kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

রহস্যজট

হাজার টাকার তোড়া

হেলাল নিরব

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গত রহস্যজটের উত্তর

দোকানদার মিঠুই কিডন্যাপার, কারণ তার জানার কথা নয় যে দপ্তরি মিরনের ছেলে অসুস্থ।

 

‘এটা একেবারেই অসম্ভব।’

পুরনো ফাইলটা নামিয়ে বলল ববি। তার দিকে তির্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইন্সপেক্টর রফিক।

‘২০০৬ সালে শফিক সাহেবের ঘরের গোপন ভল্ট থেকে হাজার টাকা নোটের কোটি টাকা, আবার ২০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি! এটা শফিক সাহেব তাঁর দেহরক্ষীকে ফাঁসানোর জন্য করেছেন। কিছুই ঘটেনি। বেচারা আনিসুর বিনা অপরাধে জেল খাটছে। এটা অন্যায়!’ একনাগাড়ে কথাগুলো বলে আবার ফাইলটা নেড়েচেড়ে দেখতে লাগল নাবিন ববি।

‘তো তুমি বলছ, সে সময়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিক সাহেবের দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বানিয়ে অভিযোগ লিখেছে?’ প্রশ্ন ছুড়ল ইন্সপেক্টর রফিক।

হাসল ববি। ফাইলটা ঠেলে দিয়ে বলল, ‘সহজ একটা সূত্রের মাধ্যমে এটা প্রমাণ করা সম্ভব। ফাইলে যা লেখা আছে তা চুরি হয়নি। সবটাই ভুয়া তথ্য!’

চেয়ার টেনে ববির মুখোমুখি ইন্সপেক্টর রফিক। ফাইলটার দিকে তাকিয়ে হাসছে ববি। বেশ কিছু সময়ের নীরবতা ভেঙে চাপাস্বরে রফিক বললেন, তাহলে আমাকে সূত্রটা বলো। আনিসুরকে বের করে আনতে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব আমি নিজে।

‘দেখো, ঘটনাটা ২০০৬ সালের। ১৩ বছর আগের। তখন শফিক সাহেবের গোপন ভল্টে জিনিসগুলো থাকা অসম্ভব!’

ধুপ করে টেবিলে থাবা মারলেন ইন্সপেক্টর রফিক। বিরক্তি নিয়ে বললেন, ‘খোলাসা করলেই পারো! নাকি আবার তান্দুরি-চিকেন খাওয়াতে হবে এর জন্য!’

খাবারের কথা শুনে নমনীয় হলো ববি। তারপর ফাইলটার লেখাটা পড়তে লাগল, ‘১৯-০৩-২০০৬ ইং; স্বনামধন্য ব্যবসায়ী শফিক আহমেদের দেহরক্ষী-কাম-ড্রাইভার আনিসুর রহমান তাঁর মালিক শফিক আহমেদের গোপন ভল্ট থেকে হাজার টাকা নোটের ১০০টি বান্ডিলসহ (মোট এক কোটি টাকা) ২০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করেছেন। এরপর তিনি সেই চুরির জিনিসপত্র দুটি ব্যাগে ভরে গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখেছেন।’

এবার তুমি বলো, ফাইলে ভুলটার জন্য ঘটনাটাকে অসম্ভব বলেছিল?

মন্তব্য