kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

সময় যেন থমকে গেছে

করোনায় নিজেকে এবং অন্যদের সুস্থ রাখতে ঘরে অবস্থান করছে সবাই। আমাদের টিন তারকারা অবসরে কী করছে ফোনেই খোঁজখবর নিয়েছেন জুবায়ের আহম্মেদ এবং গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



সবার সঙ্গে সময়গুলো উপভোগ করছি

নাইমুল ইসলাম রাতুল

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়ক-২০১৮

রাতুল আছে খুলনায় নিজের বাসায়ই। সবার মতো বন্দি হয়ে থাকলেও সময়টাকে কাজে লাগাতে ভুল করেনি খুদে গায়ক। আগে গানের রেওয়াজ করত ওস্তাদিজর বাসায় গিয়ে, এখন দিনে দুবেলা নিজের বাসায় রেওয়াজ করছে। পাশাপাশি পছন্দের কিছু গান কভার করছে রাতুল, গানগুলো পরবর্তী সময়ে ইউটিউব তার নিজ চ্যানেলে আপলোড করবে। রাতুল বলল, ‘অন্যান্য সময় স্কুল, কোচিং, গানের রেওয়াজ—এসবের জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো হয় কম। এখন সবার সঙ্গে সময়গুলো উপভোগ করছি। পছন্দের শিল্পীদের গানগুলো শুনছি বারবার।’ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় পর পর হাত পরিষ্কার করছে, প্রচুর পরিমাণে পানি খাচ্ছে। রাতুল বলল, সবার উচিত আতঙ্কিত না হয়ে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করে দেশকে নিরাপদ রাখা।

 

সময় কাটাচ্ছে দুষ্টামি করে

মোহনা মাহজাবীন

শিশুশিল্পী

মোহনার বাসা আজিমপুরে। পুরো এলাকা বলা চলে লকডাউন। কিছুটা আতঙ্কিত বলা যায় মোহনাকে। ধর্মীয় আচারগুলো পালন করার চেষ্টা করছে। মাঝেমধ্যে পাঠ্য বইয়ে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে। ছোট বোন নুজহাতের সঙ্গেও সময় কাটাচ্ছে দুষ্টামি করে। এ ছাড়া গল্পের বই পড়ে সময় পার করছে। নেটফ্লিক্সে মুভি দেখছে পরিবারের সঙ্গে বসে। মোহনা নাচ শিখছে অনেক বছর ধরে, তাই ইউটিউবে নাচের কলাকৌশলগুলো দেখে নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছে এই সুযোগে। আঁকাআঁকিতেও হাত পাকা বলা যায়, তাই ছবিও আঁকছে। যেহেতু এলাকা লকডাউন সেহেতু বাসায় কেউ আসছে না, বাইরেও যেতে পারছে না। মোহনার আম্মু ঘর পরিষ্কার করার দিকে কঠিন নজর দিয়েছেন। মোহনা বলল, ‘করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা ঠিকমতো পালন করা উচিত আমাদের। ইনশাআল্লাহ তবেই আমরা করোনাভাইরাসকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করতে পারব।’

 

বাকি থাকা পড়াগুলো শেষ করছি

হুমায়রা আক্তার অন্তরা

এসএ গেমস ২০১৯-এ কারাতে স্বর্ণপদক জয়ী

হুমায়রা এখন আছে কাকরাইলে নিজ বাসায়। পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ায় সব সময় ফিটনেসের দিকে নজর রাখতে হয়। তাই ঘরে বসেই সারছে শরীরচর্চার কঠিন কাজটা। সকালে ইয়োগা, ফ্রি-হ্যান্ড কিছু ব্যায়াম করছে প্রতিদিন। খেলার জন্য পড়াশোনায় কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিল, তাই এই বন্ধের মধ্যে শেষ করে ফেলছে বাকি থাকা পড়াগুলো। অবসর সময়ে ইউটিউবে কারাতে খেলা দেখে বোঝার চেষ্টা করছে সেরা খেলোয়াড়দের কিছু টেকনিক। একাডেমি থেকে কিছু নিয়ম দিয়ে দিয়েছে, সেগুলো পালন করছে অক্ষরে অক্ষরে। হুমায়রার ছোট বোনও একজন পেশাদার খেলোয়াড়, তাই দুই বোন মিলে চেষ্টা করছে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার। বাসা থেকে একদমই বের হচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ঘরে না থাকার ফলে কী ক্ষতি হতে পারে তা বোঝানোর চেষ্টা করছে। এ ছাড়া পরিবারের জন্য নানা ধরনের খাবার রান্না করার চেষ্টা করছে হুমায়রা।

 

বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে গেমস খেলছি

মাহমুদুর অনিন্দ্য

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুশিল্পী

অনিন্দ্য আছে মিরপুরে। মিরপুরের কিছু এলাকা সম্পূর্ণ লকডাউন হওয়ায় চিন্তায় আছে। মায়ের সঙ্গে সময় কাটছে এই খুদে অভিনেতার। নানা দুঃখের মাঝে আরেকটা হতাশার ঘটনা ঘটেছে অনিন্দ্যর জীবনে, ৬ মার্চ তার প্রিয় খালা তাদের ছেড়ে চলে গেছেন চিরতরে। গৃহবন্দি জীবনটা খুবই কষ্টে কাটছে তার। ফেসবুকে ঢুকলে কষ্টটা বেড়ে যায়। কেননা প্রতিনিয়ত দুঃখের সংবাদগুলো ভেসে আসছে নিউজফিডে। অনিন্দ্য বলল, ‘অবসর সময়ে বুন্ধদের সঙ্গে অনলাইনে নানা গেমস খেলছি। এ ছাড়া মায়ের কাছে ছোটবেলার গল্প শুনতে চাইছি, যেহেতু মা-ও কিছুটা হতাশ খালামণিকে হারিয়ে। প্রতিদিন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইছি। পড়ালেখার আর অভিনয়ের কারণে নিজের করা সব কাজ দেখা হয়নি, তাই এখন ঘরে বসে বসে নিজের করা কাজগুলো সব দেখছি। নিজের ভুলগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি, যাতে সামনে ওই ভুলগুলো না হয়। এ ছাড়া আমার পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সিনেমাগুলো ইউটিউবে দেখছি। বিকেলে মাকে নিয়ে বাসার ছাদে উঠছি।’

 

বাসায় থেকে নিজের ভালো লাগার কাজটি করি

কনক কর্মকার

১০ বার গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী

কনক পড়াশোনা করছে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। এরই মধ্যে তার ১০টি রেকর্ড গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছে। আরো রেকর্ড নিয়ে পরিকল্পনা করছে ও। অন্যদিকে যেহেতু বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, সেহেতু ঘরে বসেই কিভাবে রেকর্ড করা যায় সেই চিন্তাভাবনাও চলছে। আরো নতুন নতুন কৌশল শিখতে চাচ্ছে, যাতে করে পরবর্তী সময়ে রেকর্ডে রূপান্তর করতে পারে। তা ছাড়া প্রতিদিন ব্যায়াম করে, ফুটবলের বিভিন্ন কসরত শেখে। এতে করে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকছে। তার কোনো বাধাধরা রুটিন নেই। যখন যা ইচ্ছা তা-ই করে। তবে নতুন রেকর্ড করার নেশাটা মাথায় সব সময়ই ঘুরঘুর করে। তবে কনক মনে করে রেকর্ডের চেয়ে একজন মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই ব্যক্তি, সমাজ সর্বোপরি দেশকে নিরাপদ রাখতে বাসায় অবস্থান করছে সে। সময় কাটে কিভাবে? প্রশ্ন ছুড়তেই কনক বলল, ‘ফুটবল ফ্রিস্টাইলের ওপর আরেকটি রেকর্ড করতে চাই। তাই বাসায় বসে অনুশীলন করছি। তা ছাড়া বাসায় বসে নতুন নতুন রেকর্ড অনুসন্ধান করছি। এর ফাঁকে ইউটিউবে ভিডিও দেখি, দেশের পরিস্থিতি জানতে টিভি দেখি। এভাবেই সময় কেটে যায়। দলছুট পাঠকদের বলব, তোমরাও বাসায় থেকে নিজের ভালো লাগার কাজটি করো।’

 

 

সচেতনতামূলক গান ইউটিউবে আপলোড দেব

নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা

কণ্ঠশিল্পী ও ক্ষুদে গানরাজ চ্যাম্পিয়ন

পুষ্পিতা পড়ছে ঢাকা সিটি কলেজে। এখন যেহেতু কলেজ কিংবা গানের ক্লাস কোনোটাই নেই, এদিকে স্টেজ শোও বন্ধ, তাই নতুন গানের কাজও আপাতত বন্ধ রেখেছে ও। কথায় কথায় আরো বলল, ‘বাসায় থেকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করছি।  প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে নিই। সময় পেলে কোরআন শরিফও পড়ার চেষ্টা করি। এরপর গানের রেওয়াজ করি। তবে বন্ধের এই দিনগুলো রেওয়াজে একটু বেশিই সময় দিচ্ছি। হাতে যেহেতু সময় পাচ্ছি বেশি, তাই নতুন নতুন গান তোলার চেষ্টা করছি।’ পুষ্পিতা পড়াশোনা করে নিয়মিত। মাঝেমধ্যে ছবিও আঁকে। গল্পের বই পড়ে, মুভিও দেখে। এভাবেই সময় কেটে যাচ্ছে। তার বাবা সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সতর্কীকরণ নিয়ে একটি কবিতা লিখেছেন। সেই কবিতাটি একটু-আধটু সুর করে গিটারে তুলে ফেলেছে সে। যদিও গিটারে তার হাতেখড়ি সবেমাত্র। শিগগিরই তার ইউটিউব চ্যানেলে গানটি আপলোড দেবে। সে আজ পর্যন্ত কোনো গান সুর করেনি। কিন্তু বাবার লেখা সেই সতর্কীকরণ কবিতাটি দেখে মনে হলো, সেটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া দরকার। এতে হয়তো কারো না কারো একটু হলেও সাহায্য হবে। পুষ্পিতা বলল, ‘বৈশ্বিক এই মহামারি মোকাবেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত। দরিদ্র, অসহায় ও গরিব মানুষের জন্য আমাদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা উচিত। ’

 

সময় কাটানোর জন্য বেশি করে চা খাচ্ছি

সৌম্য জ্যোতি ও দিব্য জ্যোতি

অভিনয়শিল্পী

সৌম্য ও দিব্য যমজ দুই ভাই। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরু করেছেন। করোনাভাইরাসের কারণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই ঘুম থেকে দেরি করেই ওঠা হয় তাঁদের। তবে ক্লাসগুলো অনলাইনে হচ্ছে। সেগুলো করছেন নিয়মিত। বাসার কাজে মাকে সাহায্য করছেন তাঁরা। সেখানেও দিনের অনেকটা সময় কেটে যায়। ‘আগে দেখা যেত দিনে দুবার সবাই চা খেতাম। কিন্তু এখন বেশি করে চা খাচ্ছি। চায়ের কাপে আমাদের আড্ডাটা জমে উঠছে। ফলে সময়ও চলে যাচ্ছে। তবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতায় আমরা সচেতন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাগুলো মেনে চলছি’, বলল সৌম্য। রাতে বিভিন্ন দেশের মুভি একটা একটা করে দেখেন, যাতে করোনার খবর না দেখতে হয়। প্রতিদিন রাতে এভাবেই মুভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন। সৌম্য আরো বলেন, ‘আমরা ঈদের সময়টাতে শুটিং করতাম। কিন্তু এখন তো ঈদের কাজ সব বন্ধ। শুটিং করা মিস করছি। আর অভিনয় সম্পর্কে বিভিন্ন বই পড়ছি। দিব্য গিটার বাজাচ্ছে। আমি কবিতা লিখছি। এখন যে রকম বন্দিজীবন কাটাচ্ছি, সেটা তো অন্য সময়ের সঙ্গে মিলবে না। এখন মনের অবস্থাটা লিখে রাখি, যাতে পরে আমাদের মন খারাপ হলে এখান থেকে পড়া যায়।’

মন্তব্য