kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

সেন্ট্রাল ডেস্ক

সলমা-জরির কাজ

সফেদ ফরাজী

৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সলমা-জরির কাজ

‘বন্ধু, তোমার হাতের ওপর হাত রাখলেই আমি টের পাই তোমার বাজারে অনেক দেনা, ছেলেটা উচ্ছন্নে গেছে, মেয়ে রাত করে বাড়ি ফেরে, আজ যা-বলার আছে তুমি আমাকেই বলো, স্ত্রীর মুখরতার কথা বলো, সহকর্মীদের শঠতার কথা বলো, রাতে ঘুম হয় না সেই কথা বলো, আর যদি কাঁদতেই হয় তবে এই কাঁধে মাথা রেখে কাঁদো, বন্ধু।’

কবিতাটি আমার অন্যতম প্রিয় কবি উৎপলকুমার বসুর ‘সলমা-জরির কাজ’ বইয়ের। কবিতাটির মর্মার্থের সঙ্গে বার্তা বিভাগের কর্মীদের জীবনের যেন গভীর মিল আছে। একজন বুননশিল্পী যেমন নানা লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, টানাপড়েন ও হাহাকারের মধ্যেও সোনালি-রুপালি সুতা দিয়ে কাপড়ে ফোটায় অপূর্ব সলমা-জরির নকশা, ফুল লতাপাতা, সন্ধ্যাতারার সংসার; তেমনি একজন সংবাদকর্মী তাঁর শ্রম-ঘাম, মেধা-মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে বহু মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশার রূপ-রস-গন্ধ চিত্রিত করেন দৈনিকের পাতায়। অথচ তাঁর জীবনের খবর, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের খেরোখাতা সবার অলক্ষ্যেই পড়ে থাকে একা, হয়তো কেউ কোনো দিন টেরই পায় না।

১২ সদস্যের সংসার আমাদের, যাকে বলে সেন্ট্রাল নিউজ ডেস্ক। এর শিফট ইনচার্জ বা পালের গোদার দায়িত্বও অফিস চাপিয়েছে আমার কাঁধে। আমরা ১২ জন মিলে বারো মাস ধরে দেশ-বিদেশের কত যে খবর রচনা, সম্পাদনা, অনুবাদ ও ‘ওকে’ করি, পেজ করি, তার হিসাব নেই।

এই পালে সর্বজনস্বীকৃত ‘মামা’ রিয়াজ মিলটন। সদা হাস্যরসে টইটুম্বর। যে কাউকে যেকোনো সময় যেকোনো বিষয়ে ‘কথা’ বলেই হাসাতে পারেন। ‘আড্ডারু’ এই মামার গানের গলাও মাশাল্লা। উচ্চাঙ্গসংগীত শেখার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু ওস্তাদের বাসার সামনে পানি জমায় আর যাননি। প্রায় তিন দশক ধরে বলছেন, বয়স তাঁর ‘সাড়ে বিশ’।

এই সংসারে নারী মাত্র দুজন। একজন তামান্না মিনহাজ। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা মানুষ। একপাল ‘পুরুষ’ সহকর্মীর মধ্যেও স্বাচ্ছন্দ্যে হাসিখুশি কাজ করেন, পথ চলেন। তবে চুপি চুপি অনুবাদ করেন গল্প-উপন্যাস, বইমেলায় তা প্রকাশও করেন, কিন্তু সহকর্মীদের বলেন না, দেনও না। আরেক নারী সহকর্মী শামসুন নাহার সুমী। বসেনও তামান্না মিনহাজের পাশে। চুপচাপ স্বভাবের। কাজই হয়তো বেশি পছন্দ তাঁর। সম্প্রতি কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন।

খন্দকার মাসুদুল আলম তুষার আড্ডাপ্রিয়। ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে। রাজনীতি ও পুলিশের নানা গল্প জানেন। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তাঁর সামনে কেউ কিছু বললে আরো তিন গুণ বেশি কথা তিনি শুনিয়ে দেবেনই। সমসাময়িক যেকোনো ইস্যুতে আফছার আহমেদের একটা বক্তব্য থাকবেই! ওই বিষয়ে অন্তত একটা পোস্ট দেবেন ফেসবুকে! স্বামী-স্ত্রী কাজ করেন একই বিল্ডিংয়ে, তবু মাঝেমধ্যে ডেস্কে বা ক্যান্টিনে অন্তরঙ্গ দুজনকে একসঙ্গে দেখে মনে হবে—আহা, কত দিন পর দেখা হলো দুজনে!

ঝুলিতে মফস্বল ডেস্ক সামলানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা জাহেদুল আলম রুবেলের। ৬৪ জেলার ‘পথঘাট’ যেন মুখস্থ। কথা বলেন কম। ঘড়ির কাঁটা মেপে অফিসে আসা ও যাওয়ায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার। অফিসে আসা-যাওয়ায় আসাদুর রহমানও বেশ সময়সচেতন। গানে লালনভক্ত।

মো. শামীম হাসান। দীর্ঘদিন স্পোর্টসে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। নিজেও খেলেন। মাঝেমধ্যে পুরস্কারও পান; কিন্তু এর মিষ্টি খাওয়ান না কাউকে।

এদিকে মাহমুদ হাসান আরিফ প্রতিদিন ফেসবুকে যে কয়টা স্ট্যাটাস, কয়টা কমেন্ট আর কতশত লাইক দেন, তার হিসাব রাখা যে কারো জন্যই কঠিন!

রোকন রাকিব পাতলা গড়নের। টেকনোলজি বিষয়ে ভালো খোঁজখবর রাখেন। আসাদ আর রোকন, দুজনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ছিলেন। এখনো দুজনের চলাফেরা একসঙ্গে।

সৈয়দ আলী আল মাসুদ। দেহ যত বড়, বুদ্ধি এখনো তত হয়নি। দ্রুতই বুদ্ধি বাড়ার সম্ভাবনা আছে, কারণ বউ তাঁর বাসায় এসে গেছে। আর আমি? নিজের বেলায় বলা যায়, ‘কে তুমি?’—অসীমের দিকে উড়ে চলা এই শাশ্বত প্রশ্নের উত্তর আমিও খুঁজছি।

মন্তব্য