kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

সম্পাদকীয় বিভাগ

ভাবে-অভাবে দশ বছরে

ফরহাদ মাহমুদ

৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাবে-অভাবে দশ বছরে

দেখতে দেখতে দশ বছরে পা দিল কালের কণ্ঠ, সেই সঙ্গে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় বিভাগও। আমিও এই বিভাগের একজন নগণ্য কর্মী। হারাধনের দশটি ছেলের মতো আমরাও দশজন ছিলাম বিভাগটির শুরুতে। আমাদের বড় ভাই, অভিভাবক ছিলেন শুভ রহমান, আমাদের প্রিয় শুভ ভাই। তিনি ছিলেন বিভাগীয় প্রধান। বয়সের কারণে কয়েক বছর আগে তিনি অবসর নেন। একই সঙ্গে চলে গেলেন মোস্তফা হোসেইন। প্রায় এক বছর হয়ে গেল শুভ ভাই পৃথিবী থেকেও বিদায় নিয়েছেন। তাঁরও বছরখানেক আগে আমাদের আরেক সহকর্মী হোসেন আলী ভাইও পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তিনি ধর্ম পাতা সম্পাদনা করতেন। শুভ ভাই থাকতেই অন্য কাগজে চলে গিয়েছিলেন দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু। এরপর গেলেন লুৎফর রহমান রনো ও মহসিন হাবিব। এর মধ্যে মোস্তফা হোসেইনের সঙ্গে আমার ঝগড়া ও আন্তরিকতা দুটোই বেশি ছিল। কুমিল্লায় তাঁর এক বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। তাঁর বোন কাগজের মণ্ডের তৈরি একটি মোড়া আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। সেটি এখনো আছে আমার বাসায়। দেখলেই মনে হয় মোস্তফা ভাই ও তাঁর বোনের কথা।

পত্রিকাজগতে এই আসা-যাওয়ার খেলা অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা। শুরুতে আমাদের সঙ্গে ছিলেন মেহেদী হাসান তালুকদার। তাঁকে পরে বার্তা বিভাগে বদলি করা হয়। এখন কূটনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বার্তা বিভাগে অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন গাউস রহমান পিয়াস। তাঁকে দেওয়া হয়েছিল সম্পাদকীয় বিভাগে। কয়েক বছর এখানে কাজ করার পর আবার তিনি ফিরে গেছেন বার্তা বিভাগে। বার্তা বিভাগ থেকে এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাইফুর রহমান তারিক। তিনি এখনো আমাদের সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের সঙ্গে অন্য একটি কাগজ থেকে এসে যোগ দিয়েছিলেন শারমিনুর নাহার। কাব্যের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল, তাঁর লেখা কবিতার বইও আছে। বছর দুয়েক কাজ করার পর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ নিয়ে চলে গেছেন। অন্য একটি কাগজ থেকে এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাসউদ আহমাদ। গল্পকার হিসেবে ইতিমধ্যেই খ্যাতি অর্জন করেছেন। বর্তমানে ধর্ম পাতায় (ইসলামী জীবন) আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন মুফতি কাসেম শরীফ। অমায়িক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ধর্মীয় বিষয়ে তাঁর লেখা বেশ কিছু বই রয়েছে।

বলতে গেলে শুরু থেকেই এই বিভাগের সঙ্গে যুক্ত আমরা তিনজন এখনো কালের কণ্ঠেই কর্মরত। এর মধ্যে আছেন বর্তমানে নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল। প্রতিদিন সকালে তাঁরই নেতৃত্বে বসে বিভাগীয় সভা। নির্ধারিত হয় সেদিনের প্রকাশিতব্য লেখার সূচি, সম্পাদকীয় বিষয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা। তিনি এই কাজটি নিয়মিত করে যাচ্ছেন। আছেন আমার কয়েক দশকের বন্ধু আলী হাবিব। একসময় আমাদের একটি পাখি পর্যবেক্ষণ দল ছিল। সেই দলেরও সহযোগী ছিলেন তিনি। একসঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছি বনে-জঙ্গলে। সম্ভবত সেসব হৃদ্যতার স্মৃতি ও মায়ার বাঁধন থেকেই তিনি এখনো আমাকে ছেড়ে যেতে পারেননি। অথবা বলা যায়, আমরা কেউ কাউকে ছাড়তে পারিনি।

সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করার সুবাদে অনেক লেখক-সাংবাদিক-সাহিত্যিকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। কর্মজীবনের এটি একটি বড় প্রাপ্তি। এমনই একজন হলেন ভাষাসৈনিক, কবি, প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর স্নেহ পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আমাদের অনেক নিয়মিত লেখক প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, করুণাময় গোস্বামী, কাজী সিরাজ, কলকাতার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অমিত বসু প্রমুখ। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তাঁদের।

 

মন্তব্য