kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

বই আলোচনা

সাইফুল আলম পথ হারাতে প্রস্তুত নন

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী   

৬ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাইফুল আলম পথ হারাতে প্রস্তুত নন

মাইনাস নয়, প্লাসের প্রজ্ঞাই গণতন্ত্র- সাইফুল আলম। প্রকাশক : দেশ পাবলিকেশনস। প্রচ্ছদ : রাজিব রায়। মূল্য : ১৫০ টাকা।

সাইফুল আলম সংবাদপত্রের লোক, সাংবাদিকতা তাঁর পেশা এবং সংবাদপত্র জগতেই তাঁর স্বচ্ছন্দ ও স্বাভাবিক বিচরণ। তাঁর এ বইটিতে ওই জগতের কথা বিভিন্নভাবে আছে। চারজন সাংবাদিক সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, তাঁরা তাঁর ঘনিষ্ঠজন, তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রয়াত। প্রয়াতরা হলেন- এবিএম মূসা, জগ্‌লুল আহ্‌মেদ চৌধুরী ও আহমদ ফারুক হাসান। তাঁদের প্রয়াণে সংবাদপত্র জগতের ক্ষতি হয়েছে, সাইফুল আলম অত্যন্ত আপনজনদের হারিয়েছেন। জগ্‌লুল আহ্‌মেদ চৌধুরী চলে গেলেন সড়ক দুর্ঘটনায়। মৃত্যুর ভেতর দিয়ে তিনি এ খবরটি জানিয়ে গেলেন যে দেশের মানুষ নিরাপদে নেই। নিরাপত্তাহীনতার খবরটা এ বইয়ের সবটাজুড়েই রয়েছে। আমরা ভালো নেই, আমরা সংকটের ভেতর আছি- এ সংবাদ সাইফুল আলম উদ্বেগ ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে জানাচ্ছেন। খবরটি আমাদের অজানা নয়, নতুনভাবে বিভিন্ন প্রসঙ্গের ভেতর দিয়ে সেটা এ বইতে উঠে এসেছে। আহমদ ফারুক হাসান চলে গেছেন কর্মরত অবস্থায়। খুব বেশি কাজ করতেন, দায়িত্ববোধ ছিল খবুই প্রখর, সময় পাননি নিজের দিকে তাকানোর। এ আরেক বিপদ। যাঁরা কাজ করেন না, তাঁরা দেখা যায় দিব্যি আছেন; যাঁরা কাজ করেন তাঁরা নানা রকমের ঝুঁকিতে থাকেন, বিপদে পড়েন। অপর সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার কিন্তু কাজ করেন, সব সময় কাজের ভেতর থাকেন। একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, সে খবর আমরা শুনেছি; কিন্তু তাঁর কাজের ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কখনো বিরাম ঘটেনি। সাইফুল আলম তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন, যেমন শিখেছেন আরো অনেকে। শেখার ব্যাপারটিকে সাইফুল আলম বিশেষ গুরুত্ব দেন। সংবাদপত্র সমসাময়িক সমাজের দর্পণ, সাংবাদিকরা শিক্ষকের কাজ করেন। আবার তাঁরা শেখেনও।

প্রয়াত এবিএম মূসাকে সাইফুল আলম কাছ থেকে জেনেছেন এবং বুঝেছেন। তাঁর প্রয়াণে তিনি শোকগ্রস্ত। একটা কথা এবিএম মূসা সম্পর্কে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন, সেটা হলো- জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সাংবাদিক জগতের এ অগ্রপথিক কি পথ হারিয়েছিলেন? বিষয়টি বিচার সাপেক্ষ। কিন্তু সাইফুলের নিজের জন্য যেটা সত্য তা হলো- তিনি পথ হারাতে প্রস্তুত নন। বাংলাদেশ আজ কোন পথে চলেছে, কোথায় যাবে মানুষ, এ প্রশ্ন এখন সব মহলের। সাইফুলের লেখাতেও তা আছে, খুব ভালোভাবেই রয়েছে। কিন্তু সাইফুল জানেন আমাদের যেতে হবে গণতন্ত্রের অভিমুখে এবং গণতন্ত্রের কাউকে মাইনাস করার সুযোগ নেই, সবাইকে প্লাস করতে হয়। গণতন্ত্র সবাইকে নিয়েই, কাউকে বাদ দিয়ে নয়। আদুরীর খবর আমরা পড়েছি, তাকে নিয়ে গভীর সহানুভূতির সঙ্গে লেখা একটি প্রবন্ধ এ বইতে আছে। শিশু আদুরী কাজ করত রাজধানীর এক গৃহে। গৃহকর্ত্রী তাকে নির্যাতন করেছে এবং নির্যাতন শেষে মৃত ভেবে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। নির্যাতন যে করেছে শিশু আদুরীর মতো সে নিজেও একজন নারী, নারী নির্যাতনের সামাজিক বাস্তবতার বাইরে সে নয়। তাহলে সে কেন এমন আচরণ করে? আদুরীকে নিয়ে লেখাটির নাম 'আদুরীর পাশে দাঁড়াবার ডাক দিয়ে যাই'। সাইফুল ডাক দিচ্ছেন। কিন্তু কজন আদুরীর পাশে দাঁড়াব আমরা? আদুরীদের সংখ্যা তো লাখ লাখ। আর আদুরী কেন আদুরী হবে, সে কেন মা-বাবার আদর ছেড়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার জন্য বৈরী গৃহে চলে আসবে? নদীই বা কেন তাকে অমনভাবে মারবে? মারার সুযোগ ও অধিকার পাবে? সাইফুল লিখেছেন, আমরা চিন্তার স্বাধীনতা চাই, স্বাধীনভাবে চিন্তা করি না। এটা খুবই সত্য কথা। স্বাধীনভাবে চিন্তা করা চিন্তার স্বাধীনতার জন্য অপরিহার্য।

সাইফুল আলমের একটি বিশেষ বক্তব্য হচ্ছে, আমরা ভালোবাসি না বলে বুঝি না। এটি খুবই জরুরি বিষয়। ভালোবাসা চাই, ভালোবাসি না বলেই বুঝি না। বিশ্বে এখন ভালোবাসার খুবই অভাব। সে জন্যই বোধ করি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। ওটি কিন্তু খাঁটি জিনিস নয়, বাণিজ্যিক বটে।

সাইফুল আলমের লেখাগুলো পড়তে খুব ভালো লাগল। পাঠকদেরও লাগবে। তাকে অভিনন্দন।

 

 

মন্তব্য