কুর্তি। বললেন, ‘এক ঈদ শেষ হওয়ার পর থেকেই কিন্তু সামনের ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। নতুনত্ব আনার কথা ভাবতে থাকি। সময়ের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করি। এখনকার বিশ্ব একটা নতুন বিশ্ব। আমার মনে হয় ১০ বছর আগের দুনিয়াও এত কাছাকাছি ছিল না। ইউরোপের ট্রেন্ড বা ইরানের ট্রেন্ড আপনি এখন অল্প সময়ের মধ্যেই জেনে যাচ্ছেন। কাট, রং, হাতা, গলা—সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হয়ে যাচ্ছে। তাই ডিজাইনে এখন চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের পোশাকের মিল থাকায় ওদের ট্রেন্ড খুব খেয়াল রাখতে হয়। আমি এবার নকশা করেছি দুটি টার্গেট গ্রুপ মাথায় রেখে—শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও ছাত্র।  পাঞ্জাবির বেলায় যেমন চেক পাঞ্জাবি ও ছাপা পাঞ্জাবি নকশা করেছি। গত ঈদে কামিজের সঙ্গে চুড়িদার চলেছে। এবার সালোয়ারে এনেছি প্যান্ট কাট। আরো খেয়াল রেখেছি পোশাকটি যেন ঝলমলে হয়। কারণ এটা উত্সব।’

 

অন্য সময়ের পোশাক ও ঈদ পোশাক

নাদিরা জানিয়েছেন, কিছু ফারাক হয় অন্য সময়ের পোশাক ও ঈদ পোশাকে। ‘অন্য সময় ভাবি, ক্রেতা পোশাকটি পরে অফিসে যাবেন, না পার্টিতে। অফিস হলে এক রকম, পার্টি ড্রেস হলে আরেক রকম। ছাত্র হলে তো আরো অন্য ভাবনা। আর ঈদের ব্যাপারটি হলো উত্সব। উজ্জ্বল রং ব্যবহার করি। বাহারি নকশা হয়। এ সময় ক্রেতা বাজেট বেশি রাখেন। তাই হাতখুলে নকশা করার সুযোগ পাই।’ বলছিলেন নাদিরা।

 

এবারের ঈদে নাদিরার সেরা ৩

সব নকশাই নাদিরা যত্ন নিয়ে করেন। আলাদা করে বিশেষ তিনটি কাজের কথা বলতেই ঘাবড়ে গেলেন। শেষে বললেন, একটা ডাবল পার্ট সালোয়ার-কামিজ নকশা করেছি। সেটাকে বিশেষ বলা যেতে পারে। এর ওপরের দিকটায় কারচুপির কাজ আছে, ওড়নায় টাইডাই। পোশাকটির দাম ধরা হয়েছে চার হাজার ৯৯০ টাকা (ভ্যাট ছাড়া)। হাতের কাজ করা একটা পাঞ্জাবিকে বিশেষ বলা যেতে পারে। একটি শাড়ির কথাও মনে পড়ছে। তাঁতে বোনা শাড়িটির পাড় ও আঁচলে হাতের কাজ।

মন্তব্য