kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

আইটি

কমিউনিকেশন স্কিলই ভালোবাসা

আসাদুর রহমান

৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কমিউনিকেশন স্কিলই ভালোবাসা

আইটি বিভাগের কর্মীদের প্রথম শর্ত কাজের পাশাপাশি মানুষকে ভালোবাসতে জানতে হবে! কাজেই আইটি বিভাগে কাজ করতে হলে ভালোবাসাবিষয়ক কোর্সটি শেষ করেই চাকরিতে ঢুকতে নয়, তা না হলে পদে পদে বিপদ! এখানে কমিউনিকেশন স্কিলই ভালোবাসা। কালের কণ্ঠ আইটি বিভাগে ভালোবাসার কোনো কমতি নেই। ইউজাররা যে ধরনেরই প্রযুক্তিগত সেবা চান না কেন, খুব বিনয়ের সঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা করেন আইটি বিভাগের কর্মীরা।

প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ইউজারকে সেবা দেওয়ার জন্য এই বিভাগে ১৪ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন। জয়দেব সিস্টেম, রুহুল্লা ও রাশেদ নেটওয়ার্ক, জালাল সফটওয়্যার, জিত, সৈকত, নাজমুল, ফরিদ, ইসমাইল, ওয়াসিম ইউজার কমিউনিকেশন। এ ছাড়া সবাইকে সহযোগিতা করেন রাকিব ও আজম। সবাই দিনরাত শ্রম দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মিডিয়া হাউসটি। ক্লান্তি যেন তাঁদের ছুঁতেই পারে না।

সবই ঠিক চলছিল, হঠাৎ দেখি জিতের চুলগুলো বড় হতে লাগল। মাঝে মাঝে কাজের কথাও ভুলে যাচ্ছেন। ভাবলাম ছেলেটা হঠাৎ এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে কেন? বুঝতে চেষ্টা করলাম। পরে দেখি, তিনি নাকি তৃতীয়বারের মতো প্রেমে পড়েছেন! প্রথম প্রেমের কথা না হয় না-ই বললাম। দ্বিতীয়টা তো আমিই জানি, অফিসে এলে বাসায় যাওয়ার কথাই ভুলে যান। কিন্তু তৃতীয়টা নাকি লালন শাহ। ছোট থেকেই গান, গিটার আর লালনের ভক্ত।

জালাল ভাই খুবই ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। সব সময়ই চেষ্টা করেন তাঁর ইউজারদের অথর্ব বানানোর। অফিসের সব ধরনের হিসাব-নিকাশ নাকি তিনি একাই করে দেবেন তাঁর লজিক দিয়ে। তাঁর সফটওয়্যার ইউজাররা যে ধরনেরই সেবা বা রিপোর্ট চান না কেন, সব সময় তাঁর উত্তর থাকে—একটা ক্লিক করবেন, রিপোর্ট পেয়ে যাবেন। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সেখানে স্ত্রী থাকেন। বৃহস্পতিবার হলেই সকাল থেকে শুরু হয় বাড়িতে যাওয়ার তাড়া। এ বিষয়েও তিনি লজিক দেখান।

জয়দেব সদা হাস্যোজ্জ্বল। সিস্টেমে যত বড় ইনসিডেন্ট হোক না কেন, তিনি ভেঙে পড়েন না; বরং দ্রুততার সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করেন। বাসা অফিস থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে। তার পরও প্রায়ই দেখি তিনি উবার নিয়ে বাসায় যান! যুক্তি দেখান, বাসায় যেতে রিকশাভাড়া আর উবারভাড়া প্রায় সমান।

অফিসের কাজে বেশ দায়িত্বশীল রাশেদকে দেখলে মনে হয় ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানেন না। সেই ছেলেটির চুপি চুপি প্রেম, পরিণতিতে বিয়ে—সবই হলো। এখন দেখি সহধর্মিণীর ফোন কলের রিংটোনও আলাদা।

হার্ডওয়্যার স্পেশালিস্ট নাজমুল সবার প্রিয়। আচরণ ঠিক সার্জিক্যাল ডাক্তারদের মতো। ল্যাপটপ বা পিসি পুরনো হোক আর নতুন, তাঁর হাতে এলেই প্রথমে সেটি অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার চিন্তা করেন। সৈকত একা কাজ করতে মোটেই পছন্দ করেন না। কোনো সমস্যার কথা শুনলেই  আরেকজনকে সঙ্গে নিয়েই যান। আসলে তিনি টিমওয়ার্ককেই যথেষ্ট গুরুত্ব দেন। নুতন সহকর্মী ফরিদকে দেখে মনে হয়, তিনি অনেক দিন থেকেই আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন। খুব দ্রুতই সবাইকে আপন করে নিয়েছেন।

বিভাগে সবচেয়ে প্রিয় ইসমাইল ও ওয়াসিম। যেখানে সমস্যা সেখানেই ইসমাইল ও ওয়াসিম। যেকোনো কাজে তাঁরাই প্রথমে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। যথেষ্ট উদ্যমী দুজনই। অফিসের অনেকে মনে করেন, আইটি বিভাগ মানেই খাওয়া, খেলা আর আনন্দ; এই বিভাগের কর্মীরা সব সময় এসব নিয়েই মেতে থাকেন! তাঁদের সঙ্গে আমিও একমত এই কারণে, বিভাগের সবার মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা অনেক বেশি বলইে তাঁরা কাজের ফাঁকে বিনোদনও খোঁজার চেষ্টা করেন।

মন্তব্য