kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

আরেকটু আর্থিক সচ্ছলতা একজন সোনাজয়ীর প্রাপ্য

২০ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ২১ মিনিটে



আরেকটু আর্থিক সচ্ছলতা একজন সোনাজয়ীর প্রাপ্য

ছবি : মীর ফরিদ

মাবিয়া আক্তার সীমান্তকে সবাই চিনেছে এসএ গেমসে সোনা জেতার পর। আর সবাই হূদয়ে ধারণ করে নিয়েছে সেই জয়ের পর তাঁর চোখের কান্নায়। আনন্দের সেই কান্না পুরো জাতি দেখেছে কিন্তু দেখেনি জীবনযুদ্ধে ঝরানো ঘাম। সেই জীবনযুদ্ধের গল্পই এখন আবার হয়ে যাচ্ছে অনেকের জন্য প্রেরণার গল্প। দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া সেই কান্না থেকে শুরু করে নোমান মোহাম্মদের সাক্ষাত্কারটা পৌঁছাল ওঁর জীবনের অলিগলিতে। আর তৈরি হয় জেদ আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে বাংলাদেশের এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণত্বে উত্তরণের সোনালি স্কেচ

 

প্রশ্ন : আপনার সাক্ষাত্কার তো ওই কান্না থেকে শুরু না করলেই নয়। এসএ গেমসের পদকের মঞ্চে ওঠা, জাতীয় সংগীত শুনে আপনার চোখ দিয়ে অঝোর অশ্রু, হাত তুলে স্যালুট। অনেকবার বলেছেন, তবু আরেকবার একটু শুনতে চাই।

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত : আমি খুব দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা একটি মেয়ে। কোনো দিন কল্পনা করতে পারিনি কোনো কিছুতে দেশসেরা হব। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হয়ে গেলাম। মনের ভেতর কী যে অনুভূতি হচ্ছিল, বলে বোঝাতে পারব না। কত কষ্ট করেছি! আমার জন্য মা-বাবাকে কত কটু কথা শুনতে হয়েছে! ওই এক মুহূর্তে সব যেন মনের চোখে আবার দেখতে পাচ্ছিলাম। তবু হয়তো সামাল দিতে পারতাম নিজেকে। কিন্তু জাতীয় সংগীত যখন বেজে ওঠে, বাংলাদেশের পতাকা যখন উড়তে থাকে, তখন নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। সব কিছু মিলিয়েই আমার ওই কান্না, ওই স্যালুট।

প্রশ্ন : গুয়াহাটি যাওয়ার সময় ভেবেছিলেন অমন কিছু হওয়া সম্ভব?

মাবিয়া : নাহ্। শুধু শুধু মিথ্যা বলে তো লাভ নেই। আর গেমসে যাওয়ার দিন দশেক আগে ডান হাতের কনুইয়ে চিড় ধরা পড়ে। এ অবস্থায় বড় স্বপ্ন দেখা কঠিন। ভয় ছিল, হয়তো ব্রোঞ্জও পাব না। কিন্তু আমি আবার খুব জেদিও! দেশ ছাড়ার সময় বাবার সঙ্গে ফোনে শেষবার কথা হলে তাঁকে বলি, ‘বাবা, যদি আমার হাত ভেঙে ওখানে রেখে আসতে হয়, তাহলে তাই করব। তবু কোনো একটা পদক ঠিকই নিয়ে আসব।’ কিন্তু স্বর্ণপদক? না, ইনজুরি নিয়ে অতটা ভাবিনি।

প্রশ্ন : ইনজুরিটা নাকি গোপন করেছিলেন?

মাবিয়া : করতে হয়েছে আর কি! নইলে যে আমাকে এসএ গেমসের দলে নিত না। হাতের ব্যথায় ডাক্তারের কাছে যাই। উনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, প্লাস্টার করতে হবে। তখন চালাকি করে বলি, ‘প্লাস্টার করার টাকা তো নিয়ে আসিনি। কাল সকালে এসে করিয়ে যাব।’ আসলে তখন আমার কাছে টাকা ছিল। কিন্তু প্লাস্টার করলে আমার আর এসএ গেমসে যাওয়া হবে না। সে কারণে মিথ্যা বলি। ক্যাম্পে ফেরার পর কোচ জিজ্ঞেস করেন, ‘ডাক্তার কী বলেছেন?’ বললাম, ‘তেমন কিছু হয়নি। সামান্য ব্যথা লেগেছে। ঠিক হয়ে যাবে।’ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় আমার সঙ্গে ছিল গেমমেট মুস্তাইন বিল্লাহ। ও কোচদের এবং আমার বাসায় বলে দেয় সত্যিটা। তখন আমি আবার জেদ করি। যদিও ডাক্তার বলে দেন, এই অবস্থায় ভারোত্তলন করলে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। তবু তা করেছি। অনুশীলনের সময় অনুশীলন, বাকি সময় ঘাড়ের সঙ্গে হাত ঝুলিয়ে রাখি। নিজেই নিজের ডাক্তারি করি। জেতার পরে কান্নার একটা কারণ ওই ইনজুরিও। হাতে কী যে প্রচণ্ড ব্যথা ছিল!

প্রশ্ন : ওই এসএ গেমসে বাংলাদেশের প্রথম সোনার পদক পান আপনি। অন্যদের কাছ থেকে তখন সম্মান পেয়েছেন কেমন?

মাবিয়া : প্রথম ওজন তোলার জন্য যখন উঠি, চারপাশে বাংলাদেশের কর্মকর্তা কিংবা গণমাধ্যমের কাউকে তেমন দেখিনি। আমাকে নিয়ে প্রত্যাশা বেশি না বলেই সবাই হয়তো অন্যান্য ডিসিপ্লিন নিয়ে ব্যস্ত। এখন বললে অনেকে বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু ওই মুহূর্তে কেন যেন মনে হলো, আমার স্বর্ণপদক জয়ের আশা থাকলে সবাই এখানে থাকত। আমাদের ছয়বার ওজন তুলতে হয়। প্রতিবার ওজন তুলে মঞ্চ থেকে নামার সময় দেখছি, পরিচিত লোক যেন বাড়ছে। কর্মকর্তা-সাংবাদিক সবাই আসছেন। আর শেষে স্বর্ণপদক জয়ের ঘোষণা হওয়ার পর তো মনে হয়, গুয়াহাটির ওই জায়গাটি ছোট্ট একটা বাংলাদেশ। সবাই দেখছে শুধু আমাকে। সবাই ছবি তুলছে। একেবারে বিয়েবাড়ির বউ যেন আমি!

প্রশ্ন : বিয়েবাড়ির বউ! হ্যাঁ, কোথায় যেন পড়েছি, ছোটবেলায় আপনার জীবনের লক্ষ্য ছিল বউ হওয়া, যেন সবাই আপনার ছবি তোলে। সত্যি?

মাবিয়া : (হাসি) সত্যি। কাজিনদের বিয়ের সময় দেখতাম, ওরা গয়নাগাটি পরছে আর সবাই ওদের ছবি তুলছে। তখন মনে হতো, বড় হয়ে আমাকে বউ হতেই হবে। অফিসার না, খেলোয়াড় না, শিক্ষক না—বউ হতে চাই। আমি এখনো বউ হইনি। তবে ইচ্ছাটা অন্যভাবে পূরণ হয়ে গেছে। সোনার গয়নার বদলে গলায় সোনার পদক উঠেছে। আর ছবি তো এখন সবাই তোলে। রাস্তাঘাটে লোকজন চিনে ফেললেই সেলফি!

প্রশ্ন : গুয়াহাটি থেকে দেশে ফেরার পরই তো আপনার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়...

মাবিয়া : দেশে ফেরার পর পর না, এক সপ্তাহ পর।

প্রশ্ন : এক সপ্তাহ কেন?

মাবিয়া : ওই সপ্তাহ কেউ আমার খোঁজ নেয়নি। গণমাধ্যম যখন আমার বাসায় গিয়ে তা টিভিতে দেখানো শুরু করে, লেখালেখি হয়, মন্ত্রণালয়ের সচিব স্যার আসেন বাসায়, এরপর সত্যিকার অর্থে পরিচিতি পাই। গুয়াহাটি থেকে বেনাপোল দিয়ে সড়কপথে ফিরেছি। ভেবেছিলাম, আমাকে বাংলাদেশে বরণ করে নেওয়ার জন্য অনেকে থাকবে। কেউ ছিল না। ফুলের একটা পাপড়ি নিয়েও কেউ দাঁড়িয়ে নেই। ‘বাংলাদেশে স্বাগতম’ লেখা ব্যানার নিয়ে কোনো কর্মকর্তা নেই, নেই সরকার-ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কেউ। তবে এই দুঃখের মধ্যেও প্রবল একটা আনন্দ আছে। কারণ বেনাপোল সীমান্তের ইমিগ্রেশনের কিছু কর্মকর্তা তাঁদের নিজেদের গাছের গোলাপ দিয়েছেন আমার হাতে। পরে বলেছেন, আমি আসব বলে ওই সাদা গোলাপটি ফোটার পরও তিন দিন ধরে গাছেই রেখেছেন, শুধু আমাকে দেওয়ার জন্য। খুব খুশি হয়েছিলাম। আর বাড়ি ফেরার পর মা-বাবা, ভাই-বোনরা ফুলের তোড়া দিয়েছে। তবে ওই যে বললাম, পরের এক সপ্তাহও আমার খোঁজ কেউ রাখেনি। মিডিয়া, সচিব স্যার আমার বাড়িতে আসার পর ভিড়ের শুরু।

প্রশ্ন : আমেরিকাপ্রবাসী এক দম্পতি তাঁদের সন্তান নিয়ে এসেছিলেন আপনাকে দেখাতে...

মাবিয়া : ওনাদের বাড়ি খিলগাঁও। ওই সময়ে আমেরিকা থেকে দেশে এসেছেন। আমার বাসা খুঁজে খুঁজে গিয়ে দেখা করেন। সঙ্গে দুটো বাচ্চা। ওদের বলে, ‘দেখো, চেষ্টা থাকলে কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় যাওয়া যায়!’

প্রশ্ন : আপনার শুরুর ওই ‘জায়গা’টি সম্পর্কে একটু যদি বলেন। সাক্ষাত্কারের প্রথম প্রশ্নের উত্তরে প্রথম বাক্যটিই বলেছেন, ‘আমি খুব দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা একটি মেয়ে।’ আপনার সেই পারিবারিক অবস্থাটা একটু জানতে চাই।

মাবিয়া : খুব ছোটবেলা থেকে খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগের এই বাসায় পরিবারের সবাই থাকে। নিচে পানি, ওপরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে বাসায় যেতে হয়। টিনের ঘর। বুঝতেই পারছেন, একেবারে বস্তি। আমার বাবা মো. হারুনুর রশিদ; উনি ছোট্ট একটি মুদির দোকান চালাতেন। মা আক্তার বানু সংসার চালাতেন খুব কষ্ট করে। আমার বড় ভাই রাসেল, বড় বোন আঞ্জুমান। আমি সবার ছোট।

প্রশ্ন : আপনার মাকে এক সাক্ষাত্কারে বলতে শুনেছি, ওনার গর্ভে চলে আসার পরও বাবা নাকি চাননি আপনি পৃথিবীতে আসুন?

মাবিয়া : (হাসি) এ নিয়ে বাবাকে এখন কত খেপাই! উঠতে-বসতে বলি, ‘তুমি খুব খারাপ। আমাকে তো চাওনি। এখন ওই ফেলে দিতে চাওয়া মেয়েকে দিয়েই সবাই তোমাকে চেনে।’ আসলে তাঁর প্রথম দুই সন্তানের একটি ছেলে, একটি মেয়ে। বাবা তাই চাননি, আর কোনো সন্তান হোক। আমি গর্ভে চলে আসার পর মাকে বলেন গর্ভপাত করানোর জন্য। কিন্তু আমার নানি খুব বকা দেন বাবাকে। বলেন, ‘ও পৃথিবীতে আসবে। যদি পালতে না পার, আমি পালব।’ এই আমার জন্ম হওয়ার পর বাবা এত খুশি হন যে অন্য ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে তা হননি। গ্রাম থেকে দাদা আসেন। বাবাকে তিনি বলেন, ‘হারুন, তোর এই মেয়েটা ভবিষ্যতে এমন একটা মেয়ে হবে, যাকে পুরো দেশ চিনবে।’ বাবা দাদাকে বলেন, ‘আব্বা, আপনি পাগল হয়েছেন! আমি গরিব মানুষ, দিন আনতে দিন খাই অবস্থা। এই মেয়েকে কিভাবে বড় কিছু বানাব?’ দাদা বলেন, ‘তোর কিছু করতে হবে না। এমনি এমনিই হবে। এই মেয়ের নামে তুই একদিন গর্ব করবি।’ এসএ গেমসে সোনা জেতার পর আমি মাঝেমধ্যে ভাবি, দাদা কিভাবে আমাকে দেখে অমন কথা বলেছিলেন!

প্রশ্ন : বাবা নাকি আপনাকে ছোটবেলায় খুব মারতেন?

মাবিয়া : না মেরে উপায় আছে! খুব ডানপিটে মেয়ে ছিলাম তো। রাস্তায় মারামারি আমার জন্য কোনো ঘটনা না। চুরি-বাটপারি নিয়ে থাকতাম। আমার নামে যে অভিযোগ আসত তা লিখে রাখলে প্রতিদিন এত্ত এত্ত কাগজ লাগত। আরেকটি ব্যাপার হলো, এলাকায় মেয়েদের সঙ্গে আমার কোনো খেলা ছিল না। ফুটবল, মার্বেল, সাত চারা এমন সব খেলা ছেলেদের সঙ্গে। মারামারিও। বাইরে মারামারি করে বাসায় আবার মার খেতাম বাবার হাতে।

প্রশ্ন : ওই মার খাওয়া থেকেই তো এই ভারোত্তোলনে?

মাবিয়া : এক অর্থে তাই। মামা কাজী শাহাদাত হোসেন বক্সিংয়ের কোচ। উনি একদিন বাসায় এসে দেখেন, আমি কাঁদছি। বাবা মেরেছেন। মা-ও বকাবকি করছেন, ‘এই মেয়েটাকে নিয়ে আমি কী করব! পড়ালেখা করে না, স্কুলে যায় না। কালো এই মেয়েটাকে কিভাবে বিয়ে দেব?’ মামা তখন ওনাদের শান্ত করেন। বলেন, ‘কাল সীমান্তকে তৈরি করে রেখ; এক জায়গায় ওকে নিয়ে যাব।’ পরদিন মামা তাঁর মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে আমাকে নিয়ে যান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণে।

প্রশ্ন : বক্সিংয়ে নয় কেন?

মাবিয়া : মেয়েদের বক্সিং তো তখনো শুরু হয়নি। সে কারণে মামা বক্সিং কোচ হলেও আমাকে নেন ভারোত্তোলনে। ওখানকার কোচ ফারুক সরকার কাজল মামার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে হিসেবেই তাঁর কাছে যাওয়া। পরে ২০১১ কিংবা ২০১২ সালে মেয়েদের বক্সিং প্রশিক্ষণ চালু হলে আমাকে দিয়ে চেষ্টা করান মামা। কিন্তু তত দিনে ভারোত্তোলনটা ভালো লেগে গেছে। বক্সিংয়ের প্রশিক্ষণে গিয়ে ইচ্ছা করে হাঁটুতে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে রাখতাম। মামাকে বলতাম, বক্সিং খেলতে গিয়ে এই অবস্থা। ওনার সামনে হাঁটতাম ল্যাংচে ল্যাংচে। অথচ পরদিন উনি ভারোত্তোলনে গিয়ে দেখেন, দিব্যি আমি প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। মামা জিজ্ঞেস করেন, ‘কী রে, তোর না দেখলাম হাঁটুর ব্যথা!’ জবাব দিই, ‘ওটা ছিল বক্সিং না করার ব্যথা। ভারোত্তোলন করার জন্য কোনো ব্যথা নেই।’ উনি বুঝে যান। আর চাপাচাপি করেননি। শুধু চেয়েছেন, তাঁর ভাগ্নি যেন দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে। তা কিছুটা পেরেছি বলে আমার আনন্দ। এসএ গেমসে ওই স্বর্ণপদক জয়ের পর দেশে আমি প্রথম কথা মা-বাবার সঙ্গে বলিনি, বলেছি মামার সঙ্গে। উনি বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন, ‘তুই সত্যি স্বর্ণপদক পেয়েছিস!’ তাঁর কণ্ঠে কী যে খুশি ছিল সেদিন!

প্রশ্ন : মামার সঙ্গে ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণে গিয়ে প্রথম থেকেই পছন্দ হয়ে গেল খেলাটি?

মাবিয়া : তা নয়। ২০১০ সালের শুরুর দিকে গেলাম। প্রথম দিন তো আমার মোটেই ভালো লাগছিল না। কী লোহা-লক্কড়, ওগুলো পড়ে গেলে বিকট শব্দ! আর তখন আমি কোথাও পাঁচ মিনিট বসি না। সারাক্ষণ ছুটোছুটি, সারা দিন মারামারি। ভারোত্তোলনের ওখানে নিয়ে যাওয়ার পর মামাকে তো বলিও, ‘আমি এসব করব না।’ কিন্তু দু-তিন দিন পর, একটু-আধটু ওজন তোলার পর ভালোবেসে ফেলি খেলাটি।

প্রশ্ন : তখনকার প্রতিষ্ঠিত ভারোত্তোলকরা নাকি আপনাকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেনি?

মাবিয়া : তখন মোল্লা সাবিরা, ময়না, বিদ্যুৎ, হামিদুল অনেক বড় বড় নাম। ওনারা ভারোত্তোলন করার সময় আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকি! নির্দিষ্ট কারো নাম বলব না, তবে প্রতিষ্ঠিতরা আমাকে সত্যি ভালোভাবে নেননি। এখন আবার বুঝি যে এটি স্বাভাবিক। কেন? কোনো ক্রীড়াবিদই চায় না, তার পরবর্তীতে এমন কেউ তৈরি হোক যে সেরা হবে। তাকেও ছাড়িয়ে যাবে। ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান যেমন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। উনি হয়তো মুখে মুখে বলবেন, ‘আমি চাই বাংলাদেশে আমার মতো আরো অনেক ক্রিকেটার হোক।’ কিন্তু মন থেকে তা কখনোই চাইবেন না। আমিও এখন চাই না, মাবিয়ার স্থান আরেকজন নিয়ে নিক। সারা জীবন সেরা হিসেবে টিকে থাকতে চাইব। সে কারণেই হয়তো শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত ভারোত্তোলকরা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। মঞ্চে ওনাদের দিকে গেলে, প্লেটে একটু হাত লাগলে, রড ধরলে খুব ঝাড়ি দিতেন। জিমনেশিয়ামের বাইরে আমার সঙ্গে কেউ অমন করলে এক ঘুষিতে থোঁতা ভচকে দিতাম। কিন্তু ওখানে কিছু বলতাম না। শুধু একদিন বলেছিলাম।

প্রশ্ন : কী?

মাবিয়া : এমনই এক ঘটনায় আমাকে কটু কথা বলেন সিনিয়র এক খেলোয়াড়। তাঁর নামটি বলছি না, কষ্ট পাবেন। তবে সেদিন তাঁকে আমি জবাব দিই, ‘আমার সঙ্গে আজ এমন করলেন তো? ঘটনাটি মনে রাখুন। একদিন এমন কিছু করব, তখন আপনার পার্টনার হওয়ার জন্য আপনিই বলবেন।’ সত্যি বলতে কি, ওই ঘটনার পর আমার জেদ অন্য রকম হয়ে যায়। খেলোয়াড় হিসেবে সামনে এগিয়েছি এরপর।

প্রশ্ন : প্রতিষ্ঠিত ভারোত্তোলকদের সঙ্গে লড়াইটা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু এর চেয়ে অনেক বড় লড়াই নিশ্চয়ই ছিল সমাজের বিপক্ষে? এলাকার লোকজনের বাঁকা কথার বিরুদ্ধে?

মাবিয়া : তা তো অবশ্যই। একটা মেয়ে প্যান্ট-শার্ট পরে ছেলেদের মতো বেরিয়ে যাচ্ছে, এটি কেউ মেনে নিতে পারত না। সকাল সকাল বেরিয়ে যাই, অনুশীলন শেষে রাতে ফিরি। তখন আমি ভীষণ ক্লান্ত। এমন তো নয় যে সেজেগুজে ফ্যাশন করে এসেছি। তবু এলাকার লোক নানা খারাপ কথা বলত বাবাকে, ‘মেয়েটাকে রাস্তায় বের করে দিয়ে জাহান্নামের রাস্তা পরিষ্কার করলে।’ ওনার মন খারাপ হতো। বাসায় এসে বলতেই আমি উল্টো বাবাকে শুনিয়ে দিতাম, ‘ওরা এমন বলছে তো আমি কী করব? নাচব?’ বাবা আর কী বলবেন! তবে ২০১১ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আমি যখন রৌপ্য পাই, তখন বাবা এলাকার লোকদের উল্টো কথা শুনিয়ে দিতেন। আর উৎসাহ দিতেন আমাকে।

প্রশ্ন : সেই আপনি যখন এসএ গেমসে সোনার পদক জয়ের পর ফেরত এলেন, এলাকার ওই লোকদের প্রতিক্রিয়া ছিল কেমন?

মাবিয়া : যখন ভোরে অনুশীলনে যেতাম কিংবা রাতে ফিরতাম, এলাকার খারাপ রাস্তাটুকু বাবা এগিয়ে দিয়ে যেতেন। যে জায়গায় বখাটে ছেলেরা থাকে আর কি! আর এখনকার পরিবর্তন শুনবেন? কিছু দিন আগে মামার বাসায় একটা গায়েহলুদের অনুষ্ঠান ছিল। সেখান থেকে আমার বাসা খুব কাছে, রিকশা ভাড়া ১৫ টাকা, হেঁটে আসতে লাগে ১০ মিনিট। গায়েহলুদ শেষ করে বেরোতে বেরোতে রাত ১টা বেজে যায়। বাসায় ফেরার সময় রাস্তায় দেখি ওই বখাটে ছেলেগুলো। ওনারা আমার অনেক বড়, তুই করে বলেন। আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুই কই গেছিলি?’ বললাম, ‘মামার বাসায় হলুদের অনুষ্ঠান ছিল।’ ওনারা বলেন, ‘এত রাতে সাজুগুজু করে বাসায় ফিরছিস। তোর কি কোনো কমন সেন্স নাই? যদি রাস্তায় বাজে ছেলেপেলেরা কিছু বলে?’ আমি তো থ! ঠিক এই ছেলেগুলো আগে আমাকে কত খারাপ কথা বলেছে, এখন তারাই আমাকে এভাবে দেখভাল করছে। বাকি পথটা ওরা আমাকে রীতিমতো গার্ড দিয়ে বাসায় পৌঁছে দেয়। কেচিগেট দিয়ে ঢোকার পর ওপরে বারান্দায় গিয়ে যখন বলি, ‘ভাইয়া, ঠিক আছে, আমি এসেছি’, ততক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। একটা স্বর্ণপদকে এভাবেই আমার জীবনটা পাল্টে গেছে। এ ছাড়া অচেনা মানুষের কত ভালোবাসা যে পাই! একবার অনুশীলন শেষে রিকশা করে ফিরছি। সঙ্গে রেশমা আপু। জ্যামে রিকশা একটু থেমেছে। মধ্যবয়স্ক একজন লোক এসে বেশ দরদ দিয়েই আমাকে বলতে শুরু করেন, ‘এই মেয়ে, এত কান্না করতে হয়! মানুষ এভাবে কাঁদে!’ আমি তো প্রথমে বুঝিইনি, কী বলছেন উনি। পরে বুঝলাম। রেশমা আপু পাশ থেকে বলে ওঠেন, ‘ওর মতো আপনি মেডেল পেলে বুঝতেন, কেন এত কান্না করেছে।’ এমন অনেকের ভালোবাসা-দোয়া এখন পাই আমি।

প্রশ্ন : শুরুর কথা বলছিলেন। বললেন ২০১১ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রুপার পদক পাওয়ার কথা। সাফল্যের পথচলাটা শুরু এর পরই?

মাবিয়া : হ্যাঁ। এরপর আমি তিনটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতি। একটি বাংলাদেশ গেমসেও তাই। এ ছাড়া ২০১৫ সালে পুনেতে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপ, তারপর এসএ গেমসের সোনার পদক। আর গত বছরের শেষে কাতারের আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি স্বর্ণ। আন্তর্জাতিকে চারটি, দেশে চারটি স্বর্ণপদক। আর সব মিলিয়ে মেডেল আছে ২৪টি। এত এত প্রতিযোগিতার মধ্যে আলাদা করে বলতে চাই নেপালের ২০১২ সালের দক্ষিণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কথা। সেটি আমার প্রথম বিদেশ সফর। এ উপলক্ষে ব্লেজার পাই, সেক্রেটারি স্যারের স্ত্রী শাড়ি উপহার দেন। নতুন পাসপোর্ট করি। টিকিট করিয়ে দেওয়া হয়। পাসপোর্ট, টিকিট, ব্লেজার, শাড়ি—এই চার জিনিস প্রতিদিন চেক করি। সব ঠিক আছে তো। নেপাল যাওয়ার আগের রাতে জিনিসগুলো স্যুটকেসে রাখিনি। বুকে জড়িয়ে রাখি। একটু পর পর ঘুম ভেঙে যায় আর মনে হয়, সকালে ঠিকঠাক বিমানবন্দরে যেতে পারব তো? ফ্লাইট মিস হবে না তো? যখন বিমানবন্দরের দিকে রওনা দিই, বাবা কী যে মমতায় আমার গায়ের ওই ব্লেজারে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন! কী যেন, হয়তো ভাবছিলেন উনি নিজে কখনো ব্লেজার পরতে পারেননি; আমি অন্তত কখনো দেখিনি। তাঁর মেয়ে ব্লেজার গায়ে দিয়ে বিদেশে যাচ্ছে, তা দেখে বাবা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। আর এখন পর্যন্ত তো আমি ১৪টি দেশে গিয়েছি। সব ভারোত্তোলনের জন্যই।

প্রশ্ন : পড়াশোনা করেছেন কত দূর?

মাবিয়া :  ছোটবেলায় তখন চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলাম। এখন আবার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি।

প্রশ্ন : মা নাকি ছোটবেলা থেকেই চেয়েছেন, আপনি কোনো একটা খেলার সঙ্গে থাকবেন?

মাবিয়া : আরে নাহ্। উনি চেয়েছেন, আমি মিডিয়া লাইনে যাই। আমার বয়স যখন এক-দুই মাস, তখন এফডিসি থেকে কিছু লোক আসে। একটা সিনেমার শুটিংয়ের জন্য আমাকে নিয়ে যাবে। মা রাজি থাকলেও বাবা রাজি না। তখন আবার ছেলেধরার ব্যাপারটা বেরিয়েছে। বাবা বলেন, ‘মেয়েকে আমি দেব না। ওকে গলা কেটে রেখে দেবে।’ বাবার চেয়ে বেশি রাগ করেন নানি। উনি মাকে রেগে গিয়ে বলেন, ‘বুঝেছি, এটি তোদের পরিকল্পনা। আমার নাতিকে তোরা মেরে ফেলবি। কয়েক দিন আগে তোর জামাই চায়নি মেয়েটি হোক। এখন তুই চাস আমার নাতিকে ওরা নিয়ে যাক।’ নানি ও বাবার কারণে আর এফডিসিতে আমাকে দেওয়ার সাহস করেননি মা।

প্রশ্ন : এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের পরের দিন আপনার বাবা নাকি অনেক দৈনিক সংবাদপত্র কিনে আনেন আপনার ছবি দেখার জন্য?

মাবিয়া : তখন আমি ভারতে, পরে এসে শুনেছি। বাবা আগে থেকেই আমাকে বলতেন, ‘কী খেলা খেল, পেপারে তো তোমার কোনো ছবি আসে না।’ সেই আমার ছবি সব সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় আসে এসএ গেমসে সোনার পদক জেতার পর। বাবা দোকানে গিয়ে সব পেপার কিনে আনেন। প্রায় ১৫-২০টি। পেপারগুলো খাটের ওপর বিছিয়ে রাখেন। ওই সময় কাউকে খাটে বসতে দেননি।

প্রশ্ন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তো আপনার দেখা হয়েছে। সেটি কতটা স্মরণীয়?

মাবিয়া : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে, এটি কি জীবনে ভেবেছিলাম! উনি খুব আদর করেছেন। বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। রাজউকের উত্তরায় ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেটির নির্মাণকাজ যত দিন না শেষ হবে, তত দিন থাকার জন্য বাড়ি ভাড়া দেবেন। সে টাকাতেই খিলগাঁওয়ে কয়েক মাস ধরে নতুন ফ্ল্যাটে উঠেছি।

প্রশ্ন : পরিবারে কি এখন স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে?

মাবিয়া : তা বোধ হয় বলা যাবে না। বাড়িভাড়াটা দিতে হয় না, এই যা! বাবার মুদি দোকানটা নেই, উনি বেকার। ভাই আবুল খায়ের গ্রুপে ছোটখাটো চাকরি করেন। আমার ওপর তাই সংসারের অনেকটা। ২০১১ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পদক জয়ের পর বাংলাদেশ আনসারের সঙ্গে যুক্ত হই। স্থায়ী চাকরি না, মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকার চুক্তিভিত্তিক। পরে ২০১৫ সালে পুনেতে স্বর্ণপদক জয়ের পর আমাকে স্থায়ী করা হয়। এখন বেতন পাই সাড়ে আট হাজার টাকা। এই টাকা দিয়েই পুরো সংসার মোটামুটি চালাতে হয়।

প্রশ্ন : এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের পর পুরো দেশে আপনাকে নিয়ে যেমন মাতামাতি, তাতে আরেকটু আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চয়ই আশা করেছিলেন?

মাবিয়া : অবশ্যই। আমরা ক্রিকেটারদের মতো কোটি কোটি টাকা চাই না, ফুটবলারদের মতো লাখ লাখ টাকা চাই না। কিন্তু আরেকটু আর্থিক নিশ্চয়তা পাওয়াটা মনে হয় আমার প্রাপ্য। ২০১৪ সালে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে বৃত্তি দেওয়া হতো পাঁচ হাজার টাকা করে। আর সেরা তিনজনকে ১০ হাজার করে। আমি তখন ওখান থেকে বৃত্তির ১০ হাজার, সঙ্গে আনসারের চুক্তির সাড়ে তিন হাজার—এই টাকা দিয়ে ভালোভাবে চলতাম। এখন ওই বৃত্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আনসারের চাকরি স্থায়ী হলেও মাসে পাই সাড়ে আট হাজার টাকা। মাসিক আয় তাই আগের চেয়ে কম। দেশকে এত কিছু এনে দেওয়ার পর আরেকটু ভালোভাবে থাকার আশা নিশ্চয়ই করেছিলাম।

প্রশ্ন : ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা নাকি আপনার প্রেরণা? তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে কখনো?

মাবিয়া : উনি বাংলাদেশের অনেকের অনুপ্রেরণা। পায়ে কত ইনজুরি হয়েছে! তবু খেলে যাচ্ছেন। প্রথম আলোর এক অনুষ্ঠানে মাশরাফি ভাইয়ার সঙ্গে দেখা হয়। খুব ভালো লেগেছে। অনেকের ইচ্ছা থাকে বলিউডের সালমান খান, শাহরুখ খান কিংবা বাংলাদেশের সাকিব খান অথবা কলকাতার দেবকে দেখার। আমার তেমন ইচ্ছা কখনো নেই। সব সময় মনে হয়, আমি রোনালদোকে দেখব, গেইলকে দেখব, মাশরাফি ভাইকে দেখব। এবারের অলিম্পিকে যেতে পারলে ইচ্ছা ছিল উসাইন বোল্টকে দেখার, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার। তা তো হলো না। তবে আমাদের মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটি একটি স্বপ্নপূরণ বলতে পারেন।

প্রশ্ন : ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার স্বপ্নটি কেমন?

মাবিয়া : আমার বাবার স্বপ্ন, তাঁর মেয়ে এক ডজন সোনার পদক তাঁকে এনে দেবে। সেটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। এর মধ্যে চারটি জিতেছি। আমাকে আরো অন্তত আটটি স্বর্ণপদক জিততে হবে। সঙ্গে বাবার আরেক ইচ্ছা, তাঁর মেয়ে অলিম্পিকে পদক জিতবে।

প্রশ্ন : বাবার আবেগ একপাশে সরিয়ে রেখে বাস্তবতার নিরিখে কী মনে হয়, অলিম্পিকে আপনার পক্ষে পদক জয় সম্ভব?

মাবিয়া : মানুষের অসম্ভব কিছু নেই। আমি যদি এত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হতে পারি, তাহলে অলিম্পিকে পদক জয়ও সম্ভব। ২০১৬ অলিম্পিকে যেতে পারলাম না ফেডারেশনের পলিটিকসের জন্য। যাক, সে কথা আর বলতে চাই না। তবে ভবিষ্যতে চেষ্টা করব আবার। আমার স্বপ্ন অলিম্পিক খেলা, বাবার স্বপ্ন অলিম্পিকে পদক জয়—এ জন্য আমি চেষ্টা করব অবশ্যই।

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন। ২০১৬ এসএ গেমসের পর হঠাৎ করে বদলে যাওয়া এই জীবন নিয়ে আর এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ার যতটুকু এগিয়েছে, তা নিয়ে আপনার তৃপ্তি কতটা?

মাবিয়া : মা-বাবা আমাদের খুব কষ্ট করে বড় করেছেন। ছোটবেলা থেকে ভেবেছি, তাঁদের শেষ বয়সটা যেন সুখের হয়। চেয়েছি, ঢাকায় নিজেদের বাড়িতে তাঁদের রাখতে পারি। সেই স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী পূরণ করেছেন। আমি কৃতজ্ঞ। জীবনের যে পর্যায় থেকে যেখানে এসেছি, তাতে অবশ্যই সন্তুষ্ট। আর ক্যারিয়ারের কথা বলতে, এখন আমার প্রধান লক্ষ্য কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জেতা আর অলিম্পিকে খেলা। সঙ্গে বাবার আরেক স্বপ্ন আছে, এমন একটা রেকর্ড যেন তাঁর মেয়ে করে যায়, যা পরের ১০-১৫ বছরেও ভাঙার মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে না। তাঁর এই স্বপ্নপূরণের চেষ্টাও করব।

মন্তব্য