kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জেলার খেলা : মৌলভীবাজার

৪৪ বছরে ৪ ক্রিকেট লিগ!

জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় জোগাড়ের পাইপলাইনই হচ্ছে ছোট-   

৮ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



৪৪ বছরে ৪ ক্রিকেট লিগ!

মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়াম, ছবি : আবদুল হামিদ মাহবুব

হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিলের পাশাপাশি পাহাড়-টিলার মনোমুগ্ধ সহাবস্থান মৌলভীবাজারে। এই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ব্যাপারটা নেই আবার ক্রীড়াঙ্গনে। পুরো দেশ ক্রিকেট জোয়ারে ভাসলেও স্বাধীনতার ৪৪ বছরে এ জেলায় ক্রিকেট লিগ হয়েছে মাত্র চারবার! ফুটবলের খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গত ১০ বছরে প্রথম বিভাগ লিগ হয়েছে একবার! দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই খেলার এ হাল হলে অন্যগুলো নিশ্চয়ই লেজেগোবরে? সেখানে আবার চমক। কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, টেবিল টেনিস, অ্যাথলেটিক্সের মতো খেলাগুলো কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য না পেলেও স্থানীয়ভাবে খেলাগুলো হচ্ছে- এটাই বা কম কিসে।

পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ১৫ বছর আগে চাকরিসূত্রে ছিলেন মৌলভীবাজারে। সে সময় তিনি চালু করেছিলেন পুলিশ সুপার গোল্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। সেই টুর্নামেন্টটা এখনো হয় নিয়মিত। তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৪৪ বছরে মাত্র চারটিই ক্রিকেট লিগ হয়েছে। প্রথম লিগ ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০০২, ২০০৯-১০ ও ২০১২-১৩ মৌসুমে। সর্বশেষ লিগের চ্যাম্পিয়ন ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। দ্বিতীয় বিভাগ না থাকাটাও ক্রিকেটের প্রসারে প্রতিবন্ধকতা। সেই বাধা দূর করতে এ বছর থেকে অবশ্য দ্বিতীয় বিভাগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

লিগ সেভাবে না হলেও মেয়েদের ক্রিকেট দল আর বয়সভিত্তিক দলগুলোর যথেষ্ট সাফল্য আছে মৌলভীবাজারের। তিনবার সিলেট বিভাগীয় অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলেছে মেয়েদের দল। সেখানে দুইবার তৃতীয় স্থান আরেকবার হয়েছে চতুর্থ। তবে স্থানীয় খেলায়াড়দের বদলে খুলনার জাহানারা আলমের মতো অন্য জেলার মেয়েদের নিয়ে দল গড়ে এই সাফল্য তাঁদের। এ নিয়ে লেভেল টু করা জেলা দলের কোচ রাসেল আহমেদ বলেন, 'বিসিবি থেকে মেয়েদের ক্রিকেটে যেকোনো জেলার খেলোয়াড়ের অন্য দলে খেলার নিয়ম আছে। তাই খুলনার জাহানারার মতো অনেকে খেলে আমাদের দলে। এখানে পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর সংগঠকদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই ক্রিকেট লিগ হয়েছে মাত্র চারটি। লিগ নিয়মিত হলে বেরিয়ে আসবে অনেক খেলোয়াড়। ' এই রাসেল আহমেদের হাত ধরেই জাতীয় দলে খেলেছেন আবুল হোসেন রাজু আর অনূর্ধ্ব-১৯ দলে শাহনুর রহমান। তাঁর হাতে গড়া অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬ ও ১৮ দল ভালো করে বিভাগীয় ক্রিকেটে।

ফুটবলে একটা সময় দারুণ ঐতিহ্য ছিল মৌলভীবাজারের। ছমির উদ্দিন খেলেছেন কলকাতা মোহামেডানে। জাতীয় দলের ইমরান রানার সঙ্গে জেলার ফুটবলের যথেষ্ট সুনাম বাড়িয়েছিলেন গৌরাঙ্গ রায়, বিলাত, ছুরুক, জয়নাল, রেজ্জাক, মুশতাক রাজা, ব্লেক মতিন, কামাল উদ্দিন, শাহ মোহাম্মদ আলী শাহেদরা। সেই জেলায় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গঠন হওয়ার পর ফুটবল লিগ হয়েছে কেবল একবার! সেটাও গত বছর। এখন থেকে আর বিরতি না পড়ারই প্রতিশ্রুতি দিলেন জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তনজু খান, 'নানা কারণেই ১০ বছরের মতো লিগ হয়নি মৌলভীবাজারে। কারো সমালোচনা করতে চাই না। সম্মিলিতভাবে ব্যর্থতাটা আমাদেরই। তবে গত বছর যখন লিগ করতে পেরেছি, তখন আর পেছনে ফিরে তাকানোর উপায় নেই। ' ডিএফএ গঠনেরও বছর দশেক আগে লিগের বাইলজ না মেনে ডিএসএ কিছু নিয়ম যোগ করায় মামলা করেছিল ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। তাতে আদালত স্থগিতাদেশ দেন সেই টুর্নামেন্টের ওপর। এটাও কালো অধ্যায় হয়ে আছে মৌলভীবাজারের ক্রীড়াঙ্গনে। কেননা এ ঘটনার জেরে ১১ বছর বন্ধই ছিল ফুটবল লিগ!

এমন অন্ধকারের পাশে আছে আলোও। সীমান্তবর্তী শহর হওয়ায় জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে প্রায়ই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খেলতে যায় মৌলভীবাজার জেলা দল। তেমনি ভারতের কিছু একাডেমি বা রাজ্য দলও আসে নিয়মিত। গত বছরই বনগাঁও ক্রিকেট একাডেমি মৌলভীবাজারে খেলে গেছে ৯টি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। এই একাডেমির ছাত্র ছিলেন ভারতীয় ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ সামি। তেমনি ১৯৮৪ সাল থেকে হয়ে আসা জেলা প্রশাসক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টেও খেলতে আসেন ভারতের নামকরা খেলোয়াড়রা। ১০০ দলের বেশি নিয়ে এ টুর্নামেন্ট নিয়মিত হলেও জাতীয় ব্যাডমিন্টনে তেমন সাফল্য নেই মৌলভীবাজারের। এর কারণ হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিছবাউর রহমান বলেন, 'টুর্নামেন্টটা হয় খোলা মাঠে। অথচ জাতীয় ব্যাডমিন্টন খেলতে হয় ইনডোরে টার্ফের মধ্যে। আমাদের এখানে একটা ইনডোর স্টেডিয়াম হলে ব্যাডমিন্টনে অনেক ভালো করতাম। '

স্বাধীনতার আগে মৌলভীবাজারে নিয়মিতই হতো পোলো, ঘোড়দৌড়, টেনিসের মতো খেলা। শ্রীমঙ্গলের আলিয়াছড়া থেকে শুরু করে বড়লেখার পাথারিয়া ও জলঢুপের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত পাহাড়ঘেরা সমতলজুড়ে ১৭টি মাঠ মুখরিত থাকত খেলায়। এ মাঠগুলোয় খেলোয়াড়দের আমন্ত্রণ জানানো হতো সুনিপুণ ভাষাশৈলীর চিঠিতে। এ ধরনের কয়েকটি চিঠি এখনো আছে ক্রীড়া সংগঠক নারায়ণ কান্তি চাকলাদার, অ্যাডভোকেট নাজমুল হক আর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ চৌধুরীর পরিবারের কাছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরও ফুলছড়ার কাছে হারের তেতো স্মৃতি নিয়ে ফেরার কথা জানালেন শ্রীমঙ্গলের কৃতী ফুটবলার বিজয় কান্তি ভট্টাচার্যের ছেলে বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন। ব্রিটিশরা চা বাগান ছেড়ে যাওয়ার পর পরই ভাটা পড়ে চা বাগানকেন্দ্রিক খেলায়।

একটা সময় মৌলভীবাজারে জনপ্রিয় ছিল চাম্পা লাল সান্ড শিল্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টটির পাশাপাশি হারিয়ে গেছে আড়াই কেজির মতো রুপায় তৈরি সেই শিল্ডটাও। স্বাধীনতার পর ব্যবসায়ী আবদুল্লাহর নামে দুইবার হয়েছে আবদুল্লাহ গোল্ডকাপ। সাড়া জাগিয়ে বন্ধ হয়েছে সেটাও। ১৯৮৪ সালে জেলা হওয়ার পর মৌলভীবাজারের তখনকার জেলা প্রশাসক সাকির উদ্দিন আহমেদ চালু করেছিলেন জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ। এ টুর্নামেন্টটা ধরে রেখেছে জেলার ফুটবলের জৌলুস। জেলার সাত উপজেলা নিয়ে এ টুর্নামেন্টটি উপভোগ্য হয় যথেষ্টই। নানা কারণে গত বছর না হলেও এ বছর আবার মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টটি।

সর্বশেষ ২০১৩ সালে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের শিরোপা জিতেছিল শ্রীমঙ্গল উপজেলা। এর আগে ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১১ সালের চ্যাম্পিয়নও ছিল শ্রীমঙ্গল। এখানকার ফুটবলে নতুন পালক বঙ্গবন্ধু আমন্ত্রণমূলক ফুটবল টুর্নামেন্ট। ২০১০ সালে এ টুর্নামেন্টে স্থানীয় কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে অংশ নেয় ভারতের দুটি দলসহ ঢাকার শেখ রাসেল, নরসিংদী আর কুমিল্লা জেলা দল। তবে এর ধারাবাহিকতাও ধরে রাখা যায়নি।

জাতীয় পর্যায়ে মৌলভীবাজারের ফুটবলের সাম্প্রতিককালে সাফল্য বলতে ২০০৯ সিটিসেল স্কুল টুর্নামেন্টের রানার্সআপ হওয়া। বরিশালের একটি স্কুলের সঙ্গে সেবার ফাইনালে হেরেছিল মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া স্কুল। এ ছাড়া বছর চারেক আগে জেএফএ কাপের আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জেলা অনূর্ধ্ব-১৬ দল। ২০১৩ সালে তারা প্রথমবার অংশ নেয় বাংলাদেশ গেমসে। সেখানে গোল গড়ে বাদ পড়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। কাবাডিতে সম্প্রতি সাফল্য পেয়েছে মৌলভীবাজার। ছেলেদের দল গত পাঁচ বছরে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তিনবার।

মৌলভীবাজারে স্টেডিয়াম দুটি। একটি মৌলভীবাজার কলেজ স্টেডিয়াম ও অন্যটি মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়াম। পরে নাম বদলে মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়াম হয়ে যায় এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম। সংরক্ষণের অভাবে কলেজ স্টেডিয়াম হয়ে পড়ছে খেলার অনুপযুক্ত। মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়ামের মাঠটিরও যাচ্ছেতাই হাল। মাঠটা টিলা কেটে তৈরি করায় পাথরের মতো শক্ত, তাই খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গরুর হাট আর বছরের সিংহভাগজুড়ে মেলা বসায় নষ্ট হচ্ছে কাশিনাথ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। মৌলভীবাজার ঘুরে অবশ্য দেখা গেল অবকাঠামো না থাকলেও মাঠের সংকট নেই। রয়েছে সরকারি স্কুলের মাঠ, উপজেলা মাঠ, পৌরসভা স্কুলের মাঠ, সরকারি কলেজ বোর্ডিং মাঠ। শহরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মাঠ হলেও সারা বছরই একটার পর একটা মেলা লেগে থাকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ অন্য কিছুর জন্য ব্যবহার করা যাবে না। সংস্কারের অভাব আর অবকাঠামো না থাকায় খেলার অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে এগুলো। একই হাল মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়ামেরও। সংস্কারের অভাবে বেরিয়ে এসেছে গ্যালারির বিমের রড। দেখা দিয়েছে ফাটল।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রেলওয়ে মাঠ একটা সময় মুখরিত থাকত খেলোয়াড়দের পদচারণে। সেখানে দেখা গেল মাঠটির দখল এখন ড্রাইভার সমিতির। যানবাহন রাখার কাজেই তারা ব্যবহার করছে এটি। তাই এ উপজেলার একমাত্র ভরসা ভিক্টোরিয়া স্কুলের মাঠ। এখানেই ২০১২ ও ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট চিফ হুইপ গোল্ডকাপ। পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবল চর্চায় বিশেষ অবদানের সাক্ষী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় ক্রিকেটের চর্চা শুরু আশির দশকে। ১৯৯৮ সালে 'ক্রিকেট প্লেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' গঠিত হওয়ার পর অন্য রকম মাত্রা পেয়েছে ক্রিকেট। উপজেলারই খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বিভিন্ন দল নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়মিত টুর্নামেন্ট করে ক্রিকেট প্লেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ২০১৩ সালের লিগে তো অংশ নিয়েছিল ১০৪টি দল! ২০১৪ সালে অবশ্য দল কমিয়ে আনা হয় ৮৪-তে, যেখানে ফাইনাল খেলে গেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। টুর্নামেন্টটি নিয়ে ক্রিকেট প্লেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রফি আহমেদ তানিম জানালেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিরাট কোরেও প্রশংসা করেছেন এত বেশি দল নিয়ে আমাদের টুর্নামেন্ট করার উদ্যোগের। ' কুলাউড়ার মতো মৌলভীবাজারের আরেক উপজেলা বড়লেখায় প্রতিবছর ২৪ দল নিয়ে হচ্ছে আন্তঃ উপজেলা ক্রিকেট লিগ। রাজনগরেও শুরু হয়েছে আরপিএল।

মৌলভীবাজারকে বলা হয় চায়ের রাজধানী। বাংলাদেশের ৮৫ শতাংশ চায়ের উৎপাদন এখানে। বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। দেশের সবচেয় বড় হাওর হাকালুকিও হজরত শাহ মোস্তফা (র.) স্মৃতিবিজড়িত মৌলভীবাজারের পুণ্যভূমিতে। মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানি হামিদুর রহমানের এ জেলায় প্রতিবছরের ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঘোড়দৌড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খেলোয়াড়দের সবাইকে পুরস্কৃত করার রেওয়াজ চালু করেছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। এ ছাড়া গ্রামীণ খেলাগুলোর মধ্যে আগস্ট মাসে মনু নদীতে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচ বিখ্যাত মৌলভীবাজারে। লক্ষাধিক মানুষ প্রতিবছর উপভোগ করে এই নৌকাবাইচ।