kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেজাল্ট

শোনো ভাইয়ারা, আমাদের যখন বোর্ড রেজাল্ট দিত, তখন না ছিল ইন্টারনেট, না ছিল মোবাইল। ইস্ত্রি করা ফুলহাতা শার্ট পরে, ধাক্কাধাক্কি করে, স্কুলের বাইরের ওয়ালে টাঙিয়ে দেওয়া কাগজে লেখা রেজাল্ট দেখতে হতো। রেজাল্ট দেখাই ছিল আরেক পরীক্ষা। অনেকে সেই ভিড়ে ঢুকে হারিয়ে যেত। যেমন আমি।

হারিয়ে যেতাম—মানে এক সাইড দিয়ে ঢুকে রেজাল্ট দেখতে ভয় লাগছে দেখে ভিড়ের অন্য সাইড দিয়ে বের হতাম, যেদিকে আব্বা-আম্মা দাঁঁড়িয়ে নেই।

বের হয়েই দেখি আব্বা তাকিয়ে আছে।

আরিফ, রেজাল্ট দেখছস?

আব্বা, অনেক ভিড়।

আচ্ছা, তুই আমার ব্রিফকেস ধর, আমি ঢুকি।

আব্বা ভিড় ঠেলে ঢুকে কিছুক্ষণ পর বের হয়ে জানাল, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আরিফ ১১টা লেটার পাইছে। চলো বাসায়।’

আম্মা বলল, ‘সাবজেক্ট তো ৯টা... ১১টা কেমনে পাইল? ধাক্কাধাক্কিতে ঠিকমতো গুনছ তো?’

আব্বা বলল, ‘আচ্ছা, আবার গিয়ে দেখে আসি।’

এই হলো অবস্থা। একটু পরে আবার এসে বলে, ‘আরিফের রোল নম্বর তো বোর্ডে নেই। এখন কী করণীয়।’

তোমার ছেলেকে শক্ত করে ধরো, যেন পালিয়ে না যায়। আমি গিয়ে দেখে আসি।

আব্বা আমার প্যান্টের বেল্ট ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। কী একটা অবস্থা!

আমি এখনো মাঝেমধ্যে স্বপ্নে দেখি, সামনে ভিড়। ভিড়ের শেষ মাথায় ছোট্ট বোর্ডে আমার রেজাল্ট। আমার হাতে ব্রিফকেস আর আব্বা আমার প্যান্টের বেল্ট ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

তবে এই স্বপ্নের কষ্ট থেকেও বড় হলো লাইফের রিয়েল কষ্ট। আজকের রেজাল্টের পর দেখা যাবে, হোম পেজ ভেসে যাবে Thomas Edison-এর একটা কোটেশনে... তিনি রেজাল্টের আগে বলেছিলেন, a single sheet of paper can’t decide my future!

পরে আর কিছু বলেনি... বাকিটা আমি বলে দিই। আমরা সবাই তো আর এডিসনের মতো ভাগ্যবান না। তাই রেজাল্ট খারাপ হলে আপনার সামনে অনেক দুর্গতি আছে, আগেভাগেই বলে দিলাম।

তার পরও গুড নিউজ, ইস! এখনো একটা চান্স বাকি আছে। তা হলো এইচএসসি... চিপকায়ে থাকেন সামনের দুই বছর বইয়ের সঙ্গে।

এটা খারাপ হলে, কেউ বাঁচাতে পারবে না।

যত যা-ই বলেন, এই দেশে SSC, HSC-এর মার্কস ম্যাটারস... সেটা সামনে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে হোক, ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে হোক, বিয়ের ক্ষেত্রে হোক, ডিভোর্সের ক্ষেত্রে হোক।

যারা ভালো করেছে, তাদের জন্য শুভ কামনা। যারা খারাপ করেছে, তাদের বেস্ট অব লাক এহেড।

আরিফ আর হোসেন

 

তরমুজ

দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে একজন জানতে চাইল—ভাই, তরমুজের কোন অংশটা আপনার পছন্দ?

যে অংশটা টেস্ট করার জন্য ফ্রি খেতে দেয়, সেই অংশ।

পলাশ মাহবুব

 

সাদা গোলাপ

বিয়ের ১০ বছর পরের ভ্যালেনটাইনস ডে-তে তপন বউয়ের জন্য এক তোড়া সাদা গোলাপ নিয়ে বাড়ি ফিরল। ভাবি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘সাদা গোলাপ কেনা ভ্যালেনটাইনস ডে-তে লোকে তো লাল গোলাপ দেয়।’

তপন বলল, ‘শোনো, জীবনে এখন ভালোবাসার চেয়ে শান্তিটাই বেশি জরুরি!’

বাবা মইন

ছাত্রী

ছাত্রীকে পড়াইতে গেছিলাম। গিয়া শুনলাম ছাত্রী নাকি টিউশনি করাইতে গেছে।

বাবুল হোসেন

 

হুঁশিয়ারি

আম্মু : নায়িকা প্রিয়াংকাকে চিনোস?

আমি : হ্যাঁ, কেন?

আম্মু : শুনলাম, প্রিয়াংকা নাকি ওর থেকে ১১ বছর ছোট ছেলেকে বিয়ে করছে!

আমি : হ্যাঁ, তো কী হইছে?

আম্মু : তুই কালকে থেকে আর পাশের বাসার ছেলেটাকে কোলে নিবি না।

সুবর্ণ নীলিমা

 

 

ঢাকার জ্যাম

ঢাকার জ্যাম এতটাই ভয়ংকর যে ঘূর্ণিঝড় পর্যন্ত আসতে ভয় পায়। যদি আটকে যায়।

মো. তৌহিদ

 

ডায়ালগ

নেক্সট জেনারেশন মায়েদের ডায়ালগ হবে, ‘এমনি এমনি এত বড় হয়ে যাসনি। তোকে মানুষ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফলাইনে থেকেছি!’

মইন

 

মনের মতো

ও রে! বউ কখনো মনের মতো হয় না রে, নিজেকেই বউয়ের মনের মতো হতে হয়!

এমডি ইমরান আহমেদ

তাল

পরিচিত এক বড় ভাইকে (তিনি মোটামুটি বিখ্যাত মানুষ, তাই নামটা গোপন রাখলাম) প্রশ্ন করলাম, ‘কেমন আছেন, ভাই?’

—আছি!

: শুধু শিরোনাম বললে কী বুঝব! একটু বিস্তারিত বলেন।

—ভালোই আছি।

: আপনার ছেলেটার কী খবর?

—আছে, ভালোই আছে। আমাকে খুব একটা গোনায় ধরে না। তার মতো চলে। তাই জোর করে তবলা শেখার ক্লাসে ভর্তি করিয়ে দিয়েছি।

: বলেন কী! এ যুগে শুধু তবলা বাজিয়ে চলতে পারবে তো? কেন ছেলের ক্যারিয়ারটা নষ্ট করছেন!

বড় ভাই রহস্যময় একটা হাসি দিয়ে বললেন, ‘বুঝলা না ইমন, জীবনে উন্নতি করতে হলে তাল ঠিক রেখে চলতে হয়। তাই তাল ঠিক রাখতে আমাদের সবার উচিত তবলা শেখা!’

ইমন চৌধুরী

 

মন্তব্য