kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

গ ল্প

জীবিকা ও আততায়ী

মাসুদ আহমে

৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



জীবিকা ও আততায়ী

অঙ্কন : চঞ্চল

১৯৭১ এর মার্চ। সতের তারিখ। মেঘমুক্ত ঝকঝকে নিপাট নীল আকাশ থেকে গরমের হলকা নেমে আসছে অবিরত। গত অক্টোবর থেকে এখানে বৃষ্টি হয়নি। জয়দেবপুরে ভাওয়ালের রাজবাড়ী। সকাল দশটা। ৫২ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডিং অফিসার ব্রিগেডিয়ার আরশাদ হাকিম কোরেশী ব্রিগেড হেড কোয়ার্টারে তাঁর অফিসে বসে প্রদেশের একটা ম্যাপ দেখছেন। তাঁর বাড়ি সুদূর পশ্চিম পাকিস্তানের আখনুরে। আগুনের মতো গায়ের রং, নাক খাড়া, চোখ পিঙ্গল বর্ণের ছফুট লম্বা, ঘন ভ্রু ও মোচ নিয়ে ইউনিফরম পরনে মানুষটিকে এক দৈত্য বলে মনে হয়। খাকি আর বেরেট মিলে তাঁকে দেখে যে কেউ মনে করবে এ লোকের হুকুম তামিল হবেই। তাঁর চোখ যুগলে মাত্র দুটি অভিব্যক্তি আঁকা তা হলো নিষ্ঠুরতা ও কর্তৃত্ব। আরো কয়দিন তিনি এই ম্যাপ দেখেছেন। ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিকের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় তাঁর একটি গুরুতর দায়িত্ব পড়েছে। সামনের নোট প্যাডে লাল-নীল পেনসিল দিয়ে তিনি কয়েকটা চিহ্ন আঁকলেন। তাঁকে এখন সন্তুষ্ট দেখা যাচ্ছে। তিনি এবার টেবিলের ডান কোণের একটা বেতাম টিপলেন। দুই সেকেন্ডের মধ্যে নায়েক আনুজম হোসাইন প্রবেশ করে তাঁকে স্যালুট করল।

— সাব।

— কর্নেল কানোয়ার সাব কো বোলাও।

— জো হুকুম সাব।

আনজুম আবার স্যালুট এবং অ্যাবাউট টার্ন করে বের হয়ে গেল। ইন্টারকমে আর সিপাই দিয়ে, অধস্তন কাউকে ডাকার মধ্যে পার্থক্য আছে। তলবকারী ও তলবকৃতর উভয়েরই এটা জানা। আসলে কর্নেল নয়, পদবিতে লে. কর্নেল। কিন্তু ডাকা হয় এভাবেই। ৪২ নম্বর ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের অধিনায়ক কানোয়ার তাঁর অফিসে বসে ব্রিগেড মেজর আইয়ূবের সঙ্গে গল্প করছিল। আইয়ূব ওয়াজিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট থেকে বদলি হয়ে মাত্র দুই দিন আগে এখানে জয়েন করেছে। ও বলছিল,

— আইয়ুব, তোমার এই নামের মতলব কি?

—‘স্যার, আইয়ূব (আ.) নবীর নাম।

— আরে সে তো জানি তোমার নামটা কেন রাখা হলো?

— স্যার, ১৯৫১ সালের বেশ আগে থেকেই মানে রাওয়ালপিণ্ডি ষড়যন্ত্র মামলার আগে থেকেই ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খানের নাম মশহুর হয়ে যায়। তো বাবা সেই থেকেই আমার নাম রাখেন।

হুঁ, যেমন ৪৭ সালের পর থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নাম রাখার বাতিক ছড়িয়ে পরে তামাম পাকিস্তানে।

— স্যার ‘বাতিক’ বলছেন...।

কথাবার্তার ঠিক এই সময় নায়েক, বড় সাহেবের হুকুমের কথা জানায়। লে. কর্নেল পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে ব্রিগেড কমান্ডারের রুমে এসে ঢোকে।

— বাঠ যাও কর্নেল।

লে. কর্নেল শরীফ মোহাম্মদ কানোয়ার সামনের চেয়ারটাতে বসে পড়ে।

— স্যার।

— আশপাশের খবর কিছু রাখ?

— দ্বিতীয় বেঙ্গলের বিষয়টা?

— হু।

— স্যার, প্রেসিডেন্ট তো কাল ঢাকা আসছেন। বাঙালিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

— ঠিক হ্যায়, মাগার আউর কুছ? তোমাকে ক্রু দেই। এই যে ঢাকায় জেনারেল শের আলী বাজ বা জেনারেল মুহাম্মদ উমর এসেছেন। কি মনে হয় তোমার?

— স্যার গেজ করে কি বলব? যদি ভুল হয়ে...

— আমি তোমাকে হুকুম করছি, কর্নেল।

— আমার মনে হয় শক্তি প্রয়োগ করার ব্যাপার আছে।

— হু। সাব্বাস কানোয়ার। এই না হলে কি আর পি এম এ (পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি) লং কোর্স এ চান্স পেয়েছ?

— থ্যাংক ইউ স্যার।

— শোন। জিওসির ওখানে আমাকেও ডাকা হয়েছিল। উমর আর শেরআলী ভিয়েতনামের এক্সপার্টদের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদেরও তৈরি থাকতে বলেছেন। জিওসি তা অনুমোদন করে বললেন, আলোচনা যাই হোক আমাদের ফোর্স যেন সেভাবেই তৈরি থাকে।

— তার মানে তাহলে পাওয়ার ট্রান্সফার কোনোভাবেই...

— একটু আগে তুমি ব্রিলিয়ান্ট ছিলে, এখন আবার দুধ খাওয়া শিশুর মতো কথা বলছ। পুরো পাকিস্তান মিলিটারি এ ব্যাপারে একমত যে বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। সরকার যে বাজেটের ৬৬% আমাদের জন্য ব্যয় করে তা বাঙালিদের হাতে শাসিত হওয়ার জন্য নয়। যাহোক এগুলো উপরের স্তরের কথা। আমার-তোমার কাজ হবে গোলযোগ সৃষ্টিকারী বাঙালিদের শায়েস্তা করা। মিটিংয়ে সেই আলোচনাই হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আর মুজিবের আলোচনা হবে একটা বাহানামাত্র। তুমি এর আগে প্রশ্ন করেছিলে না যে আগে পূর্ব পাকিস্তানে কাজ করেছে এমন অফিসারদের কেন আবার বদলি করে আনা হচ্ছে? এবার বোঝ কেন?

— স্যার হাম সামাঝ লিয়া।

— তো শোন, তোমার দুটি ব্যাটালিয়নের একটি পিলখানায় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের হেড কোয়ার্টারে সব বাঙালিকে গ্রেপ্তার করবে। আরেকটা ব্যাটালিয়ন ফুলার রোডে হানা দেবে।

‘ফুলার রোড’ নামটা শুনেই কানোয়ারের স্মৃতিতে একটা বিষয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ব্রিগেডিয়ার আবার বলেন, জেনারেল বাজ এবং ভিয়েতনাম এক্সপার্টের মত হলো কোনো জাতিকে পঙ্গু করতে হলে তার ইনটেলেকচুয়াল হেডদের পঙ্গু করতে হবে। সো তৈয়ার হো যাও।

— জি স্যার।

 

আজ ২৫ শে মার্চ। চৈত্রের গরম আরো বেড়েছে। কানোয়ারকে ব্রিগেড কমান্ডার জানিয়েছেন আজ ডি ডে। জিরো আওয়ার ঠিক করা হয়েছিল রাত বারটা এক মিনিটে কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার প্লেন নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই পূর্ব পাকিস্তানের আকাশসীমা নিরাপদে পার হয়ে যাওয়াতে তা এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। বাঙালিদের শায়েস্তা করতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকে তারা পাকিস্তান ভাঙার চেষ্টা করছে। এটা বরদাশত করা যায় না। লম্বা দিনের শেষে সন্ধ্যা নেমেছে। তার পর পরই অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে কানোয়ারের ব্যাটালিয়ন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট পৌঁছেছিল। রাত এগারটা ত্রিশের মধ্যে কানোয়ার ওর কম্পানি নিয়ে হোটেল শাহবাগ আর রেডিও পাকিস্তানের মাঝ দিয়ে পার হয়ে শিখ গুরুদুয়ারার উল্টো দিকে ফুলার রোডে পৌঁছে গেল। জলপাই রঙের আমেরিকান উইলিজ জিপে কানোয়ার ড্রাইভারের পাশে বসে আছে। পুরো যুদ্ধসাজ তার পরনে। খাকি ইউনিফরম, মাথায় সবুজ হেলমেট। ডান হাতে ওয়্যারলেস, তাতে খসখস করে নানা মেসেজ আসছে ইপিআর হেডকোয়ার্টারের প্রায় সবাইকে নিরস্ত্র বা হত্যা করা হয়েছে। ভারী অস্ত্র দখলে নেওয়া হয়েছে। ইকবাল হল ক্লিয়ার। নীলক্ষেত শান্ত...ইত্যাদি। ডানদিকে তাকিয়ে কানোয়ারের মনে হয় শহরে যেন উৎসব লেগেছে, ট্রেসার বুলেটের নীল আলোকে মনে হচ্ছে ছোট ছেলে-মেয়েদের হাওয়াই আর আতশবাজির খেলা। সেই সঙ্গে লাইট মেশিনগান, সাব মেশিনগান আর রাইফেলের গোলাগুলিকে মনে হচ্ছে যেন শবেবরাতের রাতের বোমা ফোটানোর শব্দ। একটা মেসেজে ওকে আগেই জানানো হয়েছে টার্গেট এলাকা ঘেরাও করা হয়েছে। কানোয়ার একটা হলুদ বিল্ডিংয়ের সামনে নামল। এট ‘ডি’ ব্লক। অধ্যাপকদের ফ্যামিলি একোমোডেশন। বাইরে দরজার ওপর ওই কথাটা লেখা। বাঁ দিকের ফ্ল্যাটটার দরজা খোলা। কয়েকজন সেনা ও একজন অফিসার একজন ষাটোর্ধ্ব পুরুষ ব্যক্তিকে স্টেনগানের মুখে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। অফিসার কানোয়ারকে উর্দুতে বলল, ইনি দর্শনের অধ্যাপক, হিন্দু। অধ্যাপক শব্দটায় কানোয়ার একটু নড়ে উঠল। কিন্তু তারপর বলল, ইসেকা মার ডালো। অধ্যাপকের চোখে গ্লাস পাওয়ারের চশমার কাচ এত মোটা যে তিনি কোন দিকে তাকিয়ে আছেন বা উর্দু কথাটার কি অর্থ বুঝেছেন তা বোঝা গেল না। দুজন সেনার হাতের আগ্নেয়াস্ত্র গর্জে ওঠার আগেই অধ্যাপকের স্ত্রী অফিসারের পায়ের বুট জড়িয়ে ধরল। ‘দয়া করে মারবেন না, ও কিছু করেনি’ বলতে বলতে একঝাক গুলি অধ্যাপককে বিদ্ধ করল। তিনি উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন। উপরে, নিচে, ডানে, বাঁয়ে সব ফ্ল্যাটে একই দৃশ্যের রচনা করে কানোয়ার বের হয়ে এলো। না, জাতিকে কুমন্ত্রণা দেওয়া এবং তরুণদের পাকিস্তানের অখণ্ডতাবিরোধী উসকানিদাতাদের সমূলে বিনাশ করতে হবে।

লে. কর্নেল কানোয়ার এবার পশ্চিমে ব্রিটিশ কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে চলল। বাইরে বাগান। সেখানে ফুলগাছ ও কৃষ্ণচুড়ার গাছ ছাড়াও মুক্তচিন্তার ধারক বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ মনীষার আবক্ষ পাথরের মূর্তি নির্বাক, নিষ্পলক তাকিয়ে আছে। এখানে একটা ফ্ল্যাটের সামনে আসতেই কানোয়ারের মনটা খচ খচ করে উঠল। হ্যাঁ ওটা ঠিক তেমনি আছে। দুবছর আগের কথা। মেজর কানোয়ার ঢাকায় ১০ নম্বর বিশেষ সামরিক আদালতের প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাওয়ালপিণ্ডি থেকে বদলি হয়ে এসেছে। সপ্তাহ দুয়েক পার হতেই ও বোধ করেছিল বিচার করতে আরো ভালো ইংরেজি শেখা দরকার। ঢাকা সেনানিবাসে এডুকেশন কোরের কোনো স্কুল নেই। ওর কমান্ডিং অফিসার শুনে সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলেন, আরে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড তো এই শহরেই। ওখানে যাও। একেবারে পণ্ডিত ব্যক্তি তোমাকে ইংরেজি শিখিয়ে দেবে। পূর্ব পাকিস্তানের জোনাল মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খান তো ওখানের এক অধ্যাপকের কাছে বাংলা শিখছেন। কানোয়ার খোঁজ করতে করতে এই বাসাটায়ই এসেছিল এবং তারপর অনেক দিন। এক বছরের মাথায় কানোয়ার বদলি হয়ে মুলতান ফিরে গিয়েছিল।

চৈত্রের আগুনে পোড়া ঝরা পাতার ওপর বুটের মচমচ শব্দ তুলে কানোয়ার নিচতলার বাসাটার দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। দরজার ওপর নাম ও পদবিটা আগের মতোই আছে। তার ইংরেজি শিক্ষক বাসা আর বদলাননি। একই দৃশ্য এখানেও। সেনারা ড্রইংরুমে উদ্যত আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে, অধিনায়কের অপেক্ষায়। দীর্ঘদেহী, গৌরবর্ণ, চিন্তাশীল মানুষটি একটি সস্তা সোফায় বসে। পাশে তাঁর স্ত্রী। কানোয়ার তাঁকে প্রায় সালাম দিতে যাচ্ছিল। তা সে দিল না। ওর মনে পড়ল এই নিরাবরণ, নিরাভরণ পাশের শালকাঠের টেবিল-চেয়ারে বসেই ও এর কাছ থেকে ইংরেজি ভাষার চমৎকার সব বিষয়গুলো শিখত। এঁর স্ত্রী নিজ হাতে মাঝেমাঝে নাশতার ট্রে নিয়ে ঢুকতেন। কানোয়ার লক্ষ করল আজ তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর নেই। আর্যদের জাতিগত একটা সংস্কৃতি আছে। অনাড়ম্বর আটপৌরে জীবন যাপনের সব চিহ্ন ঠিক তেমনি আছে। কিন্তু সমুজ্জ্বল হয়ে আছে গৃহের একটি কোণ। তাহলো পেঙ্গুইন, লংম্যান ও নানা বিখ্যাত ব্রিটিশ প্রকাশকদের ছাপানো ঝকঝকে রাশি রাশি ইংরেজি সাহিত্য ও ভাষার নতুন পুরনো বইপত্র ভরা দুটি সেগুনকাঠের তৈরি শেলফ। ছাত্রকে শিক্ষক চিনতে পেরেছেন। ছাত্র শিক্ষককে সালাম বা সম্বোধন করেনি দেখেও তিনি অচঞ্চল কণ্ঠে বললেন, ‘আরে কানোয়ার তুমি যে আবার ঢাকায় বদলি হয়ে এসছো সে খবর আমি পেপারে পড়েছি।

কানোয়ার বলে, ‘জি’। ‘স্যার’ শব্দটিকে সাবধানে ও হত্যা করে। এখানকার সেনাদের দলপ্রধান ইংরেজি না বুঝলেও এটুকু বুঝেছে যে কানোয়ার এই অধ্যাপকের পরিচিত। সে কানোয়ারকে পাঞ্জাবিতে বলে, স্যার, এ লোক তালিকাভুক্ত হিন্দু এবং পাকিস্তানের শত্রু। ভারতে পালানোর সুযোগ পায়নি বলেই এখানে রয়ে গেছে। অধ্যাপকের স্ত্রী ঠিক বুঝতে পারেননি কানোয়ার এখানে কেন এসেছে। তিনি কল্পনা করার চেষ্টা করেন অন্তত কানোয়ারের কারণেই খারাপ কিছু ঘটবে না। কানোয়ার কিছু বলে না। দ্রুত চিন্তা চলছে ওর মনে। মাত্র কদিন আগে জয়দেবপুরে গুলি চালানোর হুকুম দিতে ওর মন একটুও কাঁপেনি। কিন্তু আজ...। ওপরঅলার হুকুম। ইউনিটের গোয়েন্দা কর্মকর্তা সি টা লক্ষ করছে। কানোয়ারকে বাদ দিয়ে যথাস্থানে রিপোর্ট করা ওর দায়িত্ব। এই চেয়ারটাতে বসেই ’৬৯ সালের শরৎকালে কানোয়ার যে এই পণ্ডিত মানুষটিকেই অনুরোধ করে বলেছিল, স্যার, নিয়মিত না হলেও আমি তো আপনার ছাত্র, আপনি গুরু, আমায় তুমি বলবেন। এই মুহূর্তে কানোয়ারের সে কথাটিও মনে পড়ল। কিন্তু কর্তব্য, রাষ্ট্র, পাকিস্তানের অখণ্ডতা...

লে. কর্নেল কানোয়ার ১৯৫৯ সালে লাহোরের সীতারাম ভাটিয়া কলেজ থেকে আই এ পাস। তা নাকি অন্য কিছু ওর মনে কৃতজ্ঞতারও একটা সীমা এঁকে দিয়েছে। ও ভাবল ‘আমি অধিনায়ক, কোনো কিছু বিবেচনা করার স্বাধীনতা আমার একটু হলেও আছে। ও ওর সেকেন্ড ইন কমান্ডকে বলল, গুলি মার দো। এর আগে আজ রাতে সর্বত্র ওর হুকুম ছিল—মার ডালো। এ দু গুচ্ছ শব্দপুঞ্জের মধ্যে অর্থের পার্থক্য আছে। তামিলকারীরা তা ঠিকমতো জানে। প্রথম আদেশটির অর্থ—মেরে ফেলো। দ্বিতীয়টির—গুলি করো। কানোয়ার অন্য দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনেও প্রার্থনা—খারাপ কিছু না হোক। অধ্যাপকের পায়ে মাত্র একটি গুলি বিদ্ধ হওয়ার শব্দ হলো। কানোয়ার ও তার বাহিনী অন্য শিকার ধরতে বের হয়ে গেল। স্ত্রীর অবিশ্বাস ভরা আর্তনাদের মধ্যে অধ্যাপক কেবল ‘উঁহ’ শব্দটি করলেন। প্রার্থনাকে অগ্রাহ্য করে বিজ্ঞান তার অমোঘ নিয়মে এগিয়ে চলল। পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার সৈনিক লে. কর্নেল কানোয়ার নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল, না, সম্পর্ক ও সম্বোধনহন্তা আমি নই। যারা এই রাষ্ট্রের কর্তা এই দায়িত্ব তাদের।

মন্তব্য