kalerkantho

আমাদের পাহারাদার কুকুর

মো. মাহবুবুল আলম

১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমাদের পাহারাদার কুকুর

আমাদের বাসার ছাদ থেকে প্রায়ই লুঙ্গি, গামছা, বিছানার চাদর, শাড়ি ইত্যাদি চুরি হয়। কারণ ছাদ ‘ওপেন টু অল’। ভাড়াটেদের তীব্র আন্দোলনের মুখে আমার পিতা গেট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। এখন গেট-ছাদ ২৪ ঘণ্টা খোলা। ফকির-মিসকিন দিন-রাত কলিংবেল টিপে ‘আম্মাগো ভিক্ষা দেন—ভিক্ষা দেন’ বলে চেঁচায়। ভাড়াটে সমিতির সভাপতি আফজাল সাহেব জরুরি সভা ডেকেছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ছাদে ভেজা কাপড় রোদে দেওয়ার পর পালা করে সবাই পাহারা দেবে। এতেও চুরি বন্ধ হলো না। কারণ পাহারা কেউ ঠিকমতো দিচ্ছে না।

মফিজ হাওলাদার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঘোষণা দিলেন, কড়া পাহারার জন্য ‘কুকুর’ কেনা হবে। আব্বা এ বিষয়ে আপত্তি করলেন। আমি বললাম, উত্তম প্রস্তাব। কারণ জন্মগতভাবেই আমি পশুপ্রেমিক। ভাড়াটেদের চাঁদায় ১৬ হাজার ৯০০ টাকায় টঙ্গী বাজার থেকে কালো রঙের কুকুর কেনা হলো। বিক্রেতা প্রতারক বলেছিল, ফ্রান্সের জাত। সব কিছু খায় না। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার দরকার নেই—খুব প্রভুভক্ত। চোর দেখলেই টের পায়। তিন মাস পর পর টিকা দিতে হবে। রোগবালাই হবে না। বাবা আবিষ্কার করলেন—এটা ময়মনসিংহের দেশি ‘লুইচ্ছা জাতের কুত্তা।’

আমাদের মহল্লায় ইদানীং জুতা চুরি বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতিটি বাড়ির দরজার সামনে থেকে জুতা নিখোঁজ হচ্ছে। আমাদের ছাদে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে অগণিত জুতা। ফ্রান্সের বংশধর আমাদের কুকুর নিয়ে আসে এসব জুতা। এখন আমাদের আর জুতা কিনতে হয় না।

 

মন্তব্য