kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

বিশ্বকাপ নিয়ে বিশেষজ্ঞের কলাম
বিশ্বকাপের খেলোয়াড় না, কিন্তু খেলা বেশি বোঝে এমন সব মানুষ নিয়মিত কলাম লিখছে। আমাদের ঘোড়ার ডিমে লেখার জন্য আমরা রাজি করিয়েছি বিখ্যাত নেতা, এলাকার গণ্যমান্য জঘন্য ব্যক্তি লেদু চাচাকে। অনুলিখনে ছিলেন মো. সাখাওয়াত হোসেন

‘আশা ছিল ভালোবাসা ছিল’

৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘আশা ছিল ভালোবাসা ছিল’

আমরা ছোটকালে বিভিন্ন গোয়েন্দা বই পড়তাম। সেখানে শেষে প্রায়ই লেখা থাকত, ‘কী থেকে কী হইয়া গেল, দস্যু পালাইয়া গেল!’ এইবারের বিশ্বকাপও এমনই হইয়া গেল। কী থেকে কী হইয়া গেল, বাংলাদেশ বিদায় নিল। কত জল্পনা, কত কল্পনা, কত হিসাব-নিকাশ—সব শেষ। আমাগো এলাকার বদরুল মাতব্বরের পোলা লেদু এসব হিসাব-নিকাশ করতে করতে মাথা ঘুরাইয়া পুষ্করণীর মইধ্যে পড়ছে। তাই তার বাবা বেতন দিয়া এক লোক রাখছিল, এই সব হিসাব-নিকাশ করার জইন্যে। বাংলাদেশের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই লোকের চাকরিও নট হইয়া গেছে। এত কম মেয়াদে কারো চাকরি চইলা যাইতে পারে—এটা আমি আগে দেখি নাই। বাংলাদেশ-ভারতের খেলাটা হাত থেইকা তখনই ফসকাইয়া গেছে, যখন তামিমের হাত থেকে ফসকাইয়া গেছে রোহিতের ক্যাচ। ক্যাচ ফালাইলেই রোহিত সেঞ্চুরি মারে। সেঞ্চুরি সে মারছেও। কিন্তু ভারত চাইর শ করব নাকি পাঁচ শ, সেই প্রশ্নে জল ঢাইলা দিছে আমাগো মুস্তাফিজ। ভারতরে পাইলেই হে হামলাইয়া পড়ে। ভারত যেই রকম বেশি রান করার কথা, ওই রকম করতে পারল না এই মুস্তাফিজের লাইগাই। আবার অনেকে বলতেছে, ভারত যেই রকম কম করার কথা ওই রকম হইলো না এই তামিমের লাইগা।

ব্যাটিংয়ে তামিম আর সৌম্য সরকারের একটা ভালো শুরুর দরকার আছিল। সরকার ব্যর্থ! ব্যর্থ তামিমও। আবার একা দাঁড়াইয়া গেছিল সাকিব ভাই। সাকিব ভাই যেন এবার আমাগো তালগাছ।

তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে।

সঙ্গে মুশফিক ছিল, লিটন ছিল, অনেকেই ছিল। কিন্তু ওই যে কী থেকে কী হইয়া গেল, সবাই ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা ধরল। কিসের যেন তাড়াহুড়া সবার। ওই দিকে আবার পরদিন ভোরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা খেলা। যে এলাকা গত রাতেই এক ছিল, পরদিন পুরা এলাকা আবার সমান দুই ভাগে ভাগ হইয়া গেল। ব্রাজিলের জয়ের পর বিজয়মিছিল বাইর হইলো ঠিক সকাল ৯টায়। এত উত্তেজনা সামলাইতে না পাইরাই যেন আমাদের এলাকার বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ফুইটা গেল ঠিক সকাল ১০টায়। এলাকার যেসব পোলাপাইন আর্জেন্টিনারে সাপোর্ট দিতেছিল, তাদের মা-বাবা তাদেরকে চোখে চোখে রাখতেছিল। রাত্রে হারছে বাংলাদেশ, সকালে আবার আর্জেন্টিনা। এত শোক কি এরা সামলাইতে পারবে? ভাগ্যিস পরদিন নিউজিল্যান্ড হাইরা গেছিল ইংল্যান্ডের লগে। নইলে বাংলাদেশি সমর্থকদের শুধু আফসোসই বাড়ত। আমার ভাতিজা বলতেছে, ‘চাচা আজ যদি আমরা বাংলাদেশি সাপোর্টাররা দুঃখ-কষ্ট আর আফসোস বেচতাম, তাইলে ঢাকা শহরে তিনটা বাড়ি থাকত!’

বাড়ি ফেরার আগে বলতে হয়, এইবার আমাগো বাংলাদেশ দল হারার আগে হারে নাই। এটা কইছে আমাগো নুরুল চাচা। চায়ের দোকানের মালিক। এই কথা এলাকার সকলের মুখে মুখে। লাখ কথার এক কথা। তবে একটা কথা সকলের কাছে পরিষ্কার। ভালো খেলা খেলতে চাও আর যা-ই চাও না ক্যান, স্বাস্থ্য ফিট থাকা জরুরি। এই স্বাস্থ্য ফিট কইরা পরিশ্রমের জোরে সাকিবের কথা সকলের মুখে মুখে। এখন আমাদের সকলের একটাই চাওয়া—বাংলাদেশ যেন শেষটা ভালো করে। শেষ ভালো যার, সব ভালো নাকি তারই হয়। এই লেখা যখন আপনেরা পড়তেছেন, তখন জাইনা গেছেন শেষটা ভালো হইছে নাকি। আমি ফাইনাল ম্যাচট্যাচ নিয়াও লিখতে চাইছিলাম। আমারে কইছে বাংলাদেশের খেলা শেষ আর লেখার দরকার নাই। 

যাওয়ার আগে একটা কথা কইয়া যাই। আগে একটা গান প্রায়ই শুনতাম।

আশা ছিল ভালোবাসা ছিল,

আজ আশা নাই ভালোবাসাও নাই।

বাংলাদেশের আর আশা নাই, তাই বইলা আপনেরা ভালোবাসা কমাইয়া দিয়েন না। আমাগো সকলের মনে রাখতে হইব, ‘এই দিনেরে নিব তারা সেই দিনেরও কাছে!’ সবাই ভালো থাইকেন, গেলাম!

মন্তব্য