kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

হরর ক্লাব

সাঁকোতে অদৃশ্য কেউ

বছর কয়েক আগে জায়গাটা কিছুটা নির্জন ছিল। রয়েছে ছোট্ট একটি খাল। খালের ওপর বাঁশের সাঁকো। চাঁদপুরের দীঘলদি এলাকার এই বাঁশের সাঁকোকে ঘিরে আছে কিছু ভূতুড়ে ঘটনা। শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাঁকোতে অদৃশ্য কেউ

আগে ছিল বাঁশের সাঁকো। আশপাশে অন্ধকার। লোকজনের যাতায়াতও তেমন ছিল না। কয়েক বছর আগে সাঁকোটি বড় করা হয়। মানুষজনের যাতায়াতও বাড়ে। পাশে আছে কয়েকটি বাঁশঝাড়। সাঁকোর গাঁ ঘেঁষেই আছে কবরস্থান।

একদিন ভোরে গাজীবাড়ির ফারজানা ও তার ভাই সুজন মক্তবে যাচ্ছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সাঁকোর কাছে আসতে কে যেন তার মাথাটাকে গাছের সঙ্গে ধাক্কা দিয়েছে। অথচ আশপাশে কেউ নেই।

ফারজানা জোরে চিত্কার দেয়। পাশের বাড়ির লোকজন চলে আসে। সুজন বলে, ‘আমি দেখলাম হঠাত্ আপু তাড়াতাড়ি হেঁটে গাছের সঙ্গে কপাল ধাক্কা দিল। মনে হলো, অদৃশ্য কেউ ধাক্কা দিয়েছে। তা না হলে এত জোরে হাঁটত না। আমিও একদিন সকালে মক্তবে যাওয়ার সময় পা পিছলে পড়ে যাই। অথচ তখন বৃষ্টি হয়নি আর সাঁকোর বাঁশও ভেজা ছিল না।’

একদিন ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আজিজ পাটওয়ারী। রাত তখন ৩টা। হাতে অনেক ব্যাগ। ভাবলেন, কিভাবে সাঁকো পার হবেন। সাঁকোর কাছে আসতেই পেছন থেকে একটা লোক দেখতে পেলেন। সে-ও সাঁকো পার হচ্ছে। আজিজ ভাবলেন, লোকটি এলাকারই কেউ। তাই তাকে বললেন, ‘ভাই, আমার সঙ্গে ব্যাগটা একটু ধরবে? একা পারছি না।’ লোকটি বলল, ‘আমাকে দিন, পার করে দিচ্ছি।’

আজিজ লোকটির মুখ দেখতে পাননি। দেখলেন, লোকটি তাঁর ব্যাগ নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছে। আজিজও পেছনে পেছনে। হঠাত্ পানিতে ব্যাগ পড়ার শব্দ। আজিজ তাকিয়ে দেখলেন, তাঁর ব্যাগ পানিতে পড়ে গেছে। লোকটিও গায়েব। আজিজ ভয় পেয়ে যান। পাশের বাড়ির সাগরকে ডেকে আনেন। দুজন মিলে পানি থেকে ব্যাগ তোলেন। আজিজ জানালেন, ‘ওই দিনের পর আমি আর রাতে একা একা ওই পথ দিয়ে আসিনি। এখন অবশ্য ঢাকা থেকে রাত করে গেলেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে না।’

এলাকার রানা প্রধান শোনালেন আরেক ঘটনা, ‘বছর পাঁচেক আগের কথা। একদিন বাজার থেকে ফিরছিলাম। রাত ১০টা। সাঁকোর বাঁশঝাড়ের কাছে আসতেই হঠাত্ আমার শরীরে কেমন অস্বস্তিকর অনুভূতি টের পেলাম। দেখতে পেলাম, বাঁশঝাড় থেকে বাঁশগুলো কাত হয়ে পড়ে যাচ্ছে। এরপর হুট করে জ্ঞান হারাই। কিছু মনে নেই। পরে আমাকে হুজুরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। জানতে পারলাম, আমার ওপর নাকি জিন ভর করেছিল। এরপর কয়েক দিন খালের ওখানে মাছ ধরেছি। তবে এমন পরিস্থিতির মুখে আর পড়িনি।’

স্থানীয় রফিকুলও দেখেছিলেন এমন এক ঘটনা। ‘২০১২ সালের কথা। রাতে মাছ শিকারে বের হলাম। তখন খাল দিয়ে পানি নেমে যাচ্ছিল। ওখানে মাছ দেখা যেত। বর্শা হাতে সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে আছি। পাশে একটি গাবগাছ। দেখলাম, হঠাত্ সাদা কাপড়ের একটা ছায়ার মতো বস্তু সাঁকোর দিকে আসছে। টর্চলাইট তাক করতেই ওটা গাবগাছের দিকে চলে গেল। সেদিন অনেক ভয় পেয়েছিলাম। এখন আশপাশ বেশ পরিষ্কার।’

            ছবি : সজিব

মন্তব্য