kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

গ ল্প

স্বপ্ন

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



স্বপ্ন

অঙ্কন মাহবুবুল হক

স্কুলে পড়ার সময় বাবা মারা গেলেন, আর আজাদ তার স্কুলের ব্যাগটা বাড়িতে রেখে স্কুলটাকে বিদায় জানিয়ে রাস্তায় নামল। নামল মানে নামতে হলো, মা আর ছোট তিন ভাই-বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে। বাবা রেলে চাকরি করতেন, ছুটিছাটায় বাড়ি আসতেন, কিন্তু তিনবেলা খাবার তো জুটত, অসুখ-বিসুখে ডাক্তার দেখানো আর ওষুধ তো কেনা যেত, ঈদ পার্বণে কাপড়চোপড় কেনাতেও তো খুব একটা সমস্যা হতো না। অনেক কষ্টে মা কিছু সোনাদানা জমিয়েছিলেন—কয়েক গাছা সোনার চুড়ি, গলার একটা হার, এক জোড়া কানের দুল। আপদ-বিপদ এলে যাতে সামাল দেওয়া যায়, সে জন্য কিছু নগদ টাকা। কিন্তু একটা শক্ত অসুখ বাঁধিয়ে দেড় মাস হাসপাতালে থেকে শেষ পর্যন্ত বাবা বিদায় নিলেন, কিন্তু মাকে তাঁর চিকিৎসার খরচ জোটাতে তাঁর প্রিয় নাকফুলটাও বিক্রি করতে হলো। আজাদের বয়স তখন বারো কি তেরো, কিন্তু সে দেখল এবং বুঝল মা কিভাবে চোখের সামনে নিঃস্ব হলেন, তাঁর জীবনটা কেমন এলোমেলো হয়ে গেল। আজাদের কাঁধে একটা হাত রেখে তিনি শুধু বললেন, ‘কিছু একটা করা তো লাগবে, বাজান।’

যা করতে হবে, আজাদকেই করতে হবে। মা থাকবেন বাড়িটাতে, মান্দারটিলার দুই কামরার টিনের বাড়িটাতে, যার একদিকে অল্পখানি জমি—যাতে ঝিঙা-করলা আর কুমড়া-লাউ ছাড়া আর কিছু সে কখনো জন্মাতে দেখেনি। আজাদের দুই বছরের ছোট ভাই আসাদও স্কুলে পড়ত, একটি বোন স্কুলের জন্য তৈরি ছিল। আপাতত আসাদেরও বইখাতা তুলে রাখতে হবে।

আজাদকে বলা হলো, সে কলেজ পাস হলে রেলে একটা চাকরি পেতে পারত। তার মনে পড়ল, হাসপাতালে ডাক্তার মাকে বলেছিলেন, চার লাখ টাকা থাকলে আজাদের বাবার অপারেশনটা হতে পারত, তিনি বেঁচে যেতেও পারতেন। মা কেঁদেছিলেন। মায়ের চোখের পানিতে সে তাদের জীবনের সব স্বপ্ন ভেসে যেতে দেখেছিল। স্বপ্নের পেছনে ছুটে লাভ নেই, সে ভাবল। এ জন্য বাবার বন্ধু আজমল সাহেব যখন তাকে বললেন, ‘ঢাকায় যা, ওইখানে একটা জায়গা আছে, বাইপাইল। ঠিক আছে? বাইপাইলে একটা গার্মেন্ট আছে, সেই গার্মেন্টের ম্যানেজার আমার ভায়রা ভাই। নাম মোহাম্মদ মনিরুদ্দিন। ঠিক আছে? তোমারে একটা চাকরি দিব। বেতন বেশি না, কিন্তু ঘরের মানুষগুলারে তো বাঁচাইতে পারবা, ঠিক আছে?

ঠিক না হয়ে তো উপায় নেই, আজাদ নিজেকে বলল এবং বাইপাইলের খোঁজে বাসে উঠল।

২.

মনিরুদ্দিন ভালো মানুষ, চাকরি একটা তাকে দিলেন, তবে পাশের একটা গার্মেন্টে, নাম আশালতা অ্যাপারেলস। নামটা আজাদকে কিছুটা হাসিয়েছিল—আশালতা! সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাস্তবটা যতই কঠিন হোক, সে এর সামনাসামনি হবে, কোনো আশাকে জাগিয়ে না রেখে, কোনো স্বপ্ন না দেখে। রেলের চাকরি, চার লাখ টাকা, এসব ছোট-বড় স্বপ্নকে সে কোনো দিন বিশ্বাস করবে না। অ্যাপারেলস কথাটা তার মনে ধরল, কথাটার মানে সে জানে না, একেবারে অচেনা, কিন্তু এত বড় ফ্যাক্টরির নামের অর্ধেকটা তো তা দখল করে নিয়েছে।

আজমল সাহেব খুশি হলেন। তিনি বললেন, ‘জীবনটা কঠিন, বাবা আজাদ, ঠিক আছে? কিন্তু কঠিন জীবন মাখনের মতো হয় যদি আয়-ইনকাম ঠিক থাকে, ধার-কর্জ করতে না হয়, মা-ভাই-বোনের মুখে হাসি থাকে। গাফলতির সুযোগ নাই, ঠিক আছে?’

৩.

বাইপাইলে কত বছর কাটল আজাদের? আদালত তাকে যখন চার বছরের জেল দিলেন, সে আঙুলে হিসাব গুনে দেখল ষোলো বছর। এই ষোলো বছরে আসাদ কলেজ পাস দিয়ে রেলের চাকরি পেয়েছে, মুন্নিকে বিয়ে দিয়েছে রেলের এক অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে। রুনি কলেজে পড়ছে। মা নিশ্চয় তাঁর সোনার চুড়িগুলো ফেরত না পেলেও তাঁর নাকফুলটা পেয়েছেন। আজমল সাহেব বেঁচে থাকলে নিশ্চয় এসব জেনে খুশি হতেন। কিন্তু আজাদের জীবনটা যে একটা গর্তে এসে পড়ে গেল, তা দেখে কী বলতেন? গর্তটা, সে জানে, অনেক দিন ধরেই তৈরি হয়েছে, যেহেতু আজাদ শুধু নিজের জন্য নয়, গার্মেন্টে যারা কাজ করে, শুধু বাইপাইল নয়, বাইপাইলের বাইরের দুনিয়ার লাখ লাখ সব মেহনতির জন্য মাখনের মতো একটা জীবন সে চেয়েছে। মাখনের মতো! কথাটা আজমল সাহেবের মুখে শুনে সে হেসেছিল, কিন্তু বুঝেছে, মানুষটা জীবনে মাখন কিনে খেতে পারেননি বলে ওই তুলনাটা তার কাছে সবচেয়ে বেশি দামি। কিন্তু এই মেহনতিদের যারা চাকরি দিয়েছে এবং চাকরি দিয়ে তাদের কিনে নিয়েছে বলে বিশ্বাস করে, তারা আজাদকে পছন্দ করেনি। গর্তে পড়ার প্রস্তুতিটা আশালতা থেকে শুরু হয়েছে আজাদের জন্য। ঈদের বোনাসের দাবিতে আশালতার মেহনতিরা রাস্তায় নেমেছিল। আজাদ তাদের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের দাবিগুলো আকাশকে আর বাতাসকে জানাচ্ছিল। আট বছর ধরে এই কাজটি সে করে আসছে। মেহনতিরা একসময় এক নামে আজাদকে চিনতে শুরু করল। টিভি ক্যামেরা নিয়ে আসা লোকজনও এবং সাদা রঙের বিদেশিরা। আশালতা থেকে সে গেল শেভেনিং গার্মেন্টে, তারপর আরো দু-তিন জায়গায়। তাকে শ্রমিক ইউনিয়নের ফরিদা আপা বলেছেন, ‘তোমার চাকরি যাবে না, আজাদ, কিন্তু তোমাকে চাপে রাখবে।’

আদালতে সে যখন তার চাকরির বয়সের হিসাব করছিল, উকিল তাকে বলছিলেন, তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন, রায়টা সেখানে টিকবে না। ভালো কথা, কিন্তু তার তো জানার কথা, আজাদকে যারা আদালতে তুলেছে, তারা যে উকিল-ব্যারিস্টারের দল রেখেছে, তাদের পেছনে দিনে তারা ঢালছে অন্তত চার লাখ, টাকার যে অঙ্কটি বাবাকে বাঁচাতে পারত বলে হাসপাতালে ডাক্তার বলেছিলেন মাকে। যে টাকাটা পেলে বাবা বাঁচতেন, সেই টাকা দিনে খরচ হচ্ছে আজাদকে মারতে!

এর চেয়ে ঘোর বাস্তব আর কী হতে পারে?

তার পরও আজাদ যে ভেঙে পড়ল না, তা শুধু ওই লাখ লাখ মেহনতি তার পেছনে এসে দাঁড়ানোর জন্য নয়, বা ফরিদা আপা যেমন বলেন, তোমার পক্ষে বায়াররা আছেন, ইইউ আছে, ইত্যাদি অনেকে আছে, সে কারণেও নয়, আজাদ ভেঙে পড়েনি কারণ সাফিয়া তাকে বলেছে, চার বছর, চল্লিশ বছর, যত বছরই তারা তোমাকে জেলে রাখে, আমি তোমার জন্য বসে থাকব, তোমার স্বপ্নে আমাকে পাব, সেই কারণে। সাফিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় শেভেনিংয়ে। এক আশ্চর্য মেয়ে সাফিয়া। একদিন আজাদকে বলেছে, ‘আমি ডেইলি দু-তিনটা স্বপ্ন দেখি। এই যেমন কাল স্বপ্নে দেখেছি, তুমি আর আমি ঢাকার বসুন্ধরা সিটির ফুড কোর্টে চপ খাচ্ছি।’

সাফিয়া টিভি দেখে, বলা যায় টিভির পোকা। বিয়ের পর প্রথম যে বড় খরচ আজাদকে করতে হয়েছে তা একটা সনি টিভি। রাতের খাওয়ার পর সে টিভির সামনে বসে। আর সারা রাত স্বপ্ন দেখে, যা আজাদকে আনন্দ দেয়, সাফিয়ার সব স্বপ্নে সে আছে অর্ধেক জায়গাজুড়ে, আশালতা অ্যাপারেলসের মতো।

৪.

জেলে গিয়ে আজাদ বুঝল, যারা তাকে আদালতে তুলেছে, কাশিমপুরে ঢুকিয়েছে, তারা তাকে ভাঙবে। ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে ভাঙবে, কিছু কয়েদিকে সে দেখল, তারা তার ওপর নজর রাখছে। জেলের কিছু লোকও তাকে চোখে চোখে রাখছে।

এক কয়েদি একদিন তাকে জানাল, আসাদের স্ত্রী, সাফিয়া খাতুন, যেখানে থাকতেন, তিন রাস্তার মোড় পেরিয়ে বাবু মিয়ার গলিতে, সেখানে বুলডোজার চলেছে। সব ঘর ভাঙা হয়েছে।

সাফিয়া তাকে মাসে দুবার দেখতে আসত। নিয়ম করে। পরের মাসে সাফিয়া এলো না। একদিন মোহাজের ভাই এলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, তিনি বললেন, সাফিয়াকে পাওয়া যাচ্ছে না।

কয়েকটা দিন আজাদের কাটল একটা দুঃস্বপ্নের ভেতরে। কিন্তু এক রাতে সে স্বপ্ন দেখল, সাফিয়া তাকে বলছে, বুলডোজার অনেক কিছু ভেঙে দিয়েছে, তার টিভিটাও, কিন্তু তার স্বপ্ন ভাঙতে পারেনি।

পরের দিন জেলের এক কর্তা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাকে খুশি মনে হয়, ব্যাপার কী আজাদ? খবর তো ভালো না।’

আজাদ প্রশ্ন চোখে তাকাল।

‘তোমাকে নরসিংদী পাঠানো হচ্ছে।’

আজাদ হাসল। বলল, ‘জেল তো সবখানেই জেল, স্যার—কাশিমপুর, নরসিংদী—কী তফাত? বাংলাদেশটাও তো একটা জেল, স্যার। সেইখানে আমার স্যাররা না বাচ্চাদের স্কুলের বেতন দেয় চার লাখ, এরোপ্লেনে বিদেশ যায় চার লাখে, চার দিনে চার লাখ টাকা দিয়া উকিল রাখে। আর আপনি মাসে বেতন পান আটত্রিশ হাজার টাকা। জেল না তো কী স্যার?’

‘তোমার মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে, আজাদ।’ কর্তা বললেন, ‘আরো তো সাড়ে তিন বছর, তবে তুমি বেরুতে পারবা সাত-আট মাস আগে।’

সাফিয়ার কোনো খবর নেই। এক কয়েদি দাঁত কেলিয়ে হেসে তাকে বলল, ‘আপনার ওয়াইফ সাফিয়া খাতুন আশালতার সুপারভাইজর নান্না মিয়ার সঙ্গে ভাইগ্যা গেছে।’

‘তা যাক, তাতে তোমার কী?’ আজাদ তাকে বলল। রাতে সাফিয়া তার স্বপ্নে এসে বলল, ‘মান্দারটিলায় তোমাদের বাড়িটা খুব আরামের। অনেক সবজি ফলাইতেছি। রান্নাটা আমিই করি।’

ছয় মাস ধরে প্রতিদিনই তাকে নানা গুজব শুনতে হলো। মোহাজের ভাই এক ভিজিটে এসে তাকে বললেন, ‘তোমারে ওরা ভাঙবে আজাদ। তোমারে ছাড়ব না। তুমি বাইপাইলে ওদের বিপদ।’

আজাদ চুপ করে রইলে মোহাজের বললেন, ‘মন খারাপ কইরো না। সাফিয়ার খোঁজ পাওয়া যাইতেছে না। মান্দারটিলায় সে নাই। কখনো যায়নি।’

‘তাহলে কোথায় গেছে?’

‘শুনছি নান্না মিয়ার হাত ধরে পালাইছে।’

‘ঠিক আছে,’ আসাদ বলল এবং চুপ করে বসে রইল।

রাতের স্বপ্নে সাফিয়া তাকে বলল, ‘তোমার হাত ছাড়া আমি কারো হাত ধরতে পারি, বলো?’

আরো ছয় মাস গেল আজাদের, দু-তিন কয়েদি থেকে শুনতে শুনতে যে সাফিয়াকে নান্না মিয়া মুম্বাইতে বিক্রি করে দিয়েছে, তাদের একটা বাচ্চা ছিল, সেটিকে রেখে দিয়ে, ইত্যাদি।

একদিন এক শ্রমিক নেত্রী, শেফালী আপা এসে বললেন, ‘তোমার কেসটা উচ্চ আদালতে উঠেছে। আশা করি কিছু একটা হবে।’

উচ্চ আদালতে কেসটা ঠিকই উঠল এবং আসাদকে ঢাকায় যেতে হলো। সে ভেবেছিল, জেলে চলে গেলে সে টিভি ক্যামেরা, বায়ার-ইইউ এবং সাদা রঙের মানুষদের চোখের আড়ালে চলে যাবে। কিন্তু সে দেখল, অন্তত টিভি ক্যামেরা তাকে ভুলে যায়নি। সে যত দিন আদালতে গেল, টিভি ক্যামেরার ভিড় জমে গেল। সে বুঝল, এটি সম্ভব হয়েছে লাখ লাখ মেহনতি তার সঙ্গে থাকার জন্য।

সে কাগজে দেখল, তারা তার বিরুদ্ধে করা মামলাটাকে বলছে মিথ্যা এবং সেটি তুলে নেওয়ার জন্য রাস্তায় নেমেছে।

একদিন এক কয়েদি তাকে জানাল, সাফিয়া খাতুন যে তাকে ছেড়ে চলে গেল, তার কারণ কি এই যে সে নিজেই একজন প্রতারক? ‘প্রতারক’ কথাটার মানে আজাদ জানে না, কয়েদি তা ব্যাখ্যা করলে সে হাসল। বলল, ‘ওরা তোমারে কত টাকা দিয়েছে, এসব মিথ্যা ছড়াবার জন্য? চার লাখ?’

কাগজে ‘মিথ্যা’ কথাটা পড়ে সে আমোদ পেয়েছে। জেলে থেকে সে বুঝতে পেরেছে, মিথ্যাটাই এখন সত্য। সে একটা সত্য নিয়ে আন্দোলন করছিল। সেটি যে সত্য নয়, মিথ্যা, তা প্রমাণ হলো আদালত তাকে চার বছরের জেল দিলে, যেহেতু দিনে চার লাখ টাকা পাওয়া উকিল-ব্যারিস্টাররা আদালতে তা প্রমাণ করলেন। তাকে জেলে পাঠিয়ে তাকে ভাঙার কাজটি শুরু হলো। মিথ্যা দিয়ে, মিথ্যাটাকে প্রতিদিন বলতে বলতে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। একটি মিথ্যা নয়, অনেক মিথ্যা।

ভাগ্য, তার সঙ্গে সাফিয়া ছিল। সাফিয়ার স্বপ্নটা ছিল। এই স্বপ্নটা মিথ্যা হয়নি, যেহেতু সাফিয়া নিজেই জানে না সেটি কী। কোথা থেকে তা উঠে আসে। মনজুড়ে বিছিয়ে থাকে এবং সেই স্বপ্নে সে আজাদকে জড়িয়ে নেয়।

কয়েদিটা রেগে গিয়ে তাকে বলল, ‘টাকা দিয়া আমারে কেনা যায় না, আপনাদের নেতা মোহাজেরকে কেনা গেলেও।’

আজাদ হাসল। বলল, ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।’

রাতে তার স্বপ্নে এসে সাফিয়া বলল, ‘সত্য-মিথ্যা নিয়ে ভাবলে স্বপ্ন ধরা দেয় না। স্বপ্ন কখনো মিথ্যা হয় না।’

আজাদের মনে হলো, যেখানেই সাফিয়া থাকুক—এবং সে বুঝতে পারল কোথায় সে আছে—সাফিয়া হয়তো একটা টিভি জোগাড় করে ফেলেছে। কথাগুলো তার হলেও টিভি তাকে এত সুন্দর করে এসব বলতে শিখিয়েছে।

৫.

আজাদ ছাড়া পেল। সে যে ভাঙেনি, মচকায়ওনি, তাতে লাখ লাখ মেহনতি নতুন আশা পেল। টিভি ক্যামেরাও বিষয়টাতে অবাক হলো। তাকে অনেক কথার পর জিজ্ঞেস করা হলো, তার স্ত্রী সাফিয়াকে নিয়ে কিছু কথা শোনা গেছে। তাকে কি গুম করা হয়েছে?

আজাদ হাসল। ‘সাফিয়া ঠিকই আছে। সে টিভি দেখছে।’

টিভি ক্যামেরা খুশি হলো। ‘আপনি কী করে জানেন, উনি ঠিক আছেন? কোথায় আছেন?’

‘সাফিয়া আছে।’ আজাদ মনে মনে বলল, তার স্বপ্নে আছে। এখন তাকে খুঁজে নেওয়াটা খুবই সহজ।

মন্তব্য